পাইকগাছার শিববাটী পূজা মন্ডপে শ্রী কৃষ্ণের বাঁশির সুর শুনতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়


1079 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছার শিববাটী পূজা মন্ডপে শ্রী কৃষ্ণের বাঁশির সুর শুনতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়
অক্টোবর ৯, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা ॥
ভগবান শ্রী কৃষ্ণের পাগল করা বাঁশির সুর কার না ভাল লাগে। আর এমন সুযোগ পেলে কেই বা হাত ছাড়া করতে চাই? শ্রী কৃষ্ণের বৃন্দা বনের সেই বাঁশির সুর সবাই শুনেছে গীতা, চন্ডি ও মহাভারতের মধ্যে। কিন্তু না এবার গীতা কিংবা মহাভারতে নয় সরাসরি কৃষ্ণের বাঁশি বাজানো দেখছে সবাই।

কৃষ্ণের পাগল করা বাঁশির সুর শুনতে কিংবা দেখতে সবাই এখন ভীড় জমাচ্ছেন পূজা মন্ডপে। এবারের শারদীয়া দুর্গাপূজায় পাইকগাছা পৌরসভার শিববাটী সার্বজনীন পূজা মন্দিরে কৃষ্ণরূপী এমন ডিজিটাল প্রতিমা তৈরী করেছেন পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর। তিনি প্রতিবছর দুর্গাপূজায় বিশেষ কোন প্রতিমা তৈরী করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নজর কাড়েন। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও তিনি এক ব্যাতিক্রমী শ্রী কৃষ্ণের প্রতিমা তৈরী করেছেন যে প্রতিমা ভক্তানুরাগী ও দর্শনার্থীদের প্রণামি পাওয়ার পরপরই শুনিয়ে দিচ্ছেন পাগল করা বাঁশির সুর।

শ্রী কৃষ্ণের নিজের বাজানো এমন বাঁশির সুর শুনতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থিরা ভীড় জমাচ্ছেন পূজা মন্ডপে। অনেকেই প্রণামি দিয়ে বাঁশির সুর শুনছেন, আবার অনেকেই দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছেন কৃষ্ণের বাঁশি বাজানোর কলাকৌশল।

দর্শনার্থি শুকলা দাশ জানান, ভগবান শ্রী কৃষ্ণের বৃন্দাবনের বাঁশি বাজানো কাহিনী শুনেছি, কিন্তু কখনো দেখার সুযোগ হয়নি। এবারের পূজায় শিববাটী পূজা মন্ডপে এসে কৃষ্ণের মনোমুগ্ধকর বাঁশির সুর শুনে মুগ্ধ হয়েছি। দেখে বুঝার উপায় নেই এটা কোন কৃষ্ণরূপী ডিজিটাল প্রতিমা।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি তরুণ কান্তি মন্ডল জানান, সপ্তমী পূজা থেকে চালু করা হয়েছে বাঁশি বাজানো কৃষ্ণের প্রতিমাটি। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থি দেখতে আসছে কৃষ্ণের বাঁশি বাজানো। তবে সন্ধ্যার পর থেকে বেশি ভীড় পরিলক্ষিত হয় বলে মন্দির কমিটির এ সভাপতি জানান।

পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, আমি ব্যক্তিগত ভাবে শারদীয়া দুর্গাপূজায় ব্যাতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করি। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও দেশ এবং বিশ্বের শান্তি কামনায় শ্রী কৃষ্ণের বাঁশি বাজানোর একটি প্রতিমা তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সম্পূর্ন ইলেকট্রিক সিস্টেমে প্রতিমাটি তৈরী করা হয়। প্রতিমার সামনে একটি মাটির কলস রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ দর্শনার্থিরা যে কোন পরিমাণে প্রণামি দেয়ার সাথে সাথেই কৃষ্ণের হাতে থাকা বাঁশিটি মুখে নিয়ে বাজানো শুরু করে দেয়। কিছু সময় বাঁশি বাজানোর পর আবার মুখ থেকে বাঁশিটি নামিয়ে নিয়ে আসে। এবারের শারদীয়া দুর্গোৎসবে কৃষ্ণের বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে বিপদগামী জঙ্গিরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিহার করে বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর।
##