পদোন্নতি আছে পদায়ন নেই


103 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পদোন্নতি আছে পদায়ন নেই
নভেম্বর ৬, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

১২ মাস ধরে একই পদে ২৩০ পুলিশ সুপার

অনলাইন ডেস্ক ::

সংখ্যাতিরিক্ত (সুপারনিউমারারি) পদোন্নতির ১২ মাস কেটেছে। কিন্তু নিয়মিত পদে পদায়ন হয়নি ২৩০ জন পুলিশ সুপারের। কাঙ্ক্ষিত পদ না থাকায় তৈরি হয়েছে এই জট। ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে পুলিশের অবসর ও পদোন্নতিজনিত কারণে ১৩০টি পুলিশ সুপারের পদ ফাঁকা হতে পারে। তাই আগামী ৮-১০ বছরেও সুপারনিউমারারি পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২৩০ জনের নিয়মিত পদে পদায়ন সম্ভব নয়। এ ছাড়া ২৫তম ব্যাচসহ অন্যান্য ব্যাচের ২২০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও সন্তোষজনক চাকরিকাল অতিক্রম করেছেন। শূন্য পদ না থাকায় তাদেরও পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক পত্রে বলা হয়, সুপারনিউমারারি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত নিয়মিত পদে পদায়নের ক্ষেত্রে নতুন পদ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সংশ্নেষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২৩০টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ বিলুপ্ত করে সমানসংখ্যক পুলিশ সুপারের পদ তৈরি করা সবচেয়ে সুষ্ঠু ও সহজ সমাধান। এর আগে ২০১৮ সালে ২৫৩ জন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের পদ বিলুপ্ত করে সমানসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ তৈরি করা হয়েছিল। সুপারনিউমারারি পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২৩০ জন কর্মকর্তাকে যেহেতু পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, সেহেতু কোনো আর্থিক সংশ্নেষ ছাড়াই তাদের পুলিশ সুপারের নিয়মিত পদে পদায়ন করা সম্ভব।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ‘সন্তোষজনক চাকরি’ সাপেক্ষে দেশে বিদ্যমান অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদোন্নতিপ্রাপ্তি একটি প্রত্যাশিত বিষয়। বিশেষ করে পুলিশ সুপার থেকে তদূর্ধ্ব পদে। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুপারনিউমারারি পদোন্নতির কারণে পুলিশ কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা, উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পদায়ন না হওয়ায় তাদের কর্মস্পৃহা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাস আগে ২৩০ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ সুপার করা হয়েছিল।

এসপি হিসেবে সুপারনিউমারারি পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৫ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা এরই মধ্যে উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পদে যোগ দিয়েছেন। তবে বিসিএস (পুলিশ) ২৫ ব্যাচের কোনো কর্মকর্তা এখনও সমমান র‌্যাঙ্ক এসপি পদে যোগ দিতে পারেননি।

পুলিশের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুলিশ সদর দপ্তরে মঞ্জুরিকৃত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ রয়েছে ১০৭টি। এর মধ্যে ২২টি পদ বিলুপ্ত করে ২০টি এসপি পদ সৃষ্টি করে সুপারনিউমারারি এসপিদের পদায়ন করা যাবে। এই পদগুলো হলো- এআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-৩, এআইজি (অপারেশন-২), এআইজি (ফিন্যান্স-২), এআইজি (অডিট), এআইজি (মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড পাবলিসিটি), এআইজি (এমটি অ্যান্ড ওয়ার্কশপ), এআইজি (পার্সোনাল সিকিউরিটি ইক্যুপমেন্ট), পরিচালক (পুলিশ অফিসার্স মেস), এআইজি (ইউএন অ্যাফেয়ার্স ট্রেনিং), এআইজি (আইসিটি-২), এআইজি (আইসিটি-৩), এআইজি (ইন্সপেকশন-২), এআইজি (সাপ্লাই-২), এআইজি (প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্স-২), এআইজি (প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর-১), এআইজি (প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর-২), এআইজি (মনিটরিং অ্যান্ড ইভেল্যুয়েশন ডেভেলপমেন্ট), এআইজি (মনিটরিং অ্যান্ড ইভেল্যুয়েশন রেভিনিউ), এআইজি (পিওএইচএস-১) ও এআইজি (পিওএইচএস-২)।

পুলিশের প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) ৪৪ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি পদ বিলুপ্ত করে ১৮টি এসপি পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে। সিআইডিতে ১২টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ বিলুপ্ত করে ৩০টি এসপি এবং পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) চারটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ বিলুপ্ত করে দুটি এসপি পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজে তিনটি, টিঅ্যান্ডআইএমতে চারটি, রেলওয়ে পুলিশে দুটি, হাইওয়ে পুলিশে একটি, শিল্প পুলিশে দুটি, এপিবিএন সদর দপ্তরে দুটি, এইইউতে চারটি, ডিএমপিতে ১৫টি, সিএমপিতে পাঁচটি, কেএমপিতে দুটি, বিএমপিতে চারটি, এসএমপিতে চারটি, জিএমপিতে ছয়টি, রংপুর মেট্রোতে চারটি, ঢাকা রেঞ্জ অফিসে দুটি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে তিনটি, খুলনা রেঞ্জ অফিসে দুটি, রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে দুটি, রংপুর রেঞ্জ অফিসে দুটি, বরিশাল রেঞ্জ অফিসে দুটি, সিলেট রেঞ্জ অফিসে দুটি, ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিসে দুটি, পিবিআইতে ৩৯টি, নৌ পুলিশে চারটি, ট্যুরিস্ট পুলিশে ছয়টি এসপি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, খুলনা ও রংপুর পিটিসিতে একটি করে চারটি এসপি পদ সৃষ্টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম, গাজীপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও পিরোজপুরের ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের সবগুলোতে একটি করে ২৯টি এবং দশম এপিবিএন খাগড়াছড়ির ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে একটি এসপি পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।