পাইকগাছায় সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় ব্রিজ ব্যবহারে বিলম্ব


349 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় ব্রিজ ব্যবহারে বিলম্ব
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ও রাড়–লী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান (বোয়ালিয়া) কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত মুল ব্রিজের নির্মান কাজ শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। ফলে ব্রিজ ব্যবহারের বিলম্বিত হচ্ছে। আর এতে ভোগান্তি বাড়ছে সাতক্ষীরা ও পাইকগাছা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের। দু’দফা সময় বাড়ানোর পর বোয়ালিয়া (হিতামপুর) কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত মুল ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ব্রিজের দু’পাড়ের সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ আইনী জটিলতার কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল। পরে আইনী জটিলতা কাটিয়ে উঠে এখন পুরো দমে চলছে সংযোগ সড়কের কাজ। তারপরও কবে নাগাদ সড়কের কাজ শেষ হবে আর কবে ব্রিজ চালু হবে এমন সঙ্কায় রয়েছে সকলের। এদিকে বোয়ালিয়া খেয়াঘাটের বেহাল দশার কারনে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন যাতয়াত করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ঠরা জানিয়েছেন আগামী ৫/৬ মাসের মধ্যে ব্রিজ চালু করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে পাইকগাছা উপজেলা গঠিত। আর উপজেলা সদরে রাড়–লী ইউনিয়নবাসীকে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসতে হতো বোয়ালিয়া নদী পার হয়ে। সেকারনে এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার (বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার) রাড়–লীর ও গদাইপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান কপোতাক্ষ নদের উপর বোয়ালিয়া খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়। ৩১৪.০০ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রীজের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ কোটি ৬১ লাখ ৯’শ ৫২ টাকা। ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএমবি-আইটি জয়েন্ট ভেঞ্চার। দরপত্র অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিলের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়েছিল। বর্তমানে মুল ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ব্রিজের দুই পাড়ের সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। জমি অধিগ্রহণ আইনী জটিলতার কারণে দীর্ঘ দিন কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে আইনী জটিলতা কাটিয়ে উঠে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। এদিকে বোয়ালিয়া খেয়াঘাদের বেহাল দশার কারনে সাতক্ষীরা ও পাইকগাছার হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন উপজেলার কাটাখালী দিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে যাতয়াত করতে হচ্ছে। কেননা নদীতে ভাটার সময় খেয়া পারাপার করা খুবই কষ্ঠ সাধ্য। অনেকটা দুরে এসে কাদা মেখে পরে নৌকাতে উঠতে হয়। অনেক সময় অবার ঘটে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। সেকারনে অনেকে ভোগান্তির হাত থেকে রেহায় পেতে দীর্ঘপথ ঘুরে যাতয়াত করতে হচ্ছে। সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া ঘাট এলাকায় নির্মাণাধিন ব্রিজের পশ্চিমে (বাঁকা-রাড়–লী) পাড়ে ২৪৫ মিটার ও বোয়ালিয়া পাড়ে ১৮৬ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। জমি অধিগ্রহণও হয়েছে। তবে ব্রিজের উত্তর-পূর্ব পাড়ের বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামার সংলগ্ন জমির উপর আইনী জটিলতার কারণে নির্মাণ কাজ শুরু করতে দেরি হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মোঃ মামুন বলেন, মূল ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু দু’পাড়ের সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ বাকি। উপজেল প্রকৌশলী মোঃ আবু সাঈদ জানিয়েছেন, সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহনের কিছু আইনী জটিলতা থাকার কারনে কাজ কিছু দিন বন্ধ ছিল। তবে এখন আইনী জটিলতা কাটিয়ে সংযোগ সড়কের নির্মান কাজ চলছে পুরো দমে। আগামী ৫/৬ মাসের মধ্যে ব্রিজ চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে যাতয়াতের জন্য ব্রিজটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট।

