নিউইয়র্কে চার বছরে তিন বাড়ি বাংলাদেশি কূটনীতিকের স্ত্রীর


348 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নিউইয়র্কে চার বছরে তিন বাড়ি বাংলাদেশি কূটনীতিকের স্ত্রীর
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৬ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
গত তিন বছরে ২০ লাখ ডলার নগদে পরিশোধ করে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা ও ফরেস্ট হিল্স এলাকায় তিনটি বাড়ির মালিক হয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের ইকোনমিক মিনিস্টার বরুণ দেব মিত্রের (বি ডি মিত্র) স্ত্রী রাখী মিত্র চৌধুরী। এ বাড়ি কেনার বিষয়টি চলতি সপ্তাহের ‘পরিচয়’ পত্রিকায় শীর্ষ সংবাদ হয়েছে; এতে কমিউনিটিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর এনআরবি নিউজের। নগদ অর্থে বাড়ি ক্রেতাদের অর্থের উৎস জানার জন্য মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানতে চায় যে, সে অর্থ বৈধ চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে কিনা। ঠিক এ অবস্থার মধ্যেই বাংলাদেশি এই কর্মকর্তার স্ত্রীর বিপুল অর্থে বাড়ি কেনার তথ্য মিডিয়ায় এলো। জানা যায়, বি ডি মিত্রের স্ত্রী রাখী মিত্র চৌধুরী নিউইয়র্কে বহুজাতিক একটি সংস্থায় চাকরি করেন। ‘রাখী হঠাৎ তিনটি বাড়ির মালিক বনে গেলেন’— এ সংবাদে একই সংস্থায় কর্মরত অন্য বাংলাদেশিরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তা দিয়ে কিছুতেই ২০ লাখ ডলার সঞ্চয় করা সম্ভব নয়। প্রকাশিত সংবাদের ব্যাপারে বি ডি মিত্রের মতামত জানতে চাইলে তিনি এনআরবি নিউজের এই সংবাদদাতার সঙ্গে স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি। তবে একপর্যায়ে মন্তব্য করেছেন যে, ‘এই আমেরিকায় কত শত সংবাদ রয়েছে। তা না লিখে আমাদের বিষয়কে কেন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?’ এরপর তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চাইলে বি ডি মিত্র নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘সংবাদ তো প্রকাশ হয়েছেই, তার বক্তব্য জেনে আর কী হবে।’ এ সময় বি ডি মিত্র আক্ষেপ করে বলার চেষ্টা করেন যে, ‘আরো অনেকেই তো বিপুল অর্থে এই নিউইয়র্কে বাড়ি কিনেছেন। তাদের সংবাদ তো মিডিয়ায় আসে না!’ স্মরণ করা যেতে পারে, এর আগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামসুল হকের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের সংবাদ মিডিয়ায় এসেছিল। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শেষে সেই কনসাল জেনারেলকে প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ক্লোজ করা হয়। এরপর তাকে অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাত্কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তার পদোন্নতির পরিবর্তে পদাবনতি ঘটেছে বলে অতিসম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে মিডিয়াকে জানানো হয়। জানা গেছে, বি ডি মিত্রের স্ত্রী-সন্তানরা আগে থেকেই নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদায় ঢাকায় চাকরি করতেন। চাকরির শেষ দিনগুলো নিউইয়র্কে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর আগ্রহে ইকোনমিক মিনিস্টারের পদটি অতিরিক্ত সচিবের নিম্ন মর্যাদার হওয়া সত্ত্বেও জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে এসেছেন চার বছর আগে। পরিচয়ে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে কেনা বাড়ির দলিল আর ছবি রয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, তিনটি বাড়িই নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকায়। ৮৭-৩০ ১৬৯ স্ট্রিটের বাড়িটি নাসির আলী খান পলের কাছ থেকে কেনা হয় ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। এর পুরো মূল্য নগদ ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারে পরিশোধ করা হয়েছে। ৮৫-২৭, ১৬৮ প্লেস, জ্যামাইকার বাড়িটি একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর সুডলারি ভনপ্রেসকোর কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ ৮৫ হাজার ডলারে কেনা হয়। ১১৬, ৮১ এভিনিউ, কিউ গার্ডেন্স ঠিকানার বাড়িটি গত বছরের ১২ জুন ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলারে কেনা হয়েছে। এ বাড়ি বাবদ বন্ধকী ঋণ নেওয়া হয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের। অবশিষ্ট অর্থ নগদে পরিশোধ করা হয়েছে বিক্রেতা ইয়েলেনা সেডিনাকে। বি ডি মিত্রের আয় নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, তার বাংলাদেশের সরকারি বেতনের অর্থে প্রায় ২০ লাখ ডলার কীভাবে আমেরিকায় সরকারি চ্যানেলে এনে তিনটি বাড়ি কেনায় ব্যয় করা হয়েছে? ‘বাংলাদেশ সরকারের চাকরিরত অবস্থায় সরকারি চ্যানেলে এই বিপুল অর্থ আমেরিকায় নিয়ে আসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়’ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা।