পাঁচ গ্রামের বেশি ইয়াবা বহন-সেবনে মৃত্যুদণ্ড


420 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাঁচ গ্রামের বেশি ইয়াবা বহন-সেবনে মৃত্যুদণ্ড
অক্টোবর ৯, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
মাদকের পৃষ্ঠপোষকতা, পাঁচ গ্রামের বেশি ইয়াবা, ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের পাশাপাশি সেবন করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন-২০১৮ খসড়া এবং বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনও দেওয়া হয়। ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দনও জানায় মন্ত্রিসভা।

বৈঠকের পর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি সারাদেশে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়া ইয়াবার বিষয়ে আইনে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। ইয়াবা, সিসাবার ও ডোপ টেস্টসহ সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এমন কোনো বিষয় নেই যা এ আইন কভার করবে না।

সচিব বলেন, পাঁচ গ্রামের বেশি ইয়াবা বহন, বিক্রি ও চোরাচালানে যুক্ত থাকলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বনিম্ন সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাঁচ গ্রামের কম বহনে থাকছে সর্বোচ্চ ১৫ বছর ও সর্বনিম্ন ৫ বছর কারাদণ্ড। একই সঙ্গে মাদকের পৃষ্ঠপোষক, মদদদাতা, অর্থ জোগানদাতা ও প্ররোচনাকারীদেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের আগের আইনটি ১৯৯০ সালে করা। ২৮ বছরের পুরনো আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী সব সাম্প্রতিক আইনের সমন্বয়ে নতুন খসড়া করা হয়েছে। এ আইনে বিশ্বের সব মাদক উপাদান যুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যে কোনো পানীয়তে যদি পাঁচ শতাংশ বা এর বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে তাহলে সেটি বিয়ার হিসেবে গণ্য হবে। এ জাতীয় পণ্য বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্সের কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে এক লাখ টাকা জরিমানা হবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন: ১৯৬৭ সালের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইনটিকে আপডেট করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমানে ১৪ সদস্যের পরিচালনা বোর্ড এটি পরিচালনা করে। নতুুন আইনে বোর্ডের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ২০ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। বোর্ডের বৈঠকে কোনো বিষয় অনুমোদন করতে হলে এক-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকতে হবে। বর্তমান আইনে বোর্ডের কোনো সচিব পদ নেই। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব পদে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। আগের আইনের কিছু বিষয়কে ‘অতিরিক্ত’ বিবেচনায় বাদ দেওয়া হয়েছে।

শ্রম আইন: শ্রমিক-মালিকদের নানা বিষয়ে পরিবর্তন এনে গতকাল ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যপদ কমানো হয়েছে। এতদিন ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন না পেলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যেত না। সংশোধিত শ্রম আইনে ২০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন পেলেই ইউনিয়ন গঠন করা যাবে। ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধনের আবেদন পাওয়ার ৫৫ দিনের মধ্যে সরকারকে নিবন্ধন দিতে হবে। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে এক মাসের মধ্যে শ্রম আদালতে আপিল করা যাবে। চূড়ান্ত খসড়া আইনে মালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন অসদাচরণের বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়েছে।

শফিউল আলম বলেন, কোনো মালিক শ্রমিকের চাকরির চুক্তিতে ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানে নিষেধাজ্ঞা, ইউনিয়নে সদস্যপদ চালু রাখার অধিকারের ওপর কোনো বাধা সংবলিত কোনো শর্ত আরোপ করতে পারবেন না। মালিক এ বিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তি পাবেন। বেআইনি ধর্মঘট ডাকার দণ্ড এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। জরিমানা আগের মতোই পাঁচ হাজার টাকা রয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলোচনা হয়নি: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আলোচনার কথা থাকলেও সোমবারের বৈঠকে তা করা হয়নি। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন কি-না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এ নিয়ে কেউ কোনো বিষয় উপস্থাপন করেনি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে সরকারের তিন মন্ত্রীর বৈঠক হয়। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদ আপত্তি জানিয়েছে। তাদের আপত্তিগুলো মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।