পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪


50 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪
জুন ৯, ২০১৯ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সন্দেশখালি এলাকার ন্যাজাটে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে জানা গেছে।

রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর দাবি, স্থানীয় তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাহিনী শনিবার সন্ধ্যায় হামলা চালায়। প্রথমে ওই এলাকায় তৃণমূলের বৈঠক হয় এবং বৈঠক শেষে বিজেপির পতাকা খুলতে শুরু করে তৃণমূল কর্মীরা। তার থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

এদিকে জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পাল্টা অভিযোগ করেন, বৈঠক শেষে মিছিল শুরু করেছিল তৃণমূল। সেই মিছিলে হামলা চালিয়ে তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লাকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়।

বিজেপি জ্যোতিপ্রিয়র অভিযোগ মিথ্যা জানিয়ে বলেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে গুলি করা হয়েছে বিজেপি কর্মীদের। তাতে অন্তত তিন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। জখম ও নিখোঁজ আরও অনেকে।

বেপরোয়া গুলি চালানোর সময়ে তৃণমূলের গুলিতেই তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লা নিহত হয়েছে বলে বিজেপির দাবি।

তৃণমূলের একটি সূত্র জানায়, এদিন বিকেলে ন্যাজাটে তাদের বুথ স্তরের দলীয় বৈঠক ছিল। পরে একটি মিছিল বের করলে বিজেপি হামলা চালায়। মিছিলের পেছনে থাকা তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লাকে প্রথমে গুলি করা হয় এবং পরে টেনে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে মারা হয়। এরপরেই প্রতিরোধে নামে তৃণমূল।

বিজেপির দাবি, তৃণমূলই প্রথম তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় দলের তিন কর্মী নিহত হয়েছেন, দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিজেপির জেলা সভাপতি গণেশ ঘোষ বলেন, কর্মীসভার নাম করে তৃণমূল মারধর, ভাঙচুর চালাচ্ছিল। আমাদের পতাকা ছিড়ে দেয়। প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষ বাধে।

নিহতেরা হলেন প্রদীপ মণ্ডল, তপন মণ্ডল এবং সুকান্ত মণ্ডল।

বিজেপির আরও দুই কর্মী নিহত হয়েছে দাবি করে রাতে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু জানান, সংঘর্ষে তাদের দলের পাঁচ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। বাকি দু’জনের দেহ পুলিশ সরিয়ে ফেলেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিজেপির দু’জন নিহত হয়েছেন।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দলের তরফে প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, রাতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফোন আসে রাজ্য বিজেপি নেতাদের কাছে। ঘটনার বিশদ রিপোর্ট জেনে নেয় দিল্লি।

মুকুল রায় টুইট করে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাবে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। রাজ্য বিজেপি রোববার সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে বৈঠকে বসবে। সন্দেশখালিতে রাজ্য বিজেপির প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে। দিল্লি থেকেও দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠানো হতে পারে। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে সন্দেশখালির ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছেন মুকুল রায়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে গেলেও প্রথমে সেখানে ঢুকতেই পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বসিরহাট থানা থেকে পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।