পরিবেশ বান্ধব উন্নয়ন


1074 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পরিবেশ বান্ধব উন্নয়ন
জুন ৩, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিজয় মন্ডল ::

পরিবেশ এবং উন্নয়নের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে, পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নের মধ্যে দিয়েই কোন দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। অন্যথায় পরিবেশের ক্ষতি করলে, পরিবেশ বিপর্যয়ে সকল উন্নয়ন থমকে যেতে পারে।

পরিবেশ আমাদেরকে কত কিছুই দিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। পানি, মাটি, বায়ু, জীব জগতের বেঁচে থাকার জন্য বৃক্ষ এবং তা থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন- সব কিছুই। এক কথায় পরিবেশ আমাদের মানব সম্প্রদায়ের পৃথিবীতে টিকে থাকার সব রকম ব্যবস্থা করেছে।

এই পরিবেশ ও মানুষের সম্পর্কের মধ্যে ‘সম্ভাবনাবাদ’ একটি উল্লেখযগ্য মতবাদ। এ মতবাদে বলা হয়েছে, পরিবেশ মানুষের সামনে অনেকগুলো সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। মানুষ ইচ্ছেমতো তার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু পরিবেশ থেকে গ্রহণ করতে পারবে। বা পরিবেশকে ব্যবহার করতে পারবে।

তবে মানুষের যথেচ্ছারের জন্য পরিবেশের ক্ষতিসাধনও হতে পারে, পরিবেশের পরিবর্তন ঘটতে পারে। সেকারণে অনেক পরিবেশ বিজ্ঞানী সম্ভাবনাবাদ ধারনার সমার্থন করেনি।

যাহোক, বর্তমান সভ্যতায় পরিবেশের কোন ক্ষতি হোক বা না হোক সেদিকে কোন রকম নজর না দিয়ে আমরা চরম সম্ভাবনাবাদের জন্ম দিয়েছি পরিবেশকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে।

যে কারনে দিনে দিনে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ ও হচ্ছে বিরূপ। নানা রকম দূর্যোগ হানা দিচ্ছে প্রতি বছর:

বিভিন্ন সমীক্ষায় বলা হচ্ছে এভাবে মানুষ পরিবেশ অবক্ষয় করতে থাকলে আগামী দু-একশো বছরের মধ্যে পৃথিবী মানুষের বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়বে।

এসব বিষয়কে মাথায় নিয়ে বিগত কয়েক দশক থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত, উন্নয়নশীল, এবং অনুন্নত দেশ পরিবেশ সুরক্ষায় ঐক্যমত পোষন করেছে। বিভিন্ন দেশ পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নতুন নতুন আইন তৈরি ও বাস্তবায়ন করছে।

বাংলাদেশও পরিবেশ দূষণ রোধ বা পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নানা আইন তৈরি করেছে। কিন্তুু দূর্ভাগ্যবশত আমরা অনেকেই সেসব আইন ভংঙ্গ করে পরিবেশের অপব্যবহারে অভ্যস্ত।

বর্তমানে পরিবেশের অপব্যবহার যেমন থেমে নেই। তেমনি ভাবে পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নও থেমে নেই। আমাদের জন্যই সুস্থ পরিবেশ এবং দেশের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন ব্যাপক প্রয়োজনীয়।

আর তাই মানুষ পরিবেশ সম্পর্কের ন্যায় পরিবেশ এবং সমাজের উন্নয়নের মধ্যে গভীর সম্পর্কের কথা বলেছেন অনেকেই। তাদের ভাষ্য- পরিবেশের যে কোন সমস্যা সমাধান করতে হলে, সমগ্র সমাজের উপর পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলাফল এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি সমাজের মানুষের সাড়ার কথা বিচার বিবেচনা করতে হবে।

কিন্তুু আসল কথা হলো, আমাদের দেশের অনেক জনপ্রতিনিধিরাই পরিবেশ নিয়ে কোন চিন্তাই করেননা। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের বিষয়তো একেবারেই অন্যরকম। পরিবেশের প্রতি তাদের কোন দৃষ্টিই থাকে না।

কোন এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করতে না পারার দায়তো সে এলাকার এলিট বা জনপ্রতিনিধিদের উপরেই বর্তায়।

এদিক থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার এমপিকে দায়মুক্ত বলা যায়। কারন সে নিজ নির্বাচনী এলাকায় নানামূখী উন্নয়ন ও পরিবেশ বান্ধব উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম করে যাচ্ছেন।

৩-৬-২০১৮ তারিখ, রবিবার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা শ্যামনগর, উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে সড়ক আলোকিত করতে নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সোলার লাইট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব একটি বড় উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক বিশেষ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিখা/টিআর) কর্মসূচীর আওতায় স্ট্রীট লাইট স্থাপনের এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন তিনি।

সেই সাথে একই প্রকল্পের আওতায় এলাকার গরীব দুঃস্থ, অসহায় পরিবারের মাঝে সৌর সিস্টেম ও টিন বিতরন করেন।

এসময় তার সাথে ছিলেন, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরূজজামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সেলিম খাঁন, শ্রমিক নেতা নূর মোহাম্মাদ মানিক, আওয়ামীলীগ নেতা জি এম রেজাউল করিম প্রমূখ।

এ সৌর শক্তির সড়কবাতি/স্ট্রীট লাইট স্থাপনের মধ্যে দিয়ে একদিকে যেমন অনবায়নযগ্য জ্বালানি দারা উৎপাদিত প্রচলিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে তেমনি, রাতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সড়ক আলোকিত করবে এ ব্যবস্থা।

সাংসদ জগলুল হায়দার শুধু তার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা আলোকিত করতে নবায়নযগ্য শক্তির সোলার লাইট স্থাপন করলেন তা নয়।

সেই সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তনয়া বিশ্ব নন্দিত জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০৪১ এর একটি অন্যতম বিষয় অনবায়নযগ্য শক্তির ব্যবহার কমিয়ে ব্যাপকভাবে নবায়নযগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অবদান রাখলেন।

সার্বিক বিষয়ে সাংসদ জগলুল হায়দার বলেন, আমাদের প্রত্যেককে পরিবেশকে নিয়ে ভাবতে হবে। পরিবেশ বান্ধব কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো।