ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মহাসড়কে ধান ফেলে প্রতিবাদ


81 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মহাসড়কে ধান ফেলে প্রতিবাদ
মে ১৬, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক
ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মহাসড়কে ধান ফেলে বিক্ষোভ করেছেন রংপুরের কৃষকরা। সেই সঙ্গে আগামী মৌসুমে ধান আবাদ না করার শপথ নিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের সাতমাথা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ধান ফেলে প্রতিবাদ করেন কৃষকরা। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ও হাটে হাটে সরকারিভাবে ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলার দাবি জানান তারা।

নগরীর মডার্ন ঘাঘটপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুস সাত্তার (৬২) বলেন, ‘যে ধানের ভাত খেয়ে আমরা বেঁচে থাকি, আজ সেই ধানের মূল্য নাই। সাড়ে ৪’শ টাকায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ধান আবাদ করে সেই ধানের দাম পাই না। ধানের দাম পায় মধ্যস্বত্ত্বভোগী মিল মালিকরা।’

পূর্ব খাসবাগ এলাকার মতিয়ার রহমান (৫৮) বলেন, ‘ধানের দাম নেই তাই রাস্তায় ফেলে দিয়েছি ধান। এক মন ধান বিক্রি করে, একজন শ্রমিকের টাকা দিতে হয়। এক মন ধান বিক্রি করে এক কেজি মাংস কিনতে পারি না। ধান রাস্তায় ফেলে দিয়েছি, সরকার দেখুক যে কৃষকের কি অবস্থা।’

কাউনিয়ার আলুটারী এলাকার কৃষক আব্দুর গফ্ফার (৩২) বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তা বাজারে বিক্রি করে পেয়েছি ৮ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি লস আমার ২ হাজার টাকা করে। এত লোকসান নিয়ে ধান আবাদ করা সম্ভব না। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা না করে তবে আমাদের ধানের আবাদ বাদ দিতে হবে। সরকারিভাবে যে ধান কেনার কথা ছিল তার আওতায় আমরা নাই, এতে করে ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে কম দামে ধান কেনে। যদি ধানের দাম মন প্রতি ৭’শ থেকে ৮’শ টাকা পেতাম তবে আমাদের কিছু লাভ হতো।’

এ দিকে বোরো মৌসুমে রংপুরে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত মিলারদের কাছ থেকে চালই ক্রয় করছে খাদ্য বিভাগ। এ মৌসুমে জেলার ৯টি গুদামে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ৩ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন ধান, প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ২৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চাল ও ৩৫টাকা কেজি দরে ৭’শ ২৬ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা নেয়া হয়েছে। এজন্য জেলার ৯’শ মিল মালিকের সাথে চুক্তি করেছে খাদ্য বিভাগ।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল কাদের সমকালকে বলেন, ‘কৃষি বিভাগের কাছে যেসব কৃষকের তালিকা রয়েছে সেই কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্য বিভাগ ধান ক্রয় করবে। নির্বাচন কমিটির সভাপতি প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা দেবেন। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হবে।’