নেতারা মাঠেই


357 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নেতারা মাঠেই
আগস্ট ২৭, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র মাস চারেক বাকি। হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। তাই বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং নেতারা এখন নির্বাচনী মাঠে। নির্বাচনের আগে শেষ ঈদ সামনে রেখে কয়েকদিন আগেই তারা গ্রামমুখী হয়েছিলেন, ঈদ শেষ হলেও রাজনীতিতে এর রেশ কাটেনি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনও নানা ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠ গরম রাখার চেষ্টা করছেন। মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে গণসংযোগ, মতবিনিময়, মেজবান ও পোস্টার-ব্যানারে এলাকাবাসীর মন জয় করার সর্বাত্মক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন তারা। অনেকেই আবার বিশাল শোডাউনের মাধ্যমে নিজ নিজ দলের হাইকমান্ড ও জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঈদ-পরবর্তী এই নির্বাচনী তৎপরতায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাই বেশি সক্রিয়। তবে ক্ষমতাসীন হওয়ার সুবাদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি তৎপরতা চালাচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপির নেতাদের তৎপরতাও থেমে নেই। তবে সরকারি হামলা-মামলায় অনেক জায়গাতেই এই তৎপরতা চলছে অনেকটা নীরবে। জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। এর বাইরে ক্ষমতাসীন ১৪ দলের শরিক দল এবং বাম দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বসে নেই। আর উচ্চ আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন গোপনে সক্রিয়।

আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের তফসিল হবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ফলে নির্বাচনের জন্য আর মাত্র চার মাসের মতো সময় বাকি রয়েছে। রাজনীতি-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে এবারের ঈদটিই সর্বশেষ ঈদ হওয়ার কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ব্যাপক ও অস্বাভাবিক মাত্রায় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদ উপলক্ষে যেসব নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় গেছেন- তাদের বেশিরভাগই এখনও এলাকা ছাড়েননি। মূলত এসব নেতার নির্বাচনী তৎপরতার কারণে দেশের প্রায় সব এলাকায়ই আগাম নির্বাচনী আমেজ বইছে।

কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করলেও আগামী নির্বাচনে রাজপথের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও তার মিত্রদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সর্বাত্মক এই নির্বাচন তৎপরতা চলছে তাদের। এই নির্বাচনকে দল ও সরকারের জন্য রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা। আর ঈদের সুযোগ নিয়ে নির্বাচনী তৎপরতা চালানোর এটাকে সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনায় রেখেছেন। এ কারণেই এবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

আবার বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের প্রশ্নটি এখন পর্যন্ত নানা শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ। বিশেষ করে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রশ্নে তাদের দাবির বিষয়টি মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। আবার সারাদেশে সরকারি হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ও রয়েছে। এরপরও তারা নির্বাচনের মাঠ ছাড়তে নারাজ। কেননা, অক্টোবরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে এবং বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে এখনকার নিষ্ফ্ক্রিয়তা নির্বাচনের মাঠে তাদের পিছিয়ে দিতে পারে।

রাজনীতির মাঠের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত রাজধানী ঢাকায় এমন নির্বাচনী তৎপরতা এখন জমজমাট। বিশেষ করে মহানগরীর ১৬টিসহ ঢাকা জেলার ২০টি আসনের দুই শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীই এখন তৎপর। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সব দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীই কমবেশি সক্রিয় রয়েছেন। কমবেশি নির্বাচনী তৎপরতা দেখাচ্ছেন ১৪ দলের শরিক জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টিসহ অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। আর ঈদ শেষেও এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর গণসংযোগ, মতবিনিময়, উঠান বৈঠক ও কর্মিসভা অব্যাহত রয়েছে। এলাকাবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে ঈদের আগে লাগানো পোস্টার-ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ রয়ে গেছে। এর ওপর কেউ কেউ ঈদ শেষে আরেক দফা পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন। এতে বেশিরভাগই দলীয় পদের পাশাপাশি নিজেদের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ অবশ্য নিজেকে সরাসরি সম্ভাব্য প্রার্থী দাবি না করলেও আগামী নির্বাচনে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান সংবলিত পোস্টার-ব্যানার ছেড়েছেন। আর বিএনপি নেতারা নির্বাচনের বিষয়টি উহ্য রেখে পোস্টার-ব্যানারে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এলাকাবাসীকে।

