নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ ও মানববন্ধন ইতিহাসের এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল


525 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ ও মানববন্ধন ইতিহাসের এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মে ২০, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শাবি প্রতিনিধি :
জনপ্রিয় লেখক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, শিক্ষককে অপমান করা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নেক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বর্বর ও রুচিহীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
এ ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে সেটা এঘটনা নির্ধারণ করবে। সাধারণত কোন মানুষ অপরাধী হলে তাকে আমার শাস্তি দিয়ে থাকি। এভাবে সকলের সামনে অপমান করিনা। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সবার সামনে অপমান করা হয়েছে।
এমনকি ইন্টারনেটে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও এমন মর্মাহত ঘটনা আমার পক্ষে দেখা সম্ভব হয়নি। সাংসদ সেলিম ওসমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শাবির  শিক্ষক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে একথাগুলো বলেন তিনি।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের পূর্বঘোষিত ডাকা কর্মসূচির আহবানে নারায়নগঞ্জে স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্চনার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল আলম, অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক হিমাদ্রী শেখর চক্রবর্তী ও সহকারী প্রক্টর সামিউল ইসলাম প্রমুখ।
দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবি করছেন শিক্ষক-ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার এক শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করে অপদস্থ করার ঘটনা তদন্ত করে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই শিক্ষককে পদে বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে গত শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে একদল লোক মারধর করেন। পরে তাকে কান ধরিয়ে উঠ-বস করান স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। উপস্থিত জনতার কাছে প্রকাশ্যে মাফ চাইতেও বাধ্য করা হয় ওই শিক্ষককে। পরে এমপির নির্দেশে প্রধান শিক্ষককে পুলিশের হেফাজতে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়।