নিন্দা ধিক্কারের মুখে মন্ত্রিত্ব যাচ্ছে মুরাদের


112 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নিন্দা ধিক্কারের মুখে মন্ত্রিত্ব যাচ্ছে মুরাদের
ডিসেম্বর ৭, ২০২১ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে আজ মঙ্গলবারের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সমকালকে জানিয়েছেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রীর আপত্তিকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ আমি পৌঁছে দিয়েছি। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আমার কথা হয়েছে। আমি তাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে পদত্যাগ করার কথা বলেছি।’ ডা. মুরাদ হাসান সাম্প্রতিক সময়ে চরম আপত্তিকর, অশ্নীল মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকে অশালীন ও বর্ণবাদী কথা বলে সমালোচিত এই প্রতিমন্ত্রী এর আগেও এমন মন্তব্য করেছেন। একজন চিত্রনায়িকার সঙ্গে তার
কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়। সেখানে ওই নায়িকাকে অশ্রাব্য কথা বলতে শোনা যায়। এ নিয়ে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া কিংবা তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দুই দিন ধরে নিন্দা-প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীকে সরে যেতে বলা হলো।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সমকালকে জানিয়েছেন, ডা. মুরাদ হাসানের আপত্তিকর মন্তব্যে খুবই বিরক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গতকাল সোমবার তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সমসাময়িক নেতিবাচক কর্মকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এই আলোচনায় তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিদ্বেষমূলক মন্তব্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী খুব বাড়াবাড়ি করেছেন। তার মন্তব্য রীতিমতো সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি নারীবিদ্বেষী ও অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। শিষ্টাচারের সীমারেখা অতিক্রম করেছেন। ফলে দলীয় ঘরানার বাইরেও এ নিয়ে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায় ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভায় রাখার সুযোগ নেই। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাে সম্পৃক্তদের ছাড় দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমসাময়িক সময়ে এর প্রমাণও মিলেছে। ইতোমধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র এবং পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আব্বাস আলীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বরখাস্ত হয়েছেন। তিনিও দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) এবং ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। জনজীবনে বিশৃঙ্খলা করায় ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িতদেরও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এরই মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ তৃণমূল পর্যায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। শাস্তির খড়্‌গ ঝুলছে তাদের আশকারা দেওয়া এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও।
এ অবস্থায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা। তাদের দৃষ্টিতে, জামালপুর-৪ আসনের এই এমপি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার বেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জড়ানোর মতো স্পর্ধা দেখিয়েছেন। তাদের ভাষায়, তথ্য প্রতিমন্ত্রীর নারীবিদ্বেষী, বিকৃত ও যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্যে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই বিব্রত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা গতকাল রাতে ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি কারও টেলিফোন রিসিভ করছেন না। তবে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বলেছেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় নেই। তিনি গতকাল মন্ত্রণালয়ে আসেননি। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সেগুনবাগিচায় শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার যোগ দেওয়ার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। সেখানেও যাননি। ধানমন্ডির ১৫ নম্বরের বাসভবনেও ছিলেন না তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।