ঢাকার মতো বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বিবেচিত চট্টগ্রামের নির্বাচনী রাজনীতির মাঠেও এখন ঈদের রেশ রয়ে গেছে। নির্বাচনী বছরের শেষ ঈদ হওয়ায় এটিকে প্রচারণার কাজে লাগাচ্ছেন সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা। প্রার্থীদের কেউ ঈদ পুনর্মিলনীর নামে, কেউবা মেজবানের নামে সংগঠিত করছেন নেতাকর্মীদের। আবার জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কেউ কেউ বিয়ে কিংবা মেজবানের মতো অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন আগ বাড়িয়ে। এ জন্য চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীই এখনও এলাকায় রয়ে গেছেন। প্রার্থীদের এমন সরব উপস্থিতি উপভোগও করছেন ভোটাররা। প্রার্থীদের কাছে পেয়ে উল্লসিত এসব ভোটারের কেউ কেউ পছন্দের প্রার্থীদের শোডাউনে অংশ নিয়ে গায়ে লাগাচ্ছেন ভোটের হাওয়া।

একইভাবে ঈদ শেষ হলেও রাজশাহীর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখনও এলাকায় রয়ে গেছেন। তারা নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে ঘুরে নিজের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে নিজ দলের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছেন। এলাকায় অবস্থান নেওয়া অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থীই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। কেউ কেউ আছেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টির। আবার অনেক প্রার্থী একাধিক নাশকতার মামলা নিয়ে এলাকাছাড়া। সবমিলিয়ে বৃহত্তর রাজশাহীর চারটি জেলার প্রতিটি আসনেই অভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। অবশ্য এমপিদের কেউ কেউ ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরে গেছেন।

এদিকে ঈদের পরও তৎপর রয়েছেন খুলনার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এমনকি বিগত বছরগুলোতে যাদের ঈদের সময় একবারও এলাকায় দেখা যেত না, নির্বাচন সামনে রেখে তারাও এখন ঈদের আগে এসে খুলনায় অবস্থান করছেন। খুলনা মহানগরী ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের ঈদ শুভেচ্ছা সংবলিত পোস্টার-ব্যানার। এলাকাবাসীর সঙ্গে গণসংযোগ, মতবিনিময় ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজনও চলছে ঈদের পরদিন থেকে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য বর্তমান এমপি অথবা পুরনো প্রার্থীদের চেয়ে নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতাই বেশি। মূলত তারাই পোস্টার-ব্যানার সাঁটানো অথবা গণসংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে এগিয়ে আছেন। তবে বর্তমান ও সাবেক এমপিরাও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে সময় কাটাচ্ছেন। সবমিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে নির্বাচনী এলাকাগুলোয়।

ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুরেও অভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে শেষ ঈদুল আজহাকে ঘিরে গাজীপুরের ৫টি সংসদীয় এলাকায় বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নানা কৌশলে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছেন। ঈদ শেষেও গণসংযোগ ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাশাপাশি পোস্টার-ব্যানার সাঁটানো ছাড়াও কর্মিসভা ও বর্ধিত সভাসহ নানাবিধ নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এদিকে, ঈদুল আজহা শেষ হলেও সিলেটের রাজনীতিবিদদের মধ্যে ঈদের আমেজ রয়ে গেছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বসে নেই। কুশল বিনিময় ও ঈদ পুনর্মিলনীর মাধ্যমে কৌশলী প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঈদ-পরবর্তী এমন নির্বাচনী তৎপরতায় গোটা সিলেট বিভাগে উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২২টি আসনের অধিকাংশেই ঈদের পরও মানুষের পাশে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সব সম্ভাব্য প্রার্থীই। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে নির্বাচনী মাঠ সরগরম রেখেছেন তারা।

বগুড়ায় ঈদুল আজহার আগে মাঠে নামা মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা এখনও সক্রিয় রয়েছেন। জেলার সাতটি আসনেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছেন। তবে অন্য দলগুলোর চেয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের তৎপরতাই সবচেয়ে বেশি চোখ পড়ছে। এ ছাড়া বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরাও কমবেশি তৎপর রয়েছেন।

সূত্র : সমকাল