নলতা সংবাদ ॥ আধানিবিড় পদ্বতিতে চিংড়ি চাষে সম্ভাবনাময় সাফল্য!


405 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নলতা সংবাদ ॥ আধানিবিড় পদ্বতিতে চিংড়ি চাষে সম্ভাবনাময় সাফল্য!
ডিসেম্বর ৯, ২০১৫ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা :
সাতক্ষীরা জেলার মানুষের প্রধান ব্যবসা বা আয়ের উৎস চিংড়ী চাষ। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চিংডীর ভূমিকা অনেক বেশি। চিংড়ীকে এখন মানুষ সাদা সোনা বলে জানে। সেজন্য চিংড়ী চাষের উপর আরো বেশি সাফল্য আনতে এবং আরো বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষে পরীক্ষামূলকভাবে এ বছরে আধানিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়েছে।

সাধারন পদ্ধতিতে চাষ করে হেক্টরপ্রতি বছরে যে জমিতে ৫’শ কেজি বাগদা পাওয়া যেত, সেখানে আধানিবির পদ্ধতিতে হেক্টরপ্রতি প্রায় ৯ হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। ফলে এলাকার বাগদা চিংড়ি চাষিরা অল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের আশায় আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, থাইল্যান্ড থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে নওয়াবেকী এলাকায় ৩শ বিঘা জমিতে আধানিবিড় (সেমি ইনটেনসিভ) পদ্ধতিতে নয় মাস আগে বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করে রেডিয়েন্ট শ্রীম্প কালচারের মালিক সফিকুর রহমান চৌধুরী।
সফিকুরের মালিকানাধীন এই চিংড়ি খামারে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার কেজি বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে। যার পাইকারী বাজার মূল্য ২৫ লক্ষাধিক টাকা। যেখানে প্রতি কেজি মাছের দাম ১১’শ টাকা। এই পদ্ধতিতে একর প্রতি (তিন বিঘায়) বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা খরচ হবে।
সেখানে উৎপাদন হবে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মূল্যের বাগদা চিংড়ি। শ্রীম্প হ্যাচারীর মালিক সফিকুর জানান, উন্নত মানের এই বাগদা পোনা দিয়ে তিনি গত বছর নভেম্বর মাসে  ৩’শ বিঘা জমি হারী নিয়ে সেখানে ৬০টি পুকুর খনন করেন। প্রতিটি পুকুরের আয়তন এক একর। সম্প্রতি তার এই চিংড়ি খামারে বাগদা চিংড়ি উৎপাদন শূরু হয়েছে। প্রতিটি পুকুর (এক একর আয়তনের) থেকে তিনি ২৩শ থেকে ২৫শ কেজি চিংড়ি উৎপাদন পাচ্ছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। তিনি আরো জানান, প্রতিটি পুকুরে বছরে ২ বার মাছ ধরা যাবে। অর্থাৎ প্রতিটি পুকুর থেকে বছরে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মূল্যের বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হবে।
আর প্রতিটি পুকুরে খরচ হবে ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আব্দুল অদুদ বলেন, অল্প জমিতে অধিক মুনাফা লাভের জন্য এই প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে আধানিবিড় পদ্ধতিতে চাষী পর্যায় জনপ্রিয় করতে মৎস্য বিভাগ কাজ করছে। আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। একটি খামারে দুই শতাধিক মানুষের প্রতিদিনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে এই চাষ পদ্ধতি  ছড়িয়ে পড়লে দারিদ্রতা নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরা মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, এই জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হয়্ এ বছর ২২ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। সাধারন চাষ পদ্ধতিতে হেক্টর প্রতি বছরে গড়ে ৩ শ কেজি চিংড়ি উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু আধানিবিড় পদ্ধতি ব্যবহার করে হেক্টরপ্রতি বছরে (দুই চক্রে) প্রায় ১০ হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই চাষ পদ্ধতিতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়্। বিদ্যুৎ যেখানে নেই সেখানে ইঞ্জিন চালিত মেশিনের সাহায্যে চাষ করা যাবে। চাষী পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋনের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষীরা ব্যাপক লাভবান হবে বলে আশা করা যায়।
##
কালিগঞ্জে যৌথ অভিযানে আটক-৪

নলতা প্রতিনিধি :
কালিগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪ জন আসামী আটক করা হয়েছে। কালিগঞ্জ থানার বিভিন্ন বিট থেকে বিশেষ যৌথ অভিযানে এসব আসামীদেরকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা যায়, মধূসূদনপুর গ্রামের অমেদ আলীর ছেলে জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান, মৌতলা গ্রামের শম্ভুনাথের ছেলে মাদকদ্রব্যসেবী মহাদেব সরকার (২৪), মশারকাঠি গ্রামের মৃত মনিরউদ্দীনের ছেলে জামায়ত কর্মী আব্বাস আলী (৩৪) এবং একই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আলআমিন (২৮) মাদকদ্রব্য ও নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার আসামী। গতকাল গভীর রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব আসামীদেরকে আটক করে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানা যায়।