নিউইয়র্কে ৩ দিনের ফোবানা সম্মেলন শুরু


349 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নিউইয়র্কে ৩ দিনের ফোবানা সম্মেলন শুরু
সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৫ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
নিউইয়র্ক : ফোবানার বাংলাদেশ সম্মেলনে উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখছেন প্রেসিডেন্ট ওবামার এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ। ছবি-এনআরবি নিউজ।
নিউইয়র্ক : ফোবানার বাংলাদেশ সম্মেলনে উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখছেন প্রেসিডেন্ট ওবামার এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ। ছবি-এনআরবি নিউজ।

নতুন প্রজন্মে বাংলাদেশ এবং বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত রাখার পাশাপাশি প্রবাসের অভিজ্ঞতায় প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সার্বিক কল্যাণে সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে ৩ দিনব্যাপী ‘২৯তম ফোবানা কনভেনশন’ শুরু হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে (বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল)।

যুক্তরাষ্ট্র এবং আমেরিকার বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৫টি সংগঠনের সহস্রাধিক সংগঠক ছাড়াও সম্মেলনে অংশগ্রহন করছেন দুই শতাধিক শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিক্ষাবিদ এবং নতুন প্রজন্মের মেধাবীরা। সকলেই দৃপ্ত প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যে বাংলাদেশে চলমান কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়ার কথা বলেন। একইসাথে প্রবাসেও সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব পরিহার করে জাতিগত ঐক্য সুসংহত করার ওপর গুরুত্বরোপ করা হয়।

জ্যামাইকায় ইয়র্ক কলেজ পারফর্মিং আর্টস মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রবাসের খ্যাতনামা সমাজকর্মী ডা. কালি প্রদীপ চৌধুরী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়ান-আমেরিকান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ, মার্কিন কংগ্রেসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রভাবশালী সদস্য কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোর্শেদ খান বীর বিক্রম, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট লেটিসিয়া জেমস, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ফোবানার নির্বাহী চেয়ারম্যান ডিউক খান, সাবেক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, নির্বাহী সচিব আজাদুল হক, সম্মেলনের প্রধান উপদেষ্টা ও নিউজার্সির প্লেইন্স বরো সিটির কাউন্সিলম্যান ড. নূরন্নবী, ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট কমিটির আহবায়ক বেদারুল ইসলাম বাবলা, সদস্য-সচিব জাকারিয়া চৌধুরী, কো-কনভেনর আব্দুল কাদের মিয়া, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কাটজ, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লীরয় কমরী,  হোস্ট কমিটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কো-কনভেনর এন আমিন প্রমুখ।

কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য/প্রদেশ থেকে ৪৫টি সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা এবং মেট্রো ওয়াশিংটন অঞ্চলের ডজনখানেক সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী এতে অংশ নেন স্বপরিবারে।

ওবামার উপদেষ্টা ড. নীনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ তথা এশিয়ানদের মেধা এবং কর্মনিষ্ঠায় পঞ্চমুখ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউজের সকল সুযোগ-সুবিধা বাংলাদেশিরাও যথাযথভাবে পাচ্ছে কিনা সেটি দেখভাল করতে হয় আমাকে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে প্রবাসি বাংলাদেশিদের আহবান জানাচ্ছি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত অধিকারগুলো সম্পর্কে আরো বেশি সজাগ হবার জন্যে। একইসঙ্গে মূলধারার রাজনীতিতেও আরো সোচ্চার হতে হবে।’

কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং কর্মপরিবেশ নিরাপদ করার জন্যে আমেরিকার তৈরী পোশাকের আমদানীকারকদের সাথে আমি সবসময় দেন-দরবার চালাচ্ছি। একইসঙ্গে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সারা আমেরিকায় ঘটা করে পালনের জন্যে কংগ্রেসে বিল উঠিয়েছি। পাবলিক স্কুলে হালাল খাদ্য সরবরাহের বিধি তৈরীর জন্যেও আমি সহকর্মীদের সাথে সোচ্চার রয়েছি। নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে ঈদের দুদিন ছুটি ঘোষণার জন্যে আমি অনেক আগে থেকেই সোচ্চার ছিলাম। সেটি সিটি মেয়রের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে।’

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, ‘২০১৫ সালটি বাংলাদেশের জন্যে বিশেষ একটি সময়। বিশেষ করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের যথেষ্ঠ সুনাম হয়েছে। মানবতার সামগ্রিক উন্নয়ন ও কল্যাণে আমরা জাতিসংঘে ২০১০ সাল থেকেই ৪ ‘পি’ নিয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছিলাম। এগুলো হচ্ছে ১. জাতীয় স্বার্থ প্রটেক্ট করা, ২. জাতীয় স্বার্থ প্রমোট করা, ৩. বিশ্ব নেতৃত্ব প্রভাইড করা এবং ৪. বিশ্বে শান্তি (পীস) প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা। অতি সম্প্রতি জাতিসংঘ ৫ ‘পি’ কে ধারণ করেছে ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন পরিক্রমায়। এগুলো হচ্ছে ১. পিপুল, ২. প্লেনেট, ৩. প্রসপারিটি, ৪. পীস এবং ৫. পার্টনারশিপ।’ রাষ্ট্রদূত মোমেন উল্লেখ করেন,’‘এভাবেই বাংলাদেশের এগিয়ে চলার অনেক পরিকল্পনা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনুসরণ করা হচ্ছে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে দারিদ্র মুক্তির লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়নের যে ১৭টি এজেন্ডা নির্দ্ধারণ করা হয়েছে তার অধিকাংশই বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল- উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মোমেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি থেমে নেই। সারাদেশের মানুষ আজ বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিতে বদ্ধ পরিকর।’

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেছেন, ‘প্রবাসের বাঙালিরা মেধার বিনিয়োগ ঘটিয়ে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন সর্বত্র। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশও এগিয়ে চলেছে দীপ্ত প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন অর্জনের লক্ষ্যে।’

বাংলাদেশ, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে সমবেত কন্ঠে দেশের গান ছাড়াও রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসানের যুগলকন্ঠে মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি জাগানিয়া সঙ্গীতে আপ্লুত হন উপস্থিত সকলে।

সম্মেলন কেন্দ্রে বসেছে বিভিন্ন পণ্য ও খাদ্যের স্টল। সেবামূলক কয়েকটি সংস্থাও পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য-চিকিৎসাসহ নানা বিষয়ে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে মোট ১৫টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও একটি মুক্ত আলোচনা হবে শেষ দিন। বাংলাদেশ এবং প্রবাসের খ্যাতিমান সাংবাদিকরা এতে অংশ নেবেন।—সুত্র:-বিডি নিউজ।