পদ্মা সেতু : ষড়যন্ত্রকারীদের খোঁজার অগ্রগতি জানাতে সময় পেল সরকার


288 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পদ্মা সেতু : ষড়যন্ত্রকারীদের খোঁজার অগ্রগতি জানাতে সময় পেল সরকার
মার্চ ২০, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিটি বা কমিশন গঠনের অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৭ মের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জারি করা এক রুলের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, রুলের বিবাদী মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, যোগযোগ সচিব, দুদক চেয়ারম্যান ও আইজিপিকে ৭ মের মধ্যে এবিষয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই বেঞ্চ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মিথ্যা  গল্প ফাঁদার নেপথ্যের প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে  কমিটি বা কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা সরকারের কাছে জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

২০১১ সালের এপ্রিলে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি হয়। সেতুর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দরপত্রে অংশ নেওয়া এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক ২০১২ সালের ২৯ জুন পদ্মা সেতুতে ঋণচুক্তি বাতিল করে। সরকারের অনুরোধে একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর এ প্রকল্পে পুনরায় সম্পৃক্ত হতে রাজি হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থায়ন করতে অসম্মতি জানায় সংস্থাটি। তবে এর আগে বিশ্বব্যাংকের শর্তের কারণে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়। সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ওএসডি করা হয়। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের নামও দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। নানা টানাপড়েনের পর ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শেষ পর্যন্ত সরকারই বিশ্বব্যাংককে ‘না’ বলে দেয় এবং নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তাদের বাদ দিয়েই নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ তদারকির পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে এসএনসি-লাভালিনের কর্মীরা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে মামলা হয়েছিল কানাডার আদালতে। আদালত এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ না পেয়ে কানাডীয় প্রকৌশল ফার্ম এসএনসি-লাভালিনের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে খালাস দিয়েছেন। অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট সম্প্রতি এ রায় দেন। গত শুক্রবার রায়টি প্রকাশিত হয়। আদালতের এ রায়ের ফলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলো। বিশ্বব্যাংকের চাপে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) একটি মামলা করেছিল। ২২ মাস তদন্ত শেষে দুদকের তদন্তকারীরা ২০১৪ সালে জানিয়ে দেন, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ তারা পাননি। দেশে-বিদেশে কোনো আদালতেই পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি।