নলতায় অগ্নিদগ্ধ শিশু নাজমুলের মৃত্যু, আসামীর ফাঁসির দাবী


718 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নলতায় অগ্নিদগ্ধ শিশু নাজমুলের মৃত্যু, আসামীর ফাঁসির দাবী
অক্টোবর ৭, ২০২১ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ ::

কালিগঞ্জের নলতায় রাতের আধারে ঘরে পেট্রোল ছুড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুরো ঘর। তাতেই অগ্নিদগ্ধ হয় নাজমুল নামের এক শিশু ও তার নানী। দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার ৫দিন পর শিশুটি মারা যায়। পোষ্ট মর্ডেম শেষে বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটির লাশ নলতার কাজলায় তার নানার বাড়ীতে পৌছালে বাদ জোহর তাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, ডিভোর্সী স্ত্রীর উপর আক্রোসের জেরে মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসী স্বামী সবুজ গাতিদারের হাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেল শিশু নাজমুল (৮)। একইসাথে শিশু নাজমুলের নানীও অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বুধবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ শিশুটির মৃত্যু হয়।
কালিগঞ্জের নলতার কাজলা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কাজলা গ্রামের আব্দুস ছাত্তার সরদারের মেয়ে নাজমা (২৬) এর সাথে বছর দশেক পূর্ব আলামিনের সাথে বিয়ে হয়। সে সংসারে জন্ম হয় শিশু নাজমুলের। বিগত তিন বছর পূর্বে আলামিনের সাথে নাজমার সংসার জীবন বিভক্ত হয়। এরপর বছর খানেক পূর্বে নাজমা আবারও সংসার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘর বাধে কালিগঞ্জ উপজেলার আশিবিঘা এলাকার নওয়াব আলী গাতিদারের ছেলে সবুজ গাতিদারের (৩২) সাথে। কিছুদিন যেতে না যেতেই নাজমা জেনে যায় তার স্বামী একজন মাদকাসক্ত ও বড় মাপের সন্ত্রাসী। নাজমার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন শুরু করে যৌতুকের চাপ। স্বামী সবুজের হাতে নাজমা কয়েকদিন নির্যাতনে বেশ আহতও হয়েছে বলেও ইতিপূর্বে অভিযোগ আছে। একপর্যায় গত একমাস পূর্বে আবারও ভাঙে নাজমার সংসার। নাজমা ডিভোর্স পাঠিয়ে দেয় মাদকাসক্ত স্বামীকে। কিন্তু তাতেই রাক্ষসে রূপ নেয় মাদকাসক্ত স্বামী।
এখন দরিদ্র পিতার বাড়ীতে থেকে নাজমার স্বপ্ন হয়ে দাড়ায় একমাত্র শিশু ছেলেটিকে মানুষ করার। সে সিদ্ধান্ত নেয় শ্রমিক হিসাবে বিদেশে যেয়ে রোজগার করে ছেলে নাজমুলকে বড় করবে। এ উদ্দেশ্যে নাজমুলকে নানীর কাছে রেখে গত এক সপ্তাহ পূর্বে নাজমা ঢাকায় যায় ট্রেনিং নিতে। কিন্তু দানবের ছোবল চুর্ণ করে দিল সকল স্বপ্ন! আগুনে পুড়িয়ে কেড়ে নিল শিশু নাজমুলের তাজা প্রাণ! মাড়িয়ে দিল সবার স্বপ্ন!
সন্ত্রাসী সবুজ গাতিদার তার পথের কাটা হিসাবে দেখল আগের পক্ষের সন্তান এই শিশু নাজমুলকে। তাই জানা যায়, পরিকল্পনামত গত শুক্রবার রাতে ১টার দিকে সে কাজলা গ্রামে আসে। ঐ রাতে শিশু নাজমুল তার নানী ফতেমা বেগম (৫২) এর সাথে ঘুমিয়ে ছিলো। সন্ত্রাসী সবুজ ঐ ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর পিছনের জানালা দিয়ে পেট্রোল ছুড়ে দেয় সারা ঘরে। পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে শিশু নাজমুল ও তার নানী ফতেমা বেগম অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিৎকার করলে পড়শিরা ছুটে এসে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার ও রাস্তায় কিছু লোক সবুজ গাতিদারকে দ্রুত চলে যেতে দেখে।
এদিকে শিশু নাজমুল ও তার নানী কে ঐ রাতে খুলনা মেডিকেলে নিয়ে যায়। ওখান থেকে পরে তাদের ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসারত অবস্থায় আজ বুধবার দিবাগত রাতে শিশুটির করুন মৃত্যু হয়।
তবে, শিশুটির পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটির লাশ ঢাকা মেডিকেল থেকে বুধবার দুপুর অবধি ছাড়পত্র হয়নি। তাই লাশটি হয়ত বৃহস্পতিবার সকালে কাজলায নানার বাড়ীতে পৌছাতে পারে বলে তারা জানান।
লোমহর্ষক ঘটনায় ১নং আসামী সবুজ গাতিদারকে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের সুদক্ষ ইন চার্জ গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে গতরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে এমন নৃশংস ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবী জানিয়েছেন নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসী।