নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট : ১৪ দল


316 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট : ১৪ দল
নভেম্বর ২৩, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে এ অভিযোগ জানায়।

১৪ দলীয় জোটের নেতারা অভিযোগ করেন , বিএনপি মহাসচিব কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের কথা বলে নির্বাচনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে বেরিয়ে দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তারা একদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আবার প্রতিদিন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মনগড়া ও বানোয়াট অভিযোগ করে সংশ্লিষ্টদের মনোবল ভেঙে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। যাতে তারা নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘণ করে বক্তব্য রাখছে, অথচ ঐক্যফ্রন্টের চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন একজন আইনজ্ঞ হয়েও এ বিষয়ে কিছুই বলছেন না। বিএনপি যে দাবিগুলো উত্থাপন করছে সেগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।’

দিলীপ বড়ুয়া বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তারা তাদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। নির্বাচনের পরে যাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন না হয় এবং নির্বাচনে তারা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে নির্বাচন কমিশনকে তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে ১৪ দল।

প্রশাসনের রদবদল সম্পর্কিত বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া বিএনপির কথামতো যেন এ ধরনের রদবদল করা না হয় সে ব্যাপারে তারা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

জোটের অপর নেতা জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘণ করছে। এ ব্যাপারে কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।

কমিশনকে দেয়া চিঠিতে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচালের অংশ হিসেবেই প্রতিদিন অসত্য ও মনগড়া অভিযোগ ইসিতে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছে ১৪ দলীয় জোট।

লিখিত চিঠিতে তারা বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোটকে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন বহিঃর্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য কর্তব্য। অথচ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন একজন দণ্ডিত ও পলাতক আসামি হওয়ার পরও তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত কোন আসামি জাতীয় সংসদের সদস্য পদ প্রার্থীদের বাছাই করতে পারেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের প্রতি চরম অবমাননা এবং রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তারেক রহমানের এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসির প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’

প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী , গণতন্ত্রী পার্টির ডা. শাহাদাৎ হোসেন , জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের নাদের চৌধুরী প্রমুখ।