পাইকগাছায় ঔষধের দোকানে চলছে বাঁকা বাজার পোষ্ট অফিস


1665 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় ঔষধের দোকানে চলছে বাঁকা বাজার পোষ্ট অফিস
জুলাই ২৭, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ আসাদুজ্জামান (মুকুল),দরগাহপুর :
অনার্স পড়–য়া  হাবিব। বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পাইকগাছার রাড়–লী ইউনিয়নের বাঁকা বাজারে এসেছে জীবনের প্রথম সরকারি চাকরির আবেদন পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে জমাদিতে। সাত বছর আগে একবার পিতার সাথে এই বাঁকা বাজারের জরা জীর্ণ কাঠ-গোলপাতার তৈরি পোষ্ট অফিসে এসেছিল। তারপর আর পোষ্ট অফিসের প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু হাবিব আজ সেখানে এটা কি দেখছে? পোষ্ট অফিস কোথায়? এ তো ময়লা আবর্জনার স্তুপ! পোষ্ট অফিসে ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা আবর্জনা? তার আর বুঝতে বাকি থাকল না যে, এখানে পোষ্ট অফিস নাই। সে একজনকে জিঞ্জাসা করে জানতে পারল যে পোষ্ট অফিস এখন বাজারের ভেতরে। হাবিব দেরি না করে বাজারের ভেতর পোষ্ট অফিস খুজতে লাগল।অনেক খোজাখুজি করেও পেল না।

অবশেষে সে নামহীন এক ঔষধের দোকানের দোকানদারকে জিঞ্জাসা করল, যে পোষ্ট অফিসটি কোথায়? লোকটি উল্টো প্রশ্ন করল , কেন? সে উত্তরে বলল তার চাকরির আবেদন ঢাকায় পাঠাবে। দোকানের লোকটি বলল এখানেই পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম চলে অর্থাৎ এটিই অস্থায়ী পোষ্ট অফিস আর আমি পোষ্ট মাষ্টার। হাবিব নিশ্চিত হওয়ার জন্য পোষ্ট অফিসের ব্যানার কোথায় প্রশ্নকরলে তিনি উত্তর দিলেন , আপনার পায়ের ঔখানে….। প্রিয় পাঠক এতক্ষণ আপনাদের পাইকগাছার বাঁকা বাজার পোষ্ট অফিসের গ্রাহক বিড়াম্বনার শতশত ঘটনার একটি অবহিত করলাম। শুধু তাই না এমন অনেকেই আছেন যারা পোষ্ট অফিস খুজেই পাননি এমন কি ঔষধের দোকানে ভিড় হলে পোষ্ট অফিসে আসা লোকদের অনেক সময় অপেক্ষাও করতে হয়।

এ বিষয়ে বাঁকা বাজার পোষ্টমাষ্টার মোঃ আব্দু রাজ্জাককে  “ঔষধের দোকানে কেন পোষ্ট অফিস” প্রশ্ন করলে তিনি জানান যে, ২০০৯ সালে জরা জীর্ণ পোষ্ট অফিস ঘরটি ভেঙ্গে পড়ে। তার পর থেকে আমার নিজস্ব ঔষধের দোকানে আমি ব্যাক্তিগত উদ্যোগে পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম চালচ্ছি। এ ব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা পোষ্ট অফিস পরিদর্শক শেখ রফিকুল ইসলাম আমাদের জানান যে, “তিনি এ বিষয়ে অবগত আছেন এবং সেখানে কয়েকবার পরিদর্শনও করেছেন”। “ছয় বছরেও কেন পোষ্ট অফিস বিল্ডিং নির্মান করা সম্ভব হয়নি” প্রশ্ন করলে তিনি জানান যে, “নতুন বিল্ডিং করতে গেলে তিন শতক জমির প্রয়োজন কিন্তু আছে এক শতকেরও কম। সেই জন্যই আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও  বিল্ডিং নির্মান করা সম্ভব হচ্ছে না”। তিনি আরো বলেন, “যদি পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা পোষ্ট অফিস বিল্ডিং নির্মান করব”।

রাড়–লী ইউ.পি চেয়ারমান আব্দুল মজিদ গোলদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন যে, “জমি কম থাকায় নতুন পোষ্ট অফিস বিল্ডিং নির্মান করা যাচ্ছে না। আমি পোষ্ট অফিসের জন্য কয়েকটি জায়গা দেখেছি। এর মধ্যে সকলের সাথে আলোচনা করে একটি জায়গা নির্বাচন করে আমরা নতুন পোষ্ট অফিস বিল্ডিং নির্মানের জন্য আবেদন করব”। সর্বপরি এলাকাবসী ও সচেতন মহল বাঁকা বাজার পোষ্ট অফিস বিল্ডিং যাতে দ্রুত নির্মিত হয় তার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসক সহ যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন। প্রয়োজনে এলাকাবসী পোষ্ট অফিসের জন্য জমি দান করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।