নির্বাচনকালীন সরকার কি হবে সেটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয় : বেগম কবিতা খানম


353 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নির্বাচনকালীন সরকার কি হবে সেটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয় : বেগম কবিতা খানম
জুলাই ১৮, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা ব্যুরো ঃ
নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার কি হবে- সেটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয়। তবে সকল দলের অংশ গ্রহনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের লক্ষ। এ লক্ষ নিয়েই নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ঘোষিত রোডম্যাপে কোন খানাখন্দ নেই। তবে সকল দলের অংশ গ্রহনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে উদ্যোগ নেবে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য নিবন্ধিত সকল দলের সঙ্গে মতবিনিময় করবে কমিশন। সকলের অংগ্রহন এবং ভোটাররা যাতে ভোট দিয়ে নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে কমিশন। সকলকে নিয়ে বসতে পারলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড বিতরণ খুলনা পর্বের কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মুহাম্মদ মিজানুর রহমান এমপি, কেসিসি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ ও কেএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মো. মাহবুব হাকিম। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোস্তফা ফারুক।
অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্টে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিষয়ক উপস্থাপনা করেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও আইডিইএ প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম।
নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম আরও বলেন, স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত দলিল। এর গুরুত্ব এবং মর্যাদা অনেক। দেশে-বিদেশে সব জায়গাতেই এর প্রয়োজনীয় রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং বরিশালের পর খুলনায়ও এ পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল নাগরিকের হাতে এ পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হবে। তিনি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার বিষয় তুলে ধরে বলেন, এটি একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এটি একটি আমানত। দেশের তৃণমূলের জনগনের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। নিজেরাই এর সংরক্ষণ করতে হবে। কেউ এর অপব্যবহারের চেষ্টা করলে তা এক সময় তারই গলার কাটায় পরিণত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে কবিতা খানম বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নির্বাচন কমিশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে চার শতাধিক নির্বাচনও করেছে কমিশন। সব নির্বাচনই প্রশ্নের উর্দ্ধে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
নির্বাচনে বিচ্ছৃংখলা সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনেই কিছু না কিছু বিচ্ছৃংখলার ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু কমিশন বিচ্ছৃংখলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কমিশন জনগনের মধ্যে আস্থা তৈরি করে শততার সঙ্গে কাজ করছে কমিশন। সকলের সহযোগিতা থাকলে একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া অসম্ভব নয় বলেও নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নারী নেত্রীসহ নগরীর ১৭জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেন নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম। #