প্রতারণার অপর নাম ক্লিনিক ব্যবসা : একের পর এক নাম পরিবর্তন


901 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রতারণার অপর নাম ক্লিনিক ব্যবসা : একের পর এক নাম পরিবর্তন
জানুয়ারি ২৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
রাতারাতি নাম পরিবর্তন করা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আবারও নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।  এবার রাখা হয়েছে পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অনুমোদনহীন ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিবর্তন করে কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও সাইনবোর্ড সর্বস্ব  পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার করা হলেও সিভিল সার্জন অফিস বলছে, তারা অনুমোদনের জন্য কাগজ জমা দিয়েছে। ৭ দিনের ব্যবধানে কিভাবে কাগজ তৈরি হলো তার কোন জবাব দিতে পারেনি অফিসের কোন কর্মকর্তা। তবে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আবুল হোসেন জানান, আমি এই নামে অনুমোদনের জন্য কোন কাগজপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠায়নি।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের নাকের ডগায় নাম সর্বস্ব তৈরি হয় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সেন্টারটি পরিচালিত হয় সিভিল সার্জনের কতিপয় কর্মকর্তাকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, এই সেন্টারটি সেবার নামে অর্থ বাণিজ্য হয় বেশি। অনুমোদনহীন এ ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। শহরের পুলিশ সুপারের বাস ভবনের সামনে অবস্থিত নাম সর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকানায় মালিক ছিলো আজহারুল ইসলাম শফি। সেন্টারটি পরিচালনা করলেও তিনি কখনও রেজিস্ট্রেশন করাননি।

সূত্রগুলো জানায়, আজহারুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম শফি এর আগের নোভা ক্লিনিক, নাফ ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। সেগুলো রোগী মৃত্যুর কারণে বন্ধ হলে প্রতিষ্ঠা করেন আল সালাফিয়া ক্লিনিক। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সেটিও বন্ধ করে দেয়। পরে প্রতিষ্ঠা করেন ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার। ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টারের নাম মুছে দেওয়া হয় ২২ জানুয়ারি। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে ‘মাসোহারা যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

রাতারাতি পরিবর্তন হচ্ছে নাম সর্বস্ব ক্লিনিক’ শিরোনামে ২৩ জানুয়ারি সংবাদ প্রকাশিত হলে সিভিল সার্জনের এক কর্মচারীর গাত্রদাহ শুরু হয়। তিনি মোটা অর্থের বিনিময়ে নাম সর্বস্ব ঐ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার কাজ শুরু করে। ব্যক ডেটে স্বাক্ষর করে পরিদর্শন দেখিয়ে কাগজ তৈরির পায়তারা করছে ঐ সুফী কর্মচারী। ২৭ জানুয়ারি গিয়ে দেখা যায় ঐ সাইনবোর্ড মুছে পরিবর্তন করা হয়েছে পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

সূত্র জানায়, ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি পত্র নিয়ে সকল নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে অর্থ বাণিজ্য। নিম্নমানের পরিবেশ, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না করেই চলছে সেন্টারটি।

এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক আজাহারুল শফি জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শন কবে হয়েছে, কারা করেছে তা তিনি জানাতে পারেন নি। তবে সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুজ্জামান জানান, পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আবেদন পাঠানো হয়েছে।