পাইকগাছার ঘোষখালী নদীর শতভাগ সুফল পাচ্ছে এলাকাবাসী


110 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছার ঘোষখালী নদীর শতভাগ সুফল পাচ্ছে এলাকাবাসী
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

উৎপাদন হচ্ছে কৃষি ফসল, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে হাজার হাজার পরিবার

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকাগাছার আলোচিত ঘোষখালী বদ্ধ নদীর সুফল ভোগ করছে গড়ইখালী ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ। যার মধ্যে ৫হাজার পরিবার সরাসরি নদীর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। এছাড়া নদীর দু-পাড়ে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে কৃষি ফসল উৎপাদন করছে এলাকার সকল কৃষকরা। বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আব্দুস সালাম কেরু নদীটি দখল ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করে কৃষি ফসল উৎপাদন ও জনসাধারণের স্বাধীনভাবে মাছ ধরা নিশ্চিত করেছেন। ফলে একসময়ের অভিশপ্ত ঘোষখালী নদীটি বর্তমানে এলাকাবাসী আশির্বাদ হিসেবে দেখছে। সূত্র মতে, উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গড়ইখালী ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ঘোষখালী (বদ্ধ) নদী। নদীটি ইউনিয়নের শান্তা বাজার সংলগ্ন শিবসা নদীর সাথে যুক্ত হয়ে কয়রা উপজেলার অংশে গিয়ে ঠেকেছে। নদীর উপর নির্ভর করে পাইকাগাছার গড়ইখালী, চাঁদখালী ও কয়রার আমাদী এবং মহেশ^রীপুর ইউনিয়নের কৃষি ফসল উৎপাদন ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা। নদীটি একসময় এলাকার প্রভাবশালী মহল ইজারা নিয়ে নেটপাটা দিয়ে মাছ চাষ করাসহ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে এলাকাবাসী নদীর সুফল থেকে বঞ্চিত ছিল। বেশ কয়েক বছর আগে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে নদীটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত করা হয়। উম্মুক্ত করা হলেও প্রভাবমুক্ত না হওয়ায় এর পুরোপুরি সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত থেকে যায় জনসাধারণ। বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম আব্দুস সালাম কেরু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নদীর শতভাগ সুফল যাতে জনসাধারণ ভোগ করতে পারে এজন্য তিনি দখলমুক্ত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। যার মধ্যে লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ, মিষ্টি পানি আটকিয়ে রাখা ও নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা অন্যতম। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করায় ইউনিয়নের সকল শ্রেনীর মানুষ এর সুফল পাচ্ছে। যেমন: শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টি পানি আটকিয়ে রাখায় এবছর রবি মৌসুমে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কয়েকগুন বেশি তরমুজ ও সবজি চাষ হয়েছে। রবি ফসল উৎপাদন করে এবছর এলাকার কৃষকরা অধিক লাভবান হয়। এছাড়া নদীতে সরাসরি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে ৫হাজার পরিবার। নদীর দুপাড়ের প্রায় প্রতিটি পরিবার তাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় মাছ অত্র নদী থেকে সংগ্রহ করে থাকে । চলতি বর্ষা মৌসুমে দেশের কৃষকরা যখন বৃষ্টির জন্য দিশেহারা ঠিক এমন পরিস্থিতিতে এলাকার কৃষকরা ঘোষখালী নদীর পানি ব্যবহার করে বীজতলা তৈরি করাসহ আমন ফসল রোপন করেছে। বাইনবাড়িয়া এলাকার স্বপন কুমার জানান নদীর মিষ্টি পানি দিয়ে এবছর আমার মতো অত্র এলাকার কৃষকরা রবি ফসল উৎপাদন এবং আমন ফসল চাষাবাদ করেছে। এলাকার প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে এই নদীর কারনে। ফকিরাবাদ গ্রামে রাজু শেখ বলেন আমি প্রতিদিন নদী থেকে যে মাছ ধরি তা বাজারে প্রায় একহাজার টাকা বিক্রি হয়। মনিরুল ইসলাম শেখ জানান নদীর মাছ ধরে আমার যেমন সংসার চলে, তেমনি প্রায় প্রতিটি পরিবারের মাছের চাহিদা পূরণ হচ্ছে এই নদী থেকে। কলিম শেখ জানান আমরা সারাবছর নদী থেকে মাছ ধরি, তবে জৈষ্ঠ্য মাস থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত বেশি মাছ পাওয়া যায়। রাবেয়া বেগম বলেন আমার মতো অনেক নারী নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাজমুল হোসেন জানান হরিণা, চালী, গলদা, রুই, কাতলা, মাগুর, চিত্রা, টেংরা, টাকি, কই ও কাকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নদীতে পাওয়া যায়। সোহরাব শেখ বলেন নদীটি একসময় প্রভাবশালী মহল তাদের ইচ্ছামত ব্যবহার করতো যার ফলে আমাদের মতো যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো তাদের দুঃখ কষ্ট দেখার মতো কেউ ছিল না। বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস সালাম কেরু প্রভাবমুক্ত করায় নদীর সুফল আমরা ইউনিয়নবাসী সবাই পাচ্ছি। মোঃ সেলিম জানান নদীর প্রধান স্লুইচ গেট সংস্কার এবং নদী খনন সহ নদীতে পর্যাপ্ত পরিমানে মাছের পোনা অবমুক্ত করা গেলে এলাকার মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হবে। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু জানান নদীটি ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অত্র নদীর উপর নির্ভর করে ইউনিয়নের কৃষিসহ মৎস্যজীবীদের জীবনমান। তিনি বলেন আমি নির্বাচিত হওয়ার পর নদীর সুফল যাতে এলাকার মানুষ শতভাগ পায় এজন্য লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ রাখার জন্য নদীর পানি লবণ হওয়ার পূর্বেই বাঁধ দিয়ে মিষ্টি পানি আটকে রাখি। যে পানি দিয়ে এলাকার কৃষকরা রবি ফসল উৎপাদন এবং আমন বীজতলা তৈরি এবং ধান রোপন করেছে। এছাড়া নদীতে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করি। যে মাছ এখন এলাকার গরিব মৎস্যজীবী পরিবার আহরণ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। নদীটি রাজনৈতিক প্রভাব এবং দখল মুক্ত রাখায় এখন আর এলাকার কোন গরিব কিংবা সাধারণ মানুষ নির্যাতিত হয় না, এলাকার সকল শ্রেনীর মানুষ বর্তমানে নদীর শতভাগ সুফল ভোগ করছে।