পাইকগাছায় ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে গম : বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের


611 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে গম : বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের
জানুয়ারি ২১, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা :
পাইকগাছায় গমের বাম্পার ফলনে এবার হাঁসি ফুঁটেছে কৃষকের মুখে। প্রান্তর জুড়ে চোখে পড়ছে গমের ক্ষেত। লবনাক্ততার কারণে অন্যবার উপকূলীয় এলাকার যেখানে কোন আবাদই হত না, এবার তার অনেক এলাকায় হয়েছে গমের আবাদ। খরচে কম ও স্বল্প পরিশ্রমে গতবার অধিক ফলন পাওয়ায় চিংড়ি চাষ অধ্যুষিত জনপদের চাষীরা এবার আগ্রহী হয়েছে গম আবাদে। লবণাক্ত মাটিতে গম চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে গমের আবাদ। বদলে গেছে বহু কৃষকের জীবন এমনটাই মনে করছেন চাষীদের পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মওসুমে উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার হরিঢালী ইউনিয়নে ১৬০ হেক্টর, কপিলমুনিতে ২২৫ হেক্টর, গদাইপুরে ৪২ হেক্টর, রাড়–লীতে ৬২ হেক্টর, চাঁদখালীতে ১০ হেক্টর, গড়ইখালীতে ৬ হেক্টর ও পৌরসভার ৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের, বিরাশী, মালত ও কাজীমুছা গ্রাম, গদাইপুর ইউনিয়নের মটবাটী, গোপালপুর গ্রামের পতিত জমিতে গমের চাষ করে গতবার সেখানকার কৃষকরা আশানুরুপ ফলন পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় এবার ঐ সকল এলাকায় অধিক পরিমানে আবাদ হয়েছে গমের। তাছাড়া নতুন করে এবার চাঁদখালী ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লবণাক্ত এলাকায় গমের আবাদ শুরু হয়েছে। গম লবণ সহিষ্ণু একটি শষ্য।  কম খরচে অল্প পরিশ্রমে গমের আবাদ করা যায়। সার ও কীটনাশকও তেমন ব্যবহার করতে হয় না। বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত গম চাষের উপযুক্ত সময়। ২/৩টি সেচ দিয়ে গমের আবাদ করা যায়। তাই কৃষকরা স্বল্প ব্যয়ে গম চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবার বারি ২৫ জাতের ১৫০ হেক্টর, বারি ২৬ জাতের ১৮০ হেক্টর, বারি ২৪ জাতের ১০৫ হেক্টর ও প্রদীপ জাতের ৭৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। উপজেলায় এ বছর কৃষকরা সলুয়া, হরিঢালীসহ আশপাশ গ্রামের জমিতে সারিবদ্ধ ভাবে গমের আবাদ শুরু করেছে। এসব ক্ষেতে সিডার মেশিনের দ্বারা বীজ বপন করা হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর গ্রামের আদর্শ কৃষক সবুর হোসেন জানান, আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশে এবার গমের আবাদ ভাল হয়েছে। পরিবেশ অক্ষুন্ন থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে মনে করছেন তিনি। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএমজাহাঙ্গীর আলম জানান, আবাদ মওসুমে এবার সময় মত গমের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ক্ষেতে গিয়ে নিয়মিত গম চাষের পরামর্শ ও ক্ষেত তদারকি করা হচ্ছে। তাছাড়া এ বছর শীত থাকায় গমের আবাদের জন্য বেশ উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলায় এবার বাম্পার ফলন পাবেন কৃষকরা।