পাইকগাছা সংবাদ ॥আইনজীবি সহকারী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত


948 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥আইনজীবি সহকারী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::
পাইকগাছা আইনজীবি সহকারী সমিতির বার্ষিক সাধারণ নির্বাচন- ২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে সমিতি কার্যালয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৭৯ জন ভোটারের মধ্যে ৭৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ৯টি পদের মধ্যে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ২ প্রার্থীর মধ্যে ৩৮ ভোট পেয়ে অখিল চন্দ্র মন্ডল সভাপতি নির্বাচিত হন। অপরপ্রার্থী অমরেন্দ্রনাথ মন্ডল পান ৩৪ ভোট। এরআগে ৮টি পদের বিপরিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন, সহ-সভাপতি অনুপ কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিবর রহমান, সহ-সম্পাদক নূর ইসলাম মোড়ল, ক্রীড়া সম্পাদক আফজাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অসিত বরণ মন্ডল, সদস্য গোলাম রসুল, প্রশান্ত গাইন ও নূর ইসলাম ঢালী। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এ্যাডঃ পরিমল চন্দ্র সরকার, আব্দুল মালেক ও শিবু প্রসাদ সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের কাজ স্থগিত; হতাশ এলাকাবাসী; পূনঃবিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::
অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির প্রস্তাবিত কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের কাজ। গত বছরের শেষের দিকে পরিকল্পনা কমিশনের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলমান কার্যক্রম স্থগিত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় হতাশ হয়েছেন এলাকাবাসী। পুনরায় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার দাবী জানিয়েছেন অবহেলিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী গত ৪৫ বছরেও জেলার অবহেলিত এ এলাকায় এখনো গড়ে ওঠেনি কৃষি ও প্রযুক্তি ভিত্তিক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অথচ অত্র এলাকা কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের জন্য অত্যান্ত সমৃদ্ধ। পাইকগাছা ও কয়রা সহ অত্র এলাকা থেকে উৎপাদিত হাজার হাজার কোটি টাকার চিংড়ি ও মৎস্য সম্পদ প্রতি বছর বিদেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। অপরদিকে এলাকার ১শ কিলোমিটারের মধ্যে এলাকায় কোন কৃষি ও প্রযুক্তি ভিত্তিক কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এলাকার দরিদ্র ছেলে মেয়েদেরকে এ ধরণের শিক্ষা গ্রহণ করতে যেতে হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনুরূপভাবে অর্থের অভাবে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে কৃষি ভিত্তিক শিক্ষা থেকে। এরই মাঝে কৃষি ভিত্তিক লেখাপড়ার স্বপ্ন দেখে উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে এমন স্বপ্ন দেখায় বর্তমান সরকারের শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ২০১০ সালের ২৩ জুলাই কয়রার এক জনসভায় পাইকগাছা উপজেলায় একটি কৃষি কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় কৃষি ভিত্তিক লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়ে এলাকার ছেলে মেয়েদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ৩ বছরের মধ্যে শুরু হয় কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের কার্যক্রম। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটি পাশ হয় একনেকে। বরাদ্দ দেয়া হয় অর্থ। উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের পাইকগাছা-কয়রা সড়কের পাশেই চকবগুড়া মৌজায় অধিগ্রহণ করা হয় ২৫একর জমি। ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয় ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রীয়া। মূল অবকাঠামোগত কাজ শুরুর আগেই গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে প্রকল্প এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে। এরই ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকা। পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের সকল কার্যক্রম।

লস্কর ইউনিয়নের সরকার দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন জানান, প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় আমরা একদিকে যেমন হতাশ হয়েছি, তেমনি কি জন্য বন্ধ হলো এ বিষয়টিও আমাদের কাছে অস্পষ্ট। কারণ প্রস্তাবিত কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্পটি সাধারণ কোন বিষয় নয়। এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির একটি প্রকল্প। আর প্রধানমন্ত্রীর কোন প্রতিশ্রুতির কাজ বন্ধ হয়ে যাক এটা কারও কাম্য নয়। প্রকল্পের কার্যক্রম পূণরায় চালু করার ব্যাপারে ইতোমধ্যে চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে এলাকাবাসী মানববন্ধন সহ অন্যান্য কর্মসূচি ও পালন করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

