সাতক্ষীরার নলতায় লাখো কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত


1996 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার নলতায় লাখো কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত
ডিসেম্বর ১৬, ২০১৫ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান মিন্টু / সোহরাব হোসেন সবুজ :
‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি, চিরদিন তোমার আকাশ তোমার বাতাস আমার প্রাণে বাঁজায় বাঁশি’ প্রায় অর্ধলক্ষ কণ্ঠে জাতীয় সংগীতে মুখরিত হল সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জের নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিঃ কলেজ মাঠ প্রাঙ্গন। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে মহান বিজয় দিবস সম্মিলিতভাবে উদযাপনের লক্ষে শিশু, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা, ছাত্র-শিক্ষক, দিনমজুর, দলীয় নেতা কর্মীবৃন্দ দলে দলে একত্রিত হয় কলেজ মাঠে। সকাল ৯ টায় কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি। এবং একই সাথে উপস্থিত প্রায় অর্ধ লক্ষ জনতার কণ্ঠে জাতীয় সংগীত  উচ্চারিত হয়ে মুখরিত হয় কলেজ প্রাঙ্গন। জাতীয় সংগীতের পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমালা অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধানিবেদন করা হয়।
বিজয় দিবসের এই মহাসমাবেশে নলতা ইউনিয়ন আ.লীগের সভপতি আনিছুজ্জামান খোকনের সভাপতিত্বে বিজয় দিবসের ভাষণে প্রধান অতিথি ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি বলেন- ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আজকের মহান বিজয়। যে বিজয়ের জন্য আমরা গর্বিত জাতি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান আমাদের এই মহান বিজয়, স্বাধীনতা ও সর্বভৌম। আমরা এভাবেই একত্রিত হয়ে হাতে হাত মিলিয়ে আমাদের স্বাধীন সর্বভৌমকে রক্ষা করব। কোন পরাশক্তিকে, ষডযন্ত্রকারীদের, নাশকতাকারী-সহিংসতাকারীকে আর কখনো এ মটিতে ঠাই পেতে দেব না।
বর্তমান সরকার উন্নয়নের রোল মডেল। কোন মুখের কথা নয়, বিশ্বের স্বীকৃতি যে বাংলার গর্বিত বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন। আজ সকল ক্ষেত্রে বাংদেশের উন্নয়ন-প্রবৃদ্ধির হার দিগুন হারে এগিয়ে চলেছে। সামনে কয়েকদিন পর জানুয়ারীতে দেশের সকল শিক্ষার্থীর হাতে কোটি কোটি বই তুলে দেওয়া হবে। বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আজ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ। চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে অপরিসীম উন্নয়ন ঘটেছে তাতে চিকিৎসা সেবা মানুষের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এসময় তিনি আরো বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু ছিল বাংলার মানুষের কল্পনার বাইরে। একমাত্র শেখ হাসিনা সরকারের দুরদর্শিতা আর ক্ষমতার বলেই সেই পদ্মাসেতু আজ স্বপ্নের বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে পদ্মাসেতু উদ্বোধনও হয়ে গেছে।  তাই দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে চাইলে, বিশ্বের উন্নত দেশের কাতারে দাড়াতে চাইলে আপনারা আ.লীগ সরকারের তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন।
তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম টুটুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী, নলতা ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, প্রাক্তন সভাপতি শিক্ষক শামছুর রহমান, শিক্ষক মো. ইউনুস, আ.লীগ নেতা তারিকুল ইসলাম, মালেকুজ্জামান মালেক, ডাঃ আবুল ফজল মাহমুদ বাপী, চেয়ারম্যান এস.এম আসাদুর রহমান সেলিম, সাংবাদিক অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল্লাহ মোড়ল, হাবিবুর রহমান হাবু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ারুল কবির লিটু, সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, শিক্ষক আনোয়ারুল হক, আব্দুল মোনায়েম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ কওছার তুহিন, অগ্নিবীণা-সাতক্ষীরা জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সোহরাব হোসেন সবুজ, সাংবাদিক আহাদুজ্জামান আহাদ, মনিরুজ্জামান মহাসিন, গাজী কোরবান আলী, ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মহিউদ্দীন, রনি প্রমূখ।
সম্মিলিতভাবে মহান বিজয় দিবসে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীতে অংশ নিতে সমাবেশে যোগদান করেন নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিঃ কলেজ, নলতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এম.জে এফ প্রতিবন্ধি স্কুল, আহছানিয়া প্রিপারেটরী স্কুল, নলতা সরকারি প্রা:বি:, দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা, আহছানিয়া দরবেশ আলী মন্নুজান মেমোরিয়াল, কে.বি আহছানউল্লা জুনিয়র হাইস্কুল, আহছানিয়া দরবেশ আলী মেমোরিয়াল ক্যাডেট, মাঘুরালি সরকারি প্রা:বি:, পূর্ব নলতা সরকারি প্রা:বি:, রং মিস্ত্রি সমিতি, ইমারত সমিতি, নলতা শ্রমিক ইউনিয়ন, শ্রমিকলীগ, ইউ: ছাত্রলীগ, কলেজ ছাত্রলীগ, ভাড়াশিমলা আ.লীগ, যুবলীগ, নলতা ইউনিয়ন আ.লীগ, যুবলীগসহ ৯টি ওয়ার্ডের সকল নেতা-কর্মীবৃন্দ, সকল পেশাজীবী, সুধী, সাংবাদিকবৃন্দ এ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংগীতে অংশ নেয়। বিভাগের এটি সর্ববৃহৎ বিজয় দিবসের সমাবেশ বলে জানা যায়। সমাবেশের শেষে শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি কলেজের নতুন নির্মিত ভবণের উদ্ভোধন করেন।