পাইকগাছার আবিরণের পরিবারের পাশে ইউএনও


352 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছার আবিরণের পরিবারের পাশে ইউএনও
নভেম্বর ২৩, ২০১৯ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

বুলবুলির পর এবার সৌদি আরবে নিহত আবিরনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাইকগাছার মমতাময়ী ইউএনও জুলিয়া সুকায়না। তিনি শনিবার সকালে আবিরনের বাড়ীতে গিয়ে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় এর জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরণের আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস প্রদান করেন। আবিরন উপজেলার রামনগর গ্রামের আনসার সরদারের মেয়ে। চলতি বছরে মার্চ মাসের দিকে সৌদি আরবে গৃহ কর্মী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় আবিরনকে হত্যা করা হয়। আবিরনের বোন রেশমা জানান, আমরা ৬ বোন। যার মধ্যে আবিরন দ্বিতীয়। পরিবারের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী তালা উপজেলার রবিউল মোড়ল নামে এক দালাল বোন আবিরনকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে গৃহকর্মীর কাজ দিবে বলে ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই সৌদি আরবে পাঠায়। এ জন্য সে আমাদের কাছ থেকে নগদ ২৬ হাজার টাকা নেয়। পরে বোনের কাছ থেকে কত টাকা নেয় সেটা আমরা জানতে পারেনি। ওখানে যাওয়ার ১৫ দিন পর বোন আমাদের ফোন করে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে। যে বাসায় সে রয়েছে সেখানে তার উপর প্রচন্ড নির্যাতন করা হচ্ছে বলে আমাদের জানায়। যাওয়ার আগে প্রতি ১৫ দিন পর পর ফোনে যোগাযোগ করার কথা থাকলেও তাকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। বিষয়টি রবিউলকে অবহিত করলে দেশে ফেরত আনার জন্য সে আমাদের কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবী করে। এরপর আমরা সরকারি বড় অফিসার পরিচয় দিয়ে নিপুন চন্দ্র গাইন নামে যে ব্যক্তি আমার বোনকে পাঠানোর ব্যাপারে সহযোগিতা করেছিল তার সাথেও যোগাযোগ করলে ২ বছরের আগে তাকে দেশে আনা যাবে না বলে জানায়। ওখান থেকে কোন টাকা-পয়সা দেশে পাঠাতো না। অপরদিকে, প্রতিনিয়ত সেখানে নির্যাতিত হতে থাকলে বিষয়টি বার বার রবিউলকে অবহিত করলে রবিউল আমাদেরকে পরামর্শ দেয় তোমার বোনকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার ভয় দেখাতে বল বাড়ির মালিককে। এরপর সরকারিভাবে জানতে পারি চলতি বছরের ২৪ মার্চ বোন আবিরনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যু সনদে ১৭ জুলাই উল্লেখ রয়েছে। মারা যাওয়ার পর প্রায় ২ মাস পর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে দেওয়া একটি নম্বরে যোগাযোগ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বোন মারা গেছে বলে জানায়। পরে সরকারিভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হই। ২৩ অক্টোবর সরকারি খরচে বোনের লাশ দেশে আনা হয়। প্রথম চিঠিতে মৃত্যুর রহস্য জানা যায়নি উল্লেখ করা থাকলেও লাশের সাথে পাঠানো কাগজে উল্লেখ রয়েছে তাকে খুন করা হয়েছে। ২৪ অক্টোবর গ্রামের বাড়িতেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় যাতে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হয় এ জন্য রবিউল সহ অনেকেই আবিরণ পরিবারকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিচ্ছে এমন খবর পেয়ে শনিবার সকালে ইউএনও জুলিয়া সুকায়না ছুটে যান আবিরণের বাড়ীতে। এ সময় আবিরণের শোকাহত পরিবার আবেগ আফ্লুত হয়ে পড়লে ইউএনও তাদের পাশে থেকে এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরণের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সাথে তিনি আবিরণের পরিবারকে ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার, জেলা জনশক্তি ব্যুরোর উপ-সহকারী পরিচালক রুমা পারভীন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

#