নিবন্ধনে অগ্রাধিকার পাবে দৈনিক পত্রিকার অনলাইন ভার্সন : তথ্যমন্ত্রী


142 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নিবন্ধনে অগ্রাধিকার পাবে দৈনিক পত্রিকার অনলাইন ভার্সন : তথ্যমন্ত্রী
সেপ্টেম্বর ১, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

অনলাইন নিউজপোর্টাল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সন অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সবসময়ই সংবাদপত্র ও সার্বিকভাবে গণমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করে আসছে। এরই ধারাবহিকতায় আজকের বৈঠক হয়েছে। করোনাকালে সংবাদপত্র তাদের কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখায় তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এজন্য সাংবাদিকদের করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।’

সভায় অংশ নেন- দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, সম্পাদক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক কালেরকণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, দ্য ডেইলি সানের সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী এবং দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান। এ সময় তথ্যসচিব কামরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী সাংবদিকদের বলেন, ‘দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দৈনিক পত্রিকার অনলাইন ভার্সনগুলোকে যাতে সহসাই রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। কারণ পত্রিকার ডিক্লারেশনের সময় এগুলোর তদন্ত হয়েছে। সেই কারণে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সনগুলোর রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হবে।’

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পত্রপত্রিকার বকেয়া বিলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতরে কয়েকশ’ কোটি টাকার বিল আটকে আছে। সহসা এই বিলগুলো দেওয়া প্রয়োজন। এখন করোনাকালে পত্রপত্রিকায় নানা সংকট চলছে। বকেয়া যখন দিতেই হবে, সুতরাং এখন দিলেই সেটি বেশি কাজে লাগবে। এজন্য বিলগুলো যাতে দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলো ছাড় দেয় সে ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয় জোরালো ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বে সব মন্ত্রণালয় এবং দফতরে পত্রপত্রিকার বিল ছাড় করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছিল এবং সেটির আলোকে তথ্য মন্ত্রণালয়ও একটি তাগিদপত্র দিয়েছিল। কিছু বিল ছাড়ও হয়েছিল। কিন্তু বকেয়ার তুলনায় ছাড়ের পরিমাণ নগণ্য হওয়ায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতরকে আবার একটি তাগিদপত্র দেওয়া হবে।’

সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রার জন্য রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার বিকল্প নেই। বিশেষ করে করোনা মহামারির এ সময় বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন।’

আজকের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সন দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং সংবাদপত্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে আমরা তথ্যমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি।’

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি নিজেই গণতন্ত্রের জন্য বাধা।’ বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্য ‘গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারই বিএনপির চ্যালেঞ্জ’-এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিতে আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র কতটুকু আছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির আকার যদি দেখেন, তাহলে এই কমিটির বৈঠক করার জন্য তো হল ভাড়া নিতে হবে। এজন্য বিএনপির আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ড. হাছান আরও বলেন, ‘যে দল দলগতভাবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, সেই দল হচ্ছে বিএনপির প্রধান সহযোগী। জঙ্গিগোষ্ঠীকে বিএনপি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে। আর তারা যদি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথাই বলে, তাহলে তো তাদের এই পথ থেকে সরে আসতে হবে।’