নেইমার এবার একা নন


88 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নেইমার এবার একা নন
নভেম্বর ২৪, ২০২২ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন নেইমার। দুটিতেই ছিলেন উজ্জ্বল। সেই দু’বারের চেয়ে এবারের নেইমার আরও পরিণত, আরও নিখুঁত। চোট, ফিটনেস কিংবা অফফর্মের ছায়া এখনও তাঁর পাশে ভিড়তে পারেনি। এটাই ব্রাজিলের জন্য ইতিবাচক। আগের দুই আসরে যে কারণে অনেকটাই হতাশ হতে হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আজ থেকে শুরু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন। যে মিশনে নেইমার মূল সারথি হলেও তাঁর সঙ্গে থাকবেন আরও অনেক যোদ্ধা। যেটা সেলেকাওদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বেশি মজবুত করেছে। কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফুও বলেছিলেন, ‘ব্রাজিল এবার আর নেইমারনির্ভর নয়।’ অনেকটা তেমনি; নেইমারের সঙ্গে এবার আক্রমণভাগে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, জেসুস, রাফিনহারা। সবাই দারুণ ছন্দে। যেটা তিতের জন্যও স্বস্তির।

প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ সার্বিয়া। যাদের সঙ্গে আগের বিশ্বকাপেও দেখা হয়েছিল ব্রাজিলের। ওই ম্যাচটিতে ২-০ গোলে জয় পায় হলুদ জার্সিধারীরা। সেই সুখস্মৃতি নিয়ে আজ সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে দলটি। যেখানে নেইমারই হতে পারেন ত্রাতা, আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। এর আগে দুটি বিশ্বকাপে ১০ ম্যাচ থেকে ছয় গোল করেছেন নেইমার। সতীর্থদের দিয়ে গোল করান তিনটি। যার মধ্যে রাশিয়ার মাটিতে পাঁচ ম্যাচ খেলে করেন দুই গোল। এদিকে দারুণ এক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক এখন পেলে। ৯২ ম্যাচ থেকে ৭৭ গোল করেছিলেন সাবেক এই কিংবদন্তি। তালিকায় দুইয়ে আছেন নেইমার। ১২১ ম্যাচ খেলা এই তারকার ঝুলিতে আছে ৭৫ গোল। যেখানে ৬২ গোল করা রোনাল্ডো নাজেরিও আছেন তিনে। আর চার ও পাঁচে থাকা রোমারিও এবং জিকোর গোলসংখ্যা যথাক্রমে ৫৬ ও ৪৮। সে ক্ষেত্রে আর দুই গোল করলেই ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক পেলেকে স্পর্শ করবেন নেইমার। তিন গোল করলে তাঁর রেকর্ডটাও ভেঙে ফেলবেন তিনি।

এই নেইমারকে নিয়ে আশা করতেই পারে ব্রাজিল। কেননা চমৎকার ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছেন তিনি। চলমান মৌসুমে পিএসজির হয়ে খেলা নেইমার এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে কুড়ি ম্যাচে ১৫ গোল করেছেন। সঙ্গে রয়েছে ১২টি অ্যাসিস্টও।

প্রতিপক্ষ যখন সার্বিয়া, সে ক্ষেত্রে নেইমারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে রক্ষণ ভাঙা। যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একই পরীক্ষা দিতে হতে পারে তাঁকে। তবে নেইমারের কাঁধে যে পুরো ভার সেটাও না। তাঁকে সঙ্গ দেবেন রিয়াল মাদ্রিদ মাতানো ভিনিসিয়ুস। গতির সঙ্গে খানিকটা ছন্দের মিলে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন এই ফরোয়ার্ড। এ ছাড়া গোলমুখে জেসুসও বেশ আগ্রাসী। লং শটে যে কোনো সময় জাল কাঁপিয়ে দিতে পারেন আর্সেনাল তারকা। রিচার্লিসনও দলের প্রয়োজনে গোল করতে পারেন। নিখুঁত পার্সিংয়ের সঙ্গে ব্রাজিলের রক্ষণভাগেও অবদান রাখতে পারেন তিনি। আর নিজের পছন্দের দুটি ধরন- ফ্লিক অন (দ্রুতগতিতে বল ফরোয়ার্ড লাইনে পাঠানো) করে খেলা ও ইনসাইডে কাট করাকে (ডি বক্সের মধ্যে ড্রিবলিং) বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন রিচার্লিসন।

নেইমারের শক্তির জায়গাটা নান্দনিক ড্রিবলিংয়ে। বিশেষ করে দুই উইং থেকে আসা বলগুলো নিয়ে ফিনিশিং করা, এর পর সেন্টার ফরোয়ার্ড দিয়ে লে অফ পাসিং ফুটবলে (ছোট ছোট পাসে রক্ষণ ভাঙা) প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করার মানসিকতাই ব্রাজিলের জন্য আশার দিক। পাশাপাশি ডি বক্সের মধ্যে জটলা থাকলেও সেটা নিখুঁতভাবে ভেদ করতে পারেন তিনি। আর পায়ের কারুকাজ দিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদেরও বোকা বানানোর ক্যারিশমাটা জানা নেইমারের। তাঁর সঙ্গে আরেক তরুণ রদ্রিগোও হতে পারেন তিতের তুরুপের তাস। রিয়ালে সুন্দর ফুটবল খেলা এই ফরোয়ার্ড কাউন্টার অ্যাটাকে যে কোনো সময় ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। সব মিলিয়ে নেইমারের সঙ্গে বাকি ফরোয়ার্ডদের আক্রমণের সুরটা একই সুতায় মিলে গেলে ব্রাজিলের বিশ্বজয় করাও কঠিন হবে না।