পাইকগাছায় চাল কুমড়ার বড়ি তৈরিতে এখন ব্যস্ত পল্লী বধুরা


611 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় চাল কুমড়ার বড়ি তৈরিতে এখন ব্যস্ত পল্লী বধুরা
ডিসেম্বর ৩, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা॥
খুলনার পাইকগাছার সর্বত্র শীতের শুরুতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য চাল কুমড়ার বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পল্লী বধুরা। অতিথি আপ্যায়ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠানো সহ অনেকে পেশা হিসেবে বড়ি তৈরি ও বাজারে বিক্রি করে উপার্জন করে থাকেন। শীতের সবজিতে চাল কুমড়ার বড়ির ব্যবহার আজও গ্রাম বাংলার পুরনো চিত্র ফুটে উঠে। পাইকগাছায় বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে চলছে বড়ি দেওয়ার উৎসব। শীতের শুরুতে আবহমান কাল থেকে গ্রাম বাংলায় চাল কুমড়ার বড়ির ব্যবহার হয়ে আসছে। এজন্য উপজেলার অধিকাংশ এলাকার কৃষক শ্রাবণ-ভাদ্র মাসকলাইয়ের আবাদ করে থাকেন। শীতের শুর”তেই এ কলাই কৃষকের ঘরে ওঠে তখন চাল কুমড়া সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে বড়ি বানো হয়ে থাকে। শীতের সবজির সাথে এ বড়ি দিয়ে রান্না করলে তরকারি খুব সুস্বাদু হয়। একথা বিবেচনা করে গ্রামীণ জনপদে গ্রামীণ বড়ির প্রচলন রয়েছে। গ্রামীণ নারী শ্রমিকরা এ বড়ি তৈরি করেন। শিশুরাও এ উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে। অনেকেই এ পেশার সাথে জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। চেচুয়া গ্রামের শারমিন সুলতানা জানান, তিনি এ বছর ১০ কেজি চাল কুমড়ার বড়ি দিয়েছেন। মাস কলাইয়ের সাথে চাল কুমড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে বড়ি বানানো হয়। এরপর পরিষ্কার কাপড়ের উপর ইচ্ছেমত সাজিয়ে ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে বড়ি সংরক্ষণ করা হয়। আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বিতরন শেষে এই সারা বছর খাওয়ার জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন। যেকোন তরকারির সাথে বড়ি দিলে তরকারি খুব সুস্বাদু হয়ে থাকে। শহরের আত্মীয়- স্বজনদের কাথে এর কদর সবচেয়ে বেশি। শীতের শুরুতে এর চাহিদা মেটাতে তাই শহরের মানুষ গ্রামের আত্মীয় স্বজনদের আপ্যায়ন করে থাকেন। যে কারণে গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে চলে চাল কুড়রার উৎসব। বান্দিকাটি গ্রামের গৃহবধু আয়মান বিবি জানান, জামাই- মেয়ের বাড়িতে কুমড়ার বড়ি পাঠাতে হবে তাই তিনি ৬ কেজি ডাল ভিজিয়ে বড়ি তৈরি করেছেন।