পাইকগাছায় ভারী বর্ষণে ২০ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি : ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ


352 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় ভারী বর্ষণে ২০ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি : ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ
জুলাই ২৪, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা :
খুলনার পাইকগাছায় টানা ভারী বর্ষণে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ২০ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে আশ্রয়ন প্রকল্প, অসংখ্য শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। কাঁচা ঘরবাড়ী ধ্বসে পড়ে আশ্রায়নহীন হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। হাজার হাজার বিঘার ঘের প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি ও সাদা মাছ। ভেঙ্গে পড়েছে পয়ঃনিস্কাশন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। দেখা দিয়েছে ডায়ারিয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। এলাকার পানি সরবরাহের কয়েকটি স্লুইস গেট অকেজো হয়ে পড়ায় এবং নদী ও খাল নেটপাটা দিয়ে অবাধ ব্যবহারের ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
গত ২০ জুন থেকে গত এক মাসের টানা ভারী বর্ষণে চাঁদখালী ইউনিয়নের কলমিবুনিয়া, কৈয়াসিটিবুনিয়া, ওড়াবুনিয়া, চাঁদমুখী, কাটাবুনিয়া, ঢেমসাখালী, কানুয়ারডাঙ্গা, ফতেপুর, পূর্ব গজালিয়া, গড়েরআবাদ, গজালিয়া, বাদুড়িয়া, কমলাপুর, মৌখালী, ফেদুয়ারআবাদ, হাড়িয়ারডাঙ্গা, কালুয়া, চককাওয়ালী, নগর ও পশ্চিম গজালিয়াসহ ২০ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অসংখ্য কাঁচা ঘর-বাড়ি ধ্বসে গিয়ে আশ্রায়হীন হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। ঝুকিপূর্ণ শতশত ঘর-বাড়ি যেকোন মুহুর্তে ধ্বসে পড়ার আশংকায় অন্যত্র আশ্রায় নিয়েছে অনেকে। কাটাবুনিয়া, কৈয়াসিটিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাটাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হাটু পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বেশির ভাগ ঘর-বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ভেঙ্গে পড়েছে পয়ঃনিস্কাশন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। তীব্্র সংকট দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির। মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে জলাবদ্ধ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুক্রবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে দুর্ভোগের এ চিত্র। এ পর্যন্ত পানি নিস্কাশনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তবে স্থানীয় পর্যায়ের সমাজসেবক ও দলীয়নেতা জি,এম, ইকরামুল ইসলামসহ অনেকেই খাল-খনন সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে ফতেপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান গাজী জানান, শুস্ক মৌুসমে স্লুইস গেটগুলোর বহিরাংশ খননের উদ্যোগ নেয়া হলেও  ইউপি চেয়ারম্যান মুনছুর আলী গাজী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে খনন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কপোতাক্ষ নদের পলি জমে  চাঁদখালী, ফতেপুর ও সাহাপাড়া স্লুইস গেটের পানি সরবরাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। কাটাবুনিয়া গ্রামের আলহাজ্ব, মহিউদ্দীন জানান, অকেজো স্লুইস গেট এবং মিনহাজ, উড়াবুনিয়া ও নৈর নদীতে ইজারাদাররা অবাধে নেটপাটা দিয়ে মাছ চাষ করার ফলে পানি সরবরাহের পথ বন্ধ  হয়ে যাওয়ায় এলাকার প্রায় ২০টি গ্রাম স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর সমন্বয়ে কমিটি গঠণ করা হয়েছে এবং পানি সরবরাহের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে নদী ও খালের বাঁধ পাটা অপসারণসহ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।