নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন


265 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন
এপ্রিল ৬, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

বাংলাদেশের চারদিকে সবুজের সমারোহ, বয়ে যাওয়া নদীর কলতান, পাখির কলকাকলি সব কিছু মিলিয়ে প্রকৃতি অপার এক মহিমা বিরাজ করছে আামাদের এই ভূখণ্ডে।

ইংরেজ ঔপনিবেশ সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভের ডাইভার্ট সিটি হওয়ায় সুন্দরবন নামে অভিহিত করে। দ্বিতীয়ত, সমূদ্রের উপকুলে বনভূমির অবস্থান হওয়ায় হিন্দিতে বলা হত- ‘সামান্ডার’ বন বা সুন্দরবন। তৃতীয়ত, বনভূমির মোট ৭৩ ভাগ সুন্দরী গাছের আধিক্য থাকায় নাম হয়েছে সুন্দরবন। চতুর্থত, প্রতিদিন প্রতি ঘন্টায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ এ বনভূমি তার সৌন্দর্যের রুপ পাল্টায় বলে এর নাম হয়েছে সুন্দরবন।

২০০২ সালে সুন্দরবনের কুমির প্রজনন কেন্দ্রের অবকাঠামো তৈরি হয়। এখানকার করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে গবেষণা হচ্ছে বিশ্বের ২৬ প্রজাতির কুমির নিয়ে। এক সময় আমাদের দেশে ৩ প্রজাতির কুমির ছিল। যার মধ্যে মার্ক ক্রোকেডাইল বা ইন্ডিয়ান মাদার, ঘড়িয়াল কুমির যা পদ্মা নদীতে দেখা যেত। আরেক শ্রেণীর কুমির রয়েছে যা লবণ পানির কুমির নামে পরিচিত। উপরোক্ত দুটি প্রজাতির কুমির ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়েছে। লবণ পানির কুমিরও প্রায় বিলুপ্তির পথে।

বিশ্ব ঐতিহ্যের সুন্দরবন স্বমহিমায় গর্বিত বিশ্বের সর্ববৃহত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে যার সার্থকতা। বিশ্ব ঐতিহ্যের ম্যানগ্রোভ জীব বৈচিত্রে ভরপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরুপ লীলাভূমি সুন্দরবন। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে পশুর নদীর একাংশের তীরে সুন্দরবনের অবস্থান। বনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার।

ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদে ভরপুর বিশ্বের সবচেয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিমে ২টি ডিভিশনের আওতায় ৪টি রেঞ্জে ভাগ করা হয়েছে। এ বনভূমি দেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৫১ ভাগ। সুন্দরবনের রেঞ্জগুলো হল- চাঁদপাই, শরণখোলা, নলিয়ান-খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ। সাতক্ষীরা রেঞ্জের সাথে রয়েছে ভারতের সুন্দরবন রেঞ্জের সীমানা।

বিশাল সুন্দরবন রেঞ্জে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১১শ জন স্টাফ। যা বনাঞ্চল রক্ষা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। প্রকৃতির অপরুপ শোভা নির্ভর এই সুন্দরবনে রয়েছে ৩শ ৩৪টি উদ্ভিদ প্রজাতি, ১শ ৬৫ প্রজাতির আলগি, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, ৩শ ১৫ প্রজাতির পাখি, ২শ ১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ৪২ প্রজাতির মোলাসকাস বা ঝিনুক, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণি, ৩৫ টি রেপটাইল প্রজাতি, ৩৬ প্রজাতির গাছ ও ৩শ ৭৫ প্রজাতির বন্য প্রাণী। বন্য প্রাণির মধ্যে পৃথিবীর একমাত্র রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রাকৃতিক আবাসস্থল এবং সবচেয়ে ঘন বসতি পূর্ণ স্থান সুন্দরবন।

২০০৪ সালের ভারত-বাংলাদেশের যৌথ গণনানুযায়ী ৪৪০টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব দেখা মেলে সুন্দরবনে। এবনে রয়েছে ২ লাখের বেশী বিলুপ্ত প্রায় চিত্রা হরিণের বসবাস। যা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম খাবার। ছোট বড় ৩০ প্রজাতির সাপ রয়েছে সুন্দরবনে। এখানে নানাজাতের মাছের সাথে রয়েছে সাপ-ব্যাঙ আর জলজ উদ্ভিদের নিত্য বসবাস। পানিপূর্ণ বাইক্কা বিলের চারিদিকে শুধুই পানি আর পানি। পানির ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ আর হিজল-করচের ডুবে যাওয়া বনটি যেন নতুন প্রাণ জেগে উঠে বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে। এমন সৌন্দর্যের এক অপরুপ লীলাভূমি পৃথিবীর কোথাও নেই।