নিম্নমানের পণ্য : আরও ২ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল,স্থগিত ২৫টির


48 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নিম্নমানের পণ্য : আরও ২ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল,স্থগিত ২৫টির
মে ১৬, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

নিম্নমানের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত ৫২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে আরও দুইটি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এছাড়া ২৫ কোম্পানির পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএসটিআইর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে নিম্নমানের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত ৫২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে সাতটির লাইসেন্স বুধবার বাতিল করে বিএসটিআই। পাশাপাশি উৎপাদনের অনুমোদন স্থগিত করে ১৮টি পণ্যের।

বৃহস্পতিবার যে দু’টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে সেগুলা হলো– চট্টগ্রামের এসএম কনজ্যুমার প্রোডাক্ট এবং নওগাঁর কিরণ ট্রেডার্স।

এছাড়া যে ২৫ কোম্পানির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো– ঢাকার দক্ষিণ গোড়ানের বাঘাবাড়ী স্পেশাল ঘি কোম্পানির ঘি, সিলেটের নিশিতা ফুডসের সুজি, সিলেটের মঞ্জিল ফুডস অ্যান্ড প্রোডাক্টসের হলুদের গুড়া, কুষ্টিয়ার শান ফুডের হলুদের গুড়া, রাজশাহীর কাশেম ট্রেডার্সের হলুদের গুড়া ও মরিচের গুড়া, রাজশাহীর আমিরুল ট্রেডার্সের মরিচের গুড়া, খুলনার গ্রীন ল্যান্ডস মিল্ক প্রোডাক্টসের মধু, খুলনার মধুমতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির নূর সল্ট ইন্ডাষ্ট্রিজের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির নিউ ঝালকাঠি সল্ট মিলসের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির কোয়ালিটি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির লাকী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির তাজ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঝালকাঠির জেদ্দা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের লাচ্ছা সেমাই, বরিশালের অমৃত ফুড প্রোডাক্টসের লাচ্ছা সেমাই, সিলেটের মধুফুল অ্যান্ড প্রোডাক্টসের লাচ্ছা সেমাই, চট্টগ্রামের মিঠাই সুইটস অ্যান্ড বেকারীর লাচ্ছা সেমাই, চট্টগ্রামের ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের লাচ্ছা সেমাই, চট্টগ্রামের মিষ্টি মেলা ফুড প্রোডাক্টসের লাচ্ছা সেমাই, চট্টগ্রামের মধুবন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুটের লাচ্ছা সেমাই, চট্টগ্রামের কেআর ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ময়দা, চট্টগ্রামের রূপসা ফুড প্রোডাক্টসের ফারমেন্টেড মিল্ক, চট্টগ্রামের ইমতিয়াজ ব্রেড অ্যান্ড ফুডের বিস্কুট এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাঈয়েবা ফুড প্রোডাক্টসের চানাচুর।

এর আগে বুধবার লাইসেন্স বাতিল হওয়া সাত কোম্পানির তালিকায় ড্রিংকিং ওয়াটারের মধ্যে আল সাফি, শাহারী অ্যান্ড ব্রাদার্সের নারজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ন ডিউ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার এবং আর আর ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার রয়েছে। কেরানীগঞ্জে শান্তা ফুড প্রডাক্টসের টোস্ট, তানি ও তাসকিয়া এবং কামরাঙ্গীরচরের জাহাঙ্গীর ফুড প্রডাক্টসের প্রিয়া ব্র্যান্ডের সফট ড্রিংক পাউডার, মিরপুরের বনলতা সুইটস অ্যান্ড বেকারির বনলতা ব্র্যান্ডের ঘি-এর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

ওইদিন লাইসেন্স স্থগিত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সরিষার তেলে সিটি অয়েল মিল-গাজীপুর (তীর), গ্রিন ব্লিসিং ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (জিবি), শবনম ভেজিটেবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (পুষ্টি), বাংলাদেশ এডিবল অয়েল-নারায়ণগঞ্জ (রূপচাঁদা); সুপেয় পানির মধ্যে আররা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (আররা), ডানকান প্রোডাক্ট (ডানকান), দীঘি ড্রিংকিং ওয়াটার (দীঘি); প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের প্রাণ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই; হলুদের গুঁড়ার মধ্যে ড্যানিশ, প্রাণ ও ফ্রেশ। কারি পাউডারের মধ্যে প্রাণ ও ড্যানিশ; আয়োডিনযুক্ত লবণের মধ্যে এসিআই ও মোল্লা সল্ট; ধনিয়া গুঁড়ার মধ্যে এসিআই পিওর, নুডলসের মধ্যে নিউজিল্যান্ড ডেইরির নুডলস এবং চিপসের মধ্যে কাশেম ফুডের সান ব্র্যান্ড রয়েছে।

এর আগে গত ৩ ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়, বিএসটিআই সম্প্র্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য নিম্নমানের ও ভেজাল রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে বিএসটিআই।

এরপর গত ৯ মে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমাণের পণ্য জব্দ এবং এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও উৎপাদন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ১২ মে বিভিন্ন কোম্পানির ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন।