পাইকগাছায় বৃদ্ধি পাচ্ছে নির্বাচনী সহিংসতা : ইউএনও প্রত্যাহার


287 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় বৃদ্ধি পাচ্ছে নির্বাচনী সহিংসতা : ইউএনও প্রত্যাহার
মার্চ ১৯, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এম এম আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা) ঃ
খুলনার পাইকগাছায় ২২ মার্চ ১০ ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে আ’লীগ বিএনপির রাজনৈতিক উত্তাপ, সহিংসতা বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে ইউএনও লাঞ্চিত হওয়ার ফলে প্রশাসনের মনোভাব আরো কঠোর হয়েছে বলে জানা গেছে। আ’লীগ, বিএনপি, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা লক্ষ্য করা গেছে। ওসি আশরাফ হোসেন জানিয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় র‌্যাব, ডিপি পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশের টোহল বাড়ানো হয়েছে। এদিকে ঘটনার ৪ দিন পর ইউএনও মোহাম্মদ কবিরউদ্দীনকে প্রত্যাহার করে মেহেরপুর জেলার গাংনী থেকে বদলী করে মোঃ আবুল আমীন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উৎসবে যোগ দেন। এর একদিন আগের মংলা থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মুহাম্মদ নাজমুল হক যোগদান করেছেন। এদিকে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ৪ আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। জানা গেছে, এ নির্বাচনে সরকার দলীয় বর্তমান ও সাবেক এমপি অনুসারী নেতাকর্মীদের কর্তৃত্ব, নের্তৃত্ব ও সর্বশেষ প্রার্থী বাছাইয়ের দ্বন্দ্বে তৃণমূলে মারাত্মক নৈতিকবাচক প্রভাব পড়েছে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বিএনপি ও স্বতন্ব প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বলে লক্ষ্য করা গেছে। জেলা আ’লীগ সভাপতি-সম্পাদকের উদ্বৃতি দিয়ে উপজেলা আ’লীগের সদস্য সচিব  মোঃ রশীদুজ্জামান এ প্রতিনিধিকে জানান, শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে গতকাল হরিঢালী গোলাম মোস্তফা, লতা চিত্তরঞ্জন মন্ডল, চাঁদখালীর এস,এম, আনিছুর রহমান ও দেলুটি ইউপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী দ্বিজেন মন্ডলকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। এ নির্বাচন উপলক্ষে চাঁদখালী, সোলাদানাসহ কয়েকটি স্থানে আ’লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ ও দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। কপিলমুনি বিএনপির প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেন ডাবলুসহ অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জানিয়েছেন, আমরা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারব কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়, সন্দেহ রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা হুমকি-ধামকির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত রোববার চাঁদখালীতে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা ও রাস্তার উপর টাঙানো নৌকা প্রতীক ভাংচুরের কথিত অভিযোগে ইউএনও মোহাম্মদ কবিরউদ্দীন লাঞ্চিত হয়ে ছুটিতে যাওয়ার ৪ দিন পর গাংনী থেকে মোঃ আবুল আমীন বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেই তিনি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আবুল আমিন সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের এজেএম মোহাম্মদ আলী ও আয়েশা খাতুনের ছেলে। ৩ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে দ্বিতীয় তিনি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের উপর অনার্স ও মাষ্টার্স পাস করে ২০০৫ সালের ২ জুলাই বিসিএস ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। প্রথমে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে খাগড়াছড়ি এরপর নারায়ন গঞ্জের সোনার গাঁ এরপর ইউএনও হিসেবে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর এবং মেহের পুরের গাংনী উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।