পাইকগাছা সংবাদ ॥ অজানা রোগে আক্রান্ত আবুল বাজনদার : সাহায্যের আবেদন


675 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ অজানা রোগে আক্রান্ত আবুল বাজনদার : সাহায্যের আবেদন
জানুয়ারি ১৬, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) ॥
পাইকগাছায় অজানা রোগে আক্রান্ত এক সন্তানের জনক আবুল বাজনদার। তার দুই হাতের আঙ্গুলসহ তালু এবং পায়ে গাছের শেকড়ের মতো দেখতে মাংসপিন্ড গজে উঠেছে। ডাক্তারদের ধারনা এ রোগ বাংলাদেশে এই প্রথম। প্রায় ১২ বছর ধরে অসহনীয় যন্ত্রণায় প্রতি মুহূর্ত দিন কাটছে এই আবুল বাজনদারের। অভাব অনটনের মধ্যেও সে বাংলাদেশসহ ভারতের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিলেও কোন ফল পায়নি। সে পাইকগাছা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সরল গ্রামের ভ্যান চালক মানিক বাজনদারের পুত্র। হত দরিদ্র মানিক তার পুত্র এক সন্তানের জনক আবুলের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, পাইকগাছা পৌর সদরের ৫নং ওয়ার্ড সরল গ্রামের (সাবেক কাউন্সিলর আনিসুর রহমান মুক্তর বাড়ির পাশে) ছোট্ট কুড়ে ঘরে গিয়ে অজানা রোগে আক্রান্ত আবুল বাজনদার তার স্ত্রী এবং বাবা-মা’র দেখা হয়। তারা আমাদের এ প্রতিনিধিকে কাছে পেয়ে কেঁদে ওঠেন। আবুলের বাবা মানিক বাজনদার ও তার মা আমেনা বেগম জানান, ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার হয় এবং স্ত্রী আমেনা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালায়। আর্থিক সমস্যায় ছেলেকে লেখাপড়া শেখাতে না পারলেও বাপ-বেটা মিলে ভ্যান চালিয়ে সংসার চলছিল ভালোই। ২০০৫ সালে আবুলের বয়স ১৫ বছর। ওই বছর বৃষ্টির সময় চারদিকