নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেফতার


331 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেফতার
জুন ১৩, ২০১৭ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
গৃহকর্মীকে নির্যাতন, মজুরি দাবি করায় হত্যার হুমকি ইত্যাদি অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে (৪৫) সোমবার সকালে গ্রেফতার করেছে নিউইয়র্কের পুলিশ।

গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কুইন্সে অবস্থিত সুপ্রিম কোর্টে তাকে সোপর্দ করা হয়। বিচারক ডেনিয়েল লুইস ৫০ হাজার বন্ড অথবা নগদ ২৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে উপস্থিত কনসাল জেনারেল শামীম আহসানসহ অন্য সহকর্মী ও স্বজনেরা ৫০ হাজার ডলারের বন্ড সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও মুক্তির আনুষ্ঠানিকতায় আরও ২৪ ঘণ্টার মতো লাগতে পারে। এ সংবাদদাতাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল শামীম আহসান।

এই মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি রিচার্ড এ ব্রাউন বলেছেন, অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলাম নিজ দেশ বাংলাদেশ থেকে ২০১২ সালের শেষের দিকে গৃহকর্মী হিসেবে নিউইয়র্কে আনেন মোহাম্মদ আমিনকে। এরপরই তার পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আটক করে দৈনিক তাকে ১৮ ঘণ্টা করে কাজ করিয়েছেন। বিনিময়ে একটি পয়সাও দেয়া হয়নি। যখনই মজুরির দাবি করেছেন তখনই তাকে প্রহার করা হয়েছে। নির্যাতনে অতীষ্ট হয়ে মো. আমিন কাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবার আগ্রহ পোষণ করার পর শাহেদুল তাকে হত্যার হুমকি, এমনকি বাংলাদেশে তার বৃদ্ধা মা ও পুত্র-কন্যাকেও হত্যার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্যাতনে অতীষ্ট হয়ে গত বছরের মে মাসে মো. আমিন পালিয়ে সরাসরি পুলিশকে সবকিছুর বিবরণ দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে গত সপ্তাহে কুইন্স কাউন্টির গ্র্যান্ডজুরিরা শাহেদুলের বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন, বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো, হত্যার হুমকি ইত্যাদি গুরুতর অভিযোগ গঠনের পরই পুলিশ তাকে তার কুইন্সের বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে।

এ ব্যাপারে কনসাল জেনারেল এ সংবাদদাতাকে আরও জানান, মো. আমিন গত বছর বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরই আমরা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করেছি। কনসাল জেনারেল আরো জানান, গৃহকর্মী নিয়োগ থেকে পারিশ্রমিক-ভাতা, ভ্রমণ ভাতার সবকিছুই ডেপুটি কনসাল জেনারেলের ব্যক্তিগতভাবে করার কথা। তাই বেতন একেবারেই পাননি বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি সত্য না মিথ্যা তা আমি বলতে পারবো না। তা নিতান্তই শাহেদুলের ব্যাপার।

কনসাল জেনারেল আরও বলেন, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী আমরা শাহেদুলের পাশে রয়েছি।
অপরদিকে, ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি প্রচণ্ড ক্ষোভের সাথে বলেছেন, কূটনৈতিক মর্যাদায় বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল যে আচরণ করেছেন, তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের ক্লার্ক জানিয়েছেন, সবগুলো অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাহেদুলের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং দীর্ঘ প্রায় ৪ বছরের অভারটাইমসহ বেতন, এবং যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে এই কন্স্যুলেটের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করে মামলা করেছেন গৃহকর্মী মাসুদ পারভেজ। সেই মামলার নোটিশ বিতরণের পর্যায়েই কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন। মামলাটি এখনও ঝুলে রয়েছে। তবে মাসুদ পারভেজের গ্রির্ন কার্ড ইস্যু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

মো. আমিনও একই ক্ষেত্র প্রস্তুত করে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অভিপ্রায়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে কন্স্যুলেটের কর্মকর্তারা মনে করছেন। কারণ, তারা সকলেই শাহেদুলকে সজ্জন ব্যক্তি এবং তার গ্রামের পরিচিত হিসেবেই মো. আমিনকে গৃহকর্মী হিসেবে নিউইয়র্কে এনেছেন।

মামলার পরবর্তী তারিখ ২৮ জুন। সেদিন বিচার প্রক্রিয়া নির্ধারিত হতে পারে বলে আইনজীবীরা জানান।