পাইকগাছায় শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই সুপেয় পানির তীব্র সংকট


433 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই সুপেয় পানির তীব্র সংকট
অক্টোবর ১৫, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

খুলনার পাইকগাছায় শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি বছর যথেষ্ঠ পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর বা জলাশয় এখনও পর্যন্ত পানি না থাকায় এবং বৃষ্টির পানি ধারণ করতে না পেয়ে দুর-দুরন্ত থেকে তা সংগ্রহ করে তা চাহিদা মেটাচ্ছে। অধিকাংশ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রণের পরিমাণ কারণে যে সব এলাকায় নলকূপ রয়েছে তাও পানীয় জলের জন্য ব্যবহার হচ্ছে কম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লবণ পানি অধ্যুষিত এলাকার শিশু-কিশোর, স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রী ও মহিলারা বিভিন্ন পানির পাত্র নিয়ে সূপেয় পানির সন্ধানে ছুঁটে যায় সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি নির্দিষ্ট পুকুর বা জলাশয়। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় অগভীর নলকুপ রয়েছে ২ হাজার ৬৫৩ টি। উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নে ৩২৭টি, কপিলমুনিতে ৩৯৫টি, লতায় ১৯৮টি, দেলুটিতে ২০১টি, সোলাদানায় ১৭৩টি, লস্করে ১৯৫টি, গদাইপুরে ৩৭১টি, রাড়–লিতে ৩৪০টি, চাঁদখালিতে ৩৯৯টি ও গড়ইখালী ইউনিয়নে ১৩৪ টি অগভীর নলকূপ রয়েছে। এছাড়া ভিএসএসটি ৩১ টি, এসএসটি ৬১৮ টি, রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টিং ৭৪৮ টি ও পিএসএফ ৪৯৪ টি থাকলেও অধিকাংশ আর্সেনিক ও লবণক্ততার কারণে তা পানযোগ্য নয়। যথেষ্ঠ মান সম্মত না হলেও পাইকগাছা পৌরসভার ৩টি পানির ফিল্টার থেকে ১ টাকা লিটার দরে পানি কিনে এলাকাবাসী কোন মতে চাহিদা মেটাচ্ছে। চলতি অর্থ বছরে উপজেলার সোলাদানা, লস্কর ও গড়ইখালি ইউনিয়নে ৩ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১২০ টি পানির ট্যাংক। ৫ ইউনিয়নের ৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে, ২৫ হাজার লিটার পানির ধারণ ক্ষমতার ৫টি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম। তবে কোন কিছুতেই যেন নিরসন হচ্ছে না সূপেয় পানির সংকট। কেননা উপজেলার অধিকাংশ নলকূপগুলোতে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রণ। সূত্র জানায়, উপজেলার শামুকপোতা, বাহিরবুনিয়া গদারডাঙ্গা, পুটিমারী, পুতুলখালী, হাড়িয়া, পানারাবাদ, তেঁতুলতলা, হানি মুনকিয়া, কাঠামারী, গঙ্গারকোনা, লতা, কপিলমুনির চিনেমলা, গোয়ালবাথান, প্রতাপকাটি, কাজীমুছা, মালত, নাবা, ভৈরবঘাটা, বিরাশি, শ্যামনগর, বারইডাঙ্গা, শিলেমানপুর সহ কয়েকটি গ্রাম, দেলুটি, সোলাদানা ও লস্কর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সূপেয় পানি সংকট। এসব এলাকার মানুষরা বিকল্প হিসেবে পুকুরের পানি ব্যবহার করছে। গড়ইখালীর আলমশাহী পুকুর থেকে গড়ইখালী, দাকোপের কিছু অংশ, চাঁদখালী ও লস্করের কিছু অংশের লোক পানি সংগ্রহ করে সারা বছর চাহিদা মেটায়। যেসব এলাকায় মিষ্টি পানির আঁধার নেই সেসব এলাকায় বৃষ্টির পানিই একমাত্র ভরসা। তাও চলতি বছর বৃষ্টির পরিমাণ কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে এলাকাবাসী।