পাইকগাছায় এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ


282 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
ডিসেম্বর ২, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছার ৯৩নং খড়িয়া মিনাজ চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক মহাদেব সরদার স্কুলের নামে প্রায় ১ বিঘা জমির হারির টাকা প্রায় ৩ দশক স্কুল ফান্ডে না দিয়ে নিজেই ভোগ দখল করে আসছে। প্রধান শিক্ষক রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় রয়েছে বলে ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি সন্তোষ কুমার সানা জানিয়েছেন। হারির টাকা আদায়ের ব্যাপারে ইতোমধ্যে ম্যানেজিং কমিটির সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক টাকা দিতে তাল বাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের ৯৩নং খড়িয়া মিনাজ চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে স্থাপিত হয়। জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি। স্কুলটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ১৯৯১ সালে এলাকার মৃত মনোতোষ সরদারের ছেলে মৃত শৈলেন্দ্র নাথ সরদার ও মৃত লোকনাথ সরদারের ছেলে মৃত গোপাল চন্দ্র সরদার ও মৃত পুলিন বিহারী সরদার প্রত্যেকে ১৭ শতক করে মোট .৫১ একর জমি স্কুলের নামে দান করে দেয়। উক্ত সম্পত্তির মধ্যে .৪১ একর জমি বর্তমান জরিপে স্কুলের নামে রেকর্ড হয়েছে। মোট জমির মধ্যে ১৩ শতক জমিতে স্কুল ভবন রয়েছে। ১০ শতক জমির উপর দিয়ে রাস্তা ও অবশিষ্ঠ ২৮ শতক জমিতে দীর্ঘদিন যাবৎ ধান ও মাছ চাষ করা হচ্ছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আছাবুর রহমান সরদার জানান, প্রধান শিক্ষক মহাদেব সরদার জমিদাতা শৈলেন্দ্র নাথের ওয়ারেশ। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর তিনি অল্প কিছুদিন অন্য স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া শুরু থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত অত্র স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ২৭ বছর যাবৎ ২৮ শতক জমি ও হারির টাকা নিজের অনুকূলে রেখে ভোগদখল করে আসছেন। গত ২৮ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির সভায় জমির হারির টাকা আদায়ের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রধান শিক্ষক খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হারির টাকা পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তিনি কোন টাকা না দিয়ে শুধু তাল বাহানা করে আসছেন।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মহাদেব সরকার বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুলের অনুকূলে আমি হারির টাকা দেওয়ার জন্য ওয়াদা করেছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে টাকাগুলো এখনো দিতে পারিনি। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিস্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান। সহকারী শিক্ষা অফিসার ঝংকার ঢালী জানান, এ ব্যাপারে স্কুলের পক্ষ থেকে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনা যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
##