পাইকগাছার পাবলিক লাইব্রেরী ও যাদুঘরের বেহালদশা


341 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছার পাবলিক লাইব্রেরী ও যাদুঘরের বেহালদশা
নভেম্বর ২, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস.এম. আলাউদ্দিন সোহাগ ॥
কর্তৃত্ব নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দ্বন্দ্বের কারণে খুলনার পাইকগাছার পাবলিক লাইব্রেরী ও যাদু ঘরের করুণ অবস্থা দেখা দিয়েছে। লাইব্রেরী প্রাঙ্গণ ও বারান্দায় গরু-ছাগলের বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

খুলনা জেলার পাইকগাছা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যখ্যাত পাইকগাছা পাবলিক লাইব্রেরী ও যাদুঘর। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. স.ম. বাবর আলী, রাড়–লী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও গাজী মিজানুর রহমান মন্টু ওই লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন। ৫ হাজার টাকায় ২০০ আজীবন সদস্য ও ২শ বই নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে বইয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজারের মত।

শহীদ এম.এ গফুর মিলনায়তনে লাইব্রেরীর উদ্বোধন হয়। বর্তমানে অনেকগুলো বই চুরি ও নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা যায়। প্রতিষ্ঠানের নামে পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র আদালত চত্ত্বর এলাকায় ০.১৩১১ একর জমি ক্রয় করা হয়। যেখানে তৈরী করা হয় ২কক্ষ বিশিষ্ট ১ তলা ভবন। ভবনটির দোতলার কাজ শুরু করলেও ১৬-১৭ বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। ভবনের অনেক অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।

ভাঙ্গাচুরা ১৩টি আলমারী, ২০টি চেয়ার, ৩টি টেবিল যা সবই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।  প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫হাজার বই কেনা হলেও পরে এখানে আর নতুন করে কোন বই সংযুক্ত করা হয়নি বলে সাবেক লাইব্রেরিয়ান কল্লোল মল্লিক জানান।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২-৩শ পাঠকের আনাগোনা থাকলেও বর্তমান যা পাঠকশূন্য হয়ে পড়েছে। কোন কোন দিন ২/১ জন পাঠক অতি প্রয়োজনে গেলেও অধিকাংশ সময় থাকে পাঠকশূন্য। চুরি হয়েছে অনেক বইপুস্তক। ৫টি জাতীয়, ৫টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র নেয়া হতো।

সংরক্ষণ করা হতো বিভিন্ন প্রকার নিয়োগ, টেন্ডার সহ গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি সমূহ। বর্তমানে তা রক্ষণাবেক্ষণের খুবই অভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমান লাইব্রেরিয়ান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২ বছর আগে আমাকে পৌরসভার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এখানে এসে যা পেয়েছি তা নিয়েই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালের ১৮ আগস্ট পৌরসভা অলিখিতভাবে লাইব্রেরি ও যাদুঘর দেখাশুনার দায়িত্ব পান। উপজেলা পরিষদ

লিখিতভাবে হস্তান্তর না করায় অবকাঠামো কোন পরিবর্তন করা বা যাদুঘরের স্মৃতি নিদর্শন রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী বলেন, যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলাম আমি দায়িত্বে না থাকার কারণে তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পৌরসভা দায়িত্ব পেয়েও কোন কিছু করছে না। যা কিছু আছে সবই ধ্বংস হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাইব্রেরির বারান্দায় ও প্রাঙ্গণ গরু-ছাগলের বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হয়, এটি গোয়াল ঘরে পরিণত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ-উল-মোস্তাক জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছি।

এ ব্যাপারে তেমন কিছু জানি না। তবে বিস্তারিত জেনে যাতে সুন্দরভাবে লাইব্রেরী গড়ে তোলা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
##

পাইকগাছায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ব্যাহত

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় লোকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম-দূর্নীতি এবং মামলা-মোকদ্দমার কারণে খুলনার পাইকগাছায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি বার বার ব্যাহত হচ্ছে। ফেরৎ গিয়েছে প্রায় ৭শ মেট্রিক টন চাল। এতে প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারগুলো এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানাগেছে, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে কপিলমুনি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে একবার খাদ্য কর্মসূচি সফল হলেও ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য কমিটির নামে মামলা, স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির কারণে থানায় মামলার কারণে সেপ্টেম্বর মাসের কর্মসূচি বাতিল হয়।

২য় বার মাসিক মিটিংএ গত ১৬ অক্টোবর সকল ইউনিয়ন থেকে সংশোধনী তালিকা জমা দেয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ ইউনিয়ন থেকে তা জমা পড়েনি। একই সাথে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে বলা হলেও এ পর্যন্ত ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গড়ইখালী, কপিলমুনি, চাঁদখালী, লতা ও লস্কর ইউনিয়ন জমা দিলেও অন্যগুলো এখনও জমা পড়েনি।

১নং হরিঢালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজুর সাথে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের তালিকা প্রণয়নে দ্বন্দ্বের কারণে কোন তালিকা জমা না দেয়ায় উপজেলা খাদ্য কমিটি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে শোকজ করেন। এখনও পর্যন্ত কোন জবাব দেয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত সোমবার খাদ্য কমিটির অপর এক জরুরী সভায় ২য় বারের কর্মসূচি বাতিল করে আগামী ৩নভেম্বর পুনঃরায় অঙ্গীকারনামা সহ সকল শর্ত পূরণ করে তালিকা জমা দেয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে বলা হয়।

দেখা গেছে, গত ২ মাসের সুফল থেকে ১০টি ইউনিয়নের ১৩ হাজার ১২৩টি কার্ডের বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৯৩ মেট্রিক টন ৬শ ৯০ কেজি চাল ফেরৎ গেছে।

এদিকে চাঁদখালী, সোলাদানা ও লস্কর ইউনিয়নের কয়েকজন জনপ্রতিনিধির স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী অভিযোগের সকল বিষয়ে স্বীকার করে বলেন, ইতিমধ্যে আমি কপিলমুনি ইউনিয়নের ডিলার দেলোয়ার খান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আজিজুর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় ১৩/১৬ নং মামলা করেছি।

এছাড়া উপজেলা সহকারী জজ আদালতে লতা ইউনিয়নের বিধান রায় বাদী হয়ে উপজেলা খাদ্য কমিটিকে বিবাদীকে দেঃ ১৮২/১৬ নং মামলা দায়েরের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. স.ম. বাবর আলী বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে কিছু সমস্যা ছিল। যা সোমবারের মিটিংএ ছাটাই-বাছাই করা হয়েছে। এ মাস থেকে কর্মসূচি কার্যকর হবে বলে আশা করছি।
##