পাইকগাছায় আশ্রয়ন প্রকল্পের সামনে চরভরাটি জায়গা দখল করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::
পাইকগাছায় আশ্রয়ন প্রকল্পের সামনে চরভরাটি জায়গা ভূমিদস্যুরা দখল করে নিচ্ছে। দেখার কেউ নেই। অসহায় হয়ে পড়েছে ভূমিহীন জনগণ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের। জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার রাড়–লী খেয়াঘাটের পাশে কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন জায়গায় পলি জমে চর ভরাটিতে পরিণত হয়। উক্ত চরভরাটি জায়গায় সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ভূমিহীনদের জন্য ৫০টি ঘর বিশিষ্ট আশ্রয়ন প্রকল্প তৈরী করে। প্রায় ১০ বছর পূর্বে কপোতাক্ষ নদের ভাঙ্গন কবলিত ভূমিহীন ৫০টি পরিবারকে আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসের জন্য স্থানান্তরিত করে এবং নাম দেয় সুন্দরবন আশ্রয়ন প্রকল্প ফেস টু বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ। উক্ত আশ্রয়ন প্রকল্পের সামনে কপোতাক্ষ নদের পলি জমে বেশকিছু জায়গা চর ভরাটিতে পরিণত হয়েছে। যেখানে ভূমিহীন এই ৫০টি পরিবার সরকারের আশ্রয়দাতা হিসাবে দেখভালের কথা। কিন্তু প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্ররা উক্ত চরভরাটিয়া জায়গা জবর দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পায়তারা করে আসছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে রাড়–লী মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ৮২৪ দাগের আশ্রয়ন প্রকল্পের সামনের জায়গা জবর দখলে মেতে উঠেছে পুরাইকাটি গ্রামের মুনছুর গাজীর পুত্র আব্দুল্লাহ। সে প্রতিনিয়ত ৩০/৪০ জন করে লোক নিয়ে অবৈধভাবে চর ভরাটি জায়গায় বাঁধ তৈরীর কাজ করছে। আশ্রয় প্রকল্পের বাসিন্দারা সহ স্থানীয় লোকজন জানার চেষ্টা করলে সে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে চলেছে। যে কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এ ঘটনায় প্রকল্পের সভাপতি রঞ্জন কুমার বিশ্বাস সহ ৫০টি পরিবারের লোকজন বিভিন্ন দপ্তরে ধন্যা দিচ্ছে। অবৈধ দখল বন্ধের জন্য প্রকল্পের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দাখিল হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসান জানান, বিষয়টি শুনেছি। সরকারী সম্পত্তি কাউকে জবর দখল করতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাইকগাছায় যৌতুক লোভী স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::
পাইকগাছায় যৌতুক লোভী এক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধু স্বামী সহ ৩জনকে আসামী করে আদালতে মামলা করেছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের বয়ারঝাপা গ্রামের জয়নাল সরদারের মেয়ে মুসলিমা খাতুনের গত ২২/৬/২০১৬ তারিখে পাশ্ববর্তী বটিয়াঘাটা উপজেলার গাওঘরা গ্রামের মুজিবর রহমান ফকিরের ছেলে মারাদুল ইসলাম সবুজের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মারাদুল ৮০ হাজার টাকা দেন মোহর সহ ৫০ হাজার টাকার উপকরণ গ্রহণ করে। এর কিছুদিন পর বিদেশে যাওয়ার কথা বলে মারাদুল স্ত্রীর পিতা-মাতার কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। এ টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মারাদুল স্ত্রীকে মারপিট করে পিতৃলয়ে পাঠিয়ে দেয়। পরে মুসলিমার পিতা-মাতা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাইকে ২ লাখ টাকা যৌতুক প্রদান করেন। পরে আবারও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করলে দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। পিতার বাড়ীতে ৩-৪ মাস অবস্থান করার পর সুচতুর মারাদুল শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে সমিতি থেকে ঋণ লইবে এই মর্মে স্ত্রী মুসলিমার কাছ থেকে অলিখিত ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নিয়ে পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে ষ্ট্যাম্পটি তালাকনামা হিসাবে ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি মুসলিমা বাদী হয়ে স্বামী মারাদুল, শ্বশুর মুজিবর ও শ্বাশুড়ী তহমিনা বেগমকে আসামী করে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেছে। যার নং- সিআর ৭৬/১৭।