পৌরসভার মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, শুনেছি পরিকল্পনা কমিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দাখিলের পর প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা যখন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন তখন ছিল বর্ষা মৌসুম। মূলত অত্র উপজেলার সকল জমি হচ্ছে বিলান প্রকৃতির। এ কারণে কৃষি কলেজের মুল কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পতিত জমিতে পানি জমে ছিল। আর এটা দেখে হয়তো বা পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ জলাকার মনে করেছিল। প্রকৃত অর্থ যেখানে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে অধিগ্রহণকৃত সকল জমির ধরণ হচ্ছে বিলান। যা দলিল খতিয়ানে রেকর্ড ভূক্ত রয়েছে। এছাড়াও এলাকার কোথাও বিলান প্রকৃতি ছাড়া খুব উচু ধরণের কোন জমি নাই। এ জন্য এ ধরণের একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যথাযোগ্য জায়গায় প্রকল্প এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌরসভার পাশেই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের সাথেই প্রকল্প এলাকা নির্ধারণ করায় অত্র উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার ছেলে মেয়েরা এখানে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্পের কার্যক্রম পূণরায় শুরু করার জন্য সরকার দলীয় এ জনপ্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন।


পাইকগাছার সাম্য চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে সেরা
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::
আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় খুলনা জেলা পর্যায়ে চিত্রাংকনে সেরা হয়েছে পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাম্য সরকার। মঙ্গলবার খুলনা সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় গ্রাম্যদৃশ্য অংকন করে ৯টি উপজেলার মধ্যে জেলা পর্যায়ে সেরা নির্বাচিত হয় সাম্য সরকার। সে পাইকগাছা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সরল গ্রামের স্কুল শিক্ষক বিমল কুমার সরকার ও পুষ্প রানী সরকারের একমাত্র ছেলে। সাম্য একজন ক্ষুদে শিক্ষার্থী হলেও চিত্রাংকনে তার অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। মাতা পুষ্প রানী সরকার জানান, জন্মের পর যখন সে কলম ধরতে শিখেছে সেখান থেকে সে নিজে থেকেই অংকন করে আসছে। পরবর্তীতে শিক্ষক নিহার ভদ্রের নিকট অংকন শিক্ষা গ্রহণ করে। মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার মন্ডল জানান, সাম্য একজন  মেধাবী শিক্ষার্থী। পাশাপাশি অংকনে তার অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। তার আঁকা মুক্তিযুদ্ধ ও গ্রাম বাংলার রূপবৈচিত্র সম্বলিত অসংখ্য ছবি অফিসে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, সাম্যের আঁকা ছবি দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে তাকে পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা করি। উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স ম বাবর আলী জানান, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে সাম্যের আঁকা ছবি দেখে আমি মুগ্ধ হয় এবং তার মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কয়েকটি ছবি আমি উপজেলা পরিষদে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা পর্যায়ে সেরা হওয়ায় সাম্যকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এদিকে আগামী প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হতে পারে এ জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে সাম্য ও তার পরিবার।

 

 

 

 

 

 

 
শহীদ এমএ গফুর স্মৃতি সংসদের নবনির্বাচিত সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::
পাইকগাছার শহীদ এমএ গফুর স্মৃতি সংসদের নবনির্বাচিত সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বুধবার সকালে সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, সহ-সভাপতি সুরাইয়া বানু ডলি, সরদার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক জিএম ইকরামুল ইসলাম, তৃপ্তি রঞ্জন সেন ও আব্দুল আজিজ, শেখ আবুল কালাম আজাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এন ইসলাম সাগর সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।