পাইকগাছার বীর প্রতীক রহমত উল্লাহ দাদু ও শিল্পপতি ফসিয়ারের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের গভীর শোক


867 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছার বীর প্রতীক রহমত উল্লাহ দাদু ও শিল্পপতি ফসিয়ারের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের গভীর শোক
আগস্ট ১১, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
সাড়ে ৮ ঘন্টার ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেছেন পাইকগাছার বিশিষ্ট দুই ব্যক্তি। বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও সাবেক সিআইপি আলহাজ্ব ফসিয়ার রহমান (৫৯) বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন দুরারোগ্যব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহি রয়েছে। এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯ টায় খুলনার শেখপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন বীর প্রতিক লেফটেন্যান্ট গাজী রহমত উল্লাহ দাদু (৭৯)। মৃত্যুকালে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহি রয়েছে। আলহাজ্ব ফসিয়ার রহমান ১৯৫৭ সালের ৭ জুলাই উপজেলার চেঁচুয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসিলম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজ্ব রইচউদ্দিন মিস্ত্রী, মাতা মৃত আলহাজ্ব ফজিলাতুন্নেছা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সফল চিংড়ি চাষী ও শিল্পপতি এবং সমাজসেবক ছিলেন। পাইকগাছা পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী ফসিয়ার রহমান মহিলা মহা-বিদ্যালয়, ফজিলাতুন্নেছা প্রাইমারী স্কুল, আলহাজ্ব রইচউদ্দিন আদর্শ নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, ফসিয়ার রহমান কৃষি ও জনকল্যান সমিতি, ফাতেমা রহমান হাই স্কুল, রিয়াজুল বাকী (কবরখানা), ফসিয়ার রহমান ফাউন্ডেশন সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। তিনি চিংড়ি চাষী, হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানীকারক ও সমবায়ী হিসাবে একাধিক জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করেছেন। তিনি হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানীকারক হিসাবে ১৯৯৪-৯৫ সালে, শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষী হিসাবে ২০০২ ও ২০০৭ সালে, শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসাবে ২০০৩ ও ২০১১ সালে জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করেন। অনুরূপভাবে গাজী রহমত উল্লাহ দাদু পাকিস্তান নৌবাহিনীতে লেফটেনন্ট অফিসার হিসাবে ফ্রান্সে কর্মরত থাকা অবস্থায় দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারি চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরে এসে জীবনের মায়া তুচ্ছ করে যোগদেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। প্রতিষ্ঠা করেন নৌ কমান্ডো গ্রুপ। গাজী রহমত উল্লাহ দাদু নৌ কমান্ডোর প্রধানের পাশাপাশি ১০নং সেক্টরের নৌপথ নিরাপদ রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কমান্ডো গ্রুপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৩২টি শত্রু জাহাজ ধ্বংস সহ মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ সরকার রহমত উল্লাহ দাদুকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করেন। তিনি ১৯৩৭ সালের ৪ এপ্রিল খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব শহর আলী, মাতা আলহাজ্ব অভিরন ন্নেছা। তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম খুলনা বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় চিংড়ি চাষী সমিতি, গড়ইখালী শহীদ আয়ুব ও মুছা মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় শহীদ মিনার চত্ত্বরে জানাযা শেষে গড়ইখালীস্থ পারিবারিক কবরস্থানে রহমত উল্লাহ দাদু’র দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে। অনুরূপভাবে সিঙ্গাপুর থেকে ফসিয়ার রহমানের মৃতদেহ দেশে আনার বিষয়টি প্রক্রীয়াধীন রয়েছে বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছে। পাইকগাছার এই দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, প্রধান মন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাডঃ শেখ মোঃ নূরুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স ম বাবর আলী, পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ-উল-মোস্তাক, অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহম্মদ, অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, মিহির বরণ মন্ডল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক মলঙ্গী, সুন্দরবন স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, সবুজ মৎস্য খামার, পাইকগাছা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
###