পাইকগাছার খাল-বিল ও চিংড়ি ঘেরে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার


343 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছার খাল-বিল ও চিংড়ি ঘেরে অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার
ডিসেম্বর ১, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছায় অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার। এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের এবং আমন ফসলের ক্ষেত থেকে শিকারীরা এসব অতিথি পাখি শিকার করছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিকারীদের বিরুদ্ধে দু’একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও সঠিক তদারকি না থাকায় শিকারীরা তৎপর রয়েছে পাখি শিকারে।

উল্লেখ্য, শীতের শুরুতেই শীত প্রধান দেশগুলো থেকে এলাকায় আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। এসব অতিথি পাখিদের জন্য এলাকায় নেই তেমন কোন নিরাপদ অভায়াশ্রম। ফলে শিকারীদের হাতে ধরা পড়ছে শীত প্রধান দেশগুলো থেকে আসা অতিথি পাখিরা। তবে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের জাপান প্রবাসী ভাই শামীম হোসেন পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে। পৌর সদর থেকে কয়রার দিকে যাইতে শিববাটী ব্রীজ পার হয়ে অল্প কিছুদূর যাওয়ারপর নির্মাণাধীন কৃষি কলেজের বিপরীত পাশে শামীম হোসেনের ইব্রাহীম গার্ডেন নামে একটি বনায়ন রয়েছে। দিন শেষে সন্ধ্যার পর থেকে বালিহাঁস, দলকচু, খয়েরী ও দেশীয় বক সহ এলাকার হাজার হাজার পাখি এখানে এসে আশ্রয় নেয়। রাতভর এ সব পাখি নিরাপদে থাকলেও সকালে খাদ্যের সন্ধ্যানে বের হওয়ারপর ধরা পড়ছে শিকারীদের হাতে। অত্র এলাকার বয়রা, কচুবুনিয়া, বাসাখালী, বাইসারাবাদ, তেঁতুলতলা, লতা, হানিমুনকিয়া, বাহিরবুনিয়া, দেলুটি, সোলাদানা, চকবগুড়া, খড়িয়া, অকাইবাসী, ঠাকুনবাড়ী, আমিরপুর, বাইনবাড়ীয়া, কুমখালী ও পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের রয়েছে। সকাল হলেই পাখিরা এসব স্থানে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ সময় ঘেরের লোকজন সহ সাধারণ শিকারীরা পূর্ব থেকেই ওই সব স্থানে বিভিন্ন মাছ ও ফড়িং জাতীয় প্রাণীতে বিষ মিশিয়ে রাখে। কোথাও কোথাও পেতে রাখা হয় ফাঁদ। এভাবেই শিকারীরা প্রতিদিন ফাঁদ ও বিষ টোপ দিয়ে পাখি শিকার করে চলেছে। বাতিখালী বনায়ন সমিতির অধ্যাপক জিএমএম আজাহারুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর শীতের শুরুতেই শীত প্রধান দেশগুলো থেকে অসংখ্য প্রজাতির অতিথি পাখি এলাকায় আসে। এরা মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করে। তবে এদের থাকার জন্য তেমন কোন নিরাপদ আশ্রয়স্থল নাই। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি আমাদের বনায়নটি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল করার জন্য। আজাহারুল ইসলাম বলেন, পাখিরা রাতের চেয়ে দিনের বেলায় বেশি অনিরাপদে থাকে। বিশেষ করে রাতের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে সকালে যখন খাবারের সন্ধ্যানে বেরিয়ে পড়ে তখন তারা শিকারীদের কবলে পড়েন। বেশিরভাগ শিকারীরা পেশাদারী না হওয়ায় এরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা ফাঁদ ও বিষ টোপ ব্যবহার করে পাখি শিকার করে। পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের তদারকি সহ জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবী জানান বনায়ন সমিতির এ নেতা।

এ ব্যাপারে থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, থানা পুলিশ পাখি শিকার বন্ধে সবসময় তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু শিকারীকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সচেতন এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান থানা পুলিশের এ কর্মকর্তা।

##