নিজেদের স্বার্থে নিরাপত্তা নিয়ে আপোস করছে এমিরেটস


347 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নিজেদের স্বার্থে নিরাপত্তা নিয়ে আপোস করছে এমিরেটস
মার্চ ২৪, ২০১৭ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
বিমানের কেবিনে ল্যাপটপ ব্যবহারে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। শীঘ্র এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল বিমান সংস্থা এমিরেটস আমেরিকার এ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য তারা বেশ ‘চমৎকার’ উপায়ও বের করেছে।

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মতে, বিমানে উঠার পূর্বে যাত্রীদের লাগেজ চেক করবে না এমিরেটস কর্মীরা। শুধু আমেরিকায় যাত্রাকালেই এটা করা হবে। অর্থাৎ আমেরিকাগামী যাত্রীরা ছাড়া এমিরেটসের অন্যসব যাত্রী বিমানে ল্যাপটপ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

শনিবার থেকে আমেরিকার সরকারের জারি করা নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর থেকে বিমানযাত্রীরা শুধু ল্যাপটপই নয়, অনেক ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসই ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাত্রীদের সে সুযোগ দিচ্ছে এমিরেটস। সুযোগ তো দিচ্ছেই উল্টো বিমানো আরোহনকালে যতটুকু সম্ভব যাত্রীর লাগেজ চেক না করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ সুযোগের অপব্যবহার করতে পারে জঙ্গিরা। এমিরেটসের প্রেসিডেন্ট টিম ক্লার্ক একটি বিবৃতিতে বলেন, নতুন আইন কার্যকরে সহযোগিতা করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু যাত্রীরাও যাতে এ আইনের ফলে সমস্যায় না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে চাই। ক্রেতাদের ওপর যাতে এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। বিশেষ করে ব্যবসায়ী যাত্রীদের ক্ষেত্রে আমরা নমনীয় থাকবো। তারা সর্বোচ্চ সুযোগটা পাবেন। কিন্তু বড় কোনো অঘটন যাতে না ঘটতে পারে সেদিকেও আমাদের খেয়াল থাকবে।

মঙ্গলবার আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও পরিবহন নিরাপত্তা বিভাগ ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার ১০টি বিমানবন্দরের আমেরিকাগামী যাত্রীরা কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। এমিরেটসের জন্য যা চরম অসুবিধার সৃষ্টি করবে। বিলাসবহুল এমিরেটসের যাত্রীদের বেশিরভাগই নামিদামী ব্যবসায়ী। এমিরেটসের রাজস্বের সিংহভাগই এসব যাত্রীদের থেকেই আসে।

তাই দুবাইভিত্তিক বিমানসংস্থা এমিরেটস আমেরিকার নতুন আইন বাস্তবায়নে এমন এলোমেলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত সন্ত্রাসী হামলা থেকে দূরে থাকতে এর সামর্থ্য ‘কতটুকু বাড়াবে’ সেটা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন।