নলতায় মেয়ের বাবার পাতানো নাটকে জেলের ঘানি টানছে দরিদ্র পরিবার


684 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নলতায় মেয়ের বাবার পাতানো নাটকে জেলের ঘানি টানছে দরিদ্র পরিবার
অক্টোবর ৬, ২০২২ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ ::

কালিগঞ্জের নলতায় প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে মেয়ের বাবার পাতানো নাটকে ফাঁসিয়ে জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে একটি দরিদ্র পরিবারের তিন ভাইকে। এ নাটকের ফাঁদে পড়ে একদিকে অসুস্থ্য বৃদ্ধ পিতার আর্তনাদ আর মায়ের নানান আকুতি, অন্যদিকে মেয়ে প্রায় তিন মাস ঘরে তালাবন্দী। কি অমানবিক দৃষ্যপট। ঘটনাটি উপজেলার নলতা শীবপুর/ঘোড়াপোতা গ্রামে ঘটেছে।
অভিযোগ ও সরেজমিনে জানাগেছে, কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের শীবপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুস সাত্তারের পুত্র আরিফুল ইসলাম (২১) এর সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে উঠে একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের কন্যা শাহানাজ মুন্নী (১৯) এর সাথে। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ক গোপনে বিয়েতে রূপ নেয়। মেয়ের পরিবারে বিষয়টা জানাজানি হলে ঘটনাটি ভিন্নখাতে রূপনেয়। ২৬/৭/২২ তারিখে মেয়ের বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও খ্যান্ত হয়নি। ২৭/৭/২২ তারিখে রাত সাড়ে ৮ টায় সম্পুর্ণ কাল্পনিক একটি ঘটনার অবতারণ করে ছেলে ও ছেলের পরিবারকে শায়েস্তা করতে ছিনতাই ও অপহরণ নাটকের ফন্দি আঁটতে থাকে বলে স্থানীয়সূত্রে জানা যায়। এবং শেষমেশ মেয়ের টাকা ওয়ালা বাবা সেটাই বাস্তবায়ন করে ছেলের পরিবারকে চরমভাবে ফাঁসিয়ে দেয়। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান কিংবা থানায় অভিযোগ না করে গত ১৯/৯/২২ তারিখে সাতক্ষীরার আদালতে আরিফুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপহরণের চেষ্টা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধারায় সিআর ৪৭২/২২ (কালিঃ) মামলা দায়ের করে। বর্তমানে ছেলেসহ তিনভাই জেলে প্রহর গুনছে। অথচ মামলার স্বাক্ষীসহ স্থানীয়রা এমন ঘটনা ঐরাত্রে ঘটেনি বলে জানান গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে। সোমবার (৩ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীগন সরেজমিনে গেলে মেয়েকে বন্দী রেখে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা মেলে। অপরদিকে মেয়ে শাহানাজ মুন্নীকে ছেলে আরিফুলকে ভুলে থাকার চেষ্টায় ঘরে তালাবন্দী করে অবর্ননীয় কষ্ট দিচ্ছে তার পিতা মাতা এমন চিরকুটে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এবং মেয়ের অমানবিক নির্যাতনের জবানবন্দি সহ মেয়ের বাবার পাতানো নাটকের সকল চিত্র ধারন ও সংরক্ষিত হয় সরেজমিনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরায়।
ঘটনার সত্যতা জানতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মেয়ের ও ছেলের সাথে সম্পর্কের কথাটা শুনেছি, তাদের উভয়ের সম্মতিতে বিয়েও হয়। কিন্তু মেয়ের পরিবার মেনে নেয়নি। একপর্যায়ে মেয়েকে দিয়ে কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স করায়। এরপরে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ছেলের পরিবারকে ফাঁসাইছে। আসলে এমন কোনো ঘটনা আমার এলাকায় ঘটেনি। মামলার স্বাক্ষী নলতা গ্রামের মোজাহার আলীর পুত্র আলম হোসেন ও রহমত আলী বলেন, মেয়ের সাথে ছেলের সম্পর্ক ও বিয়ের ঘটনা জানি তবে ছিনতাই কিংবা অপহরণের বিষয়টি আমরা দেখেনি, মেয়ের বাবার মুখে শুনেছি। এঘটনায় কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ হালিমুর রহমান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মেয়েকে ঘরে বন্দী রাখার বিষয়টি জানতে পেরে থানার উপ পরিদর্শকসহ ফোর্স পাঠিয়েছি। অভিযোগ পাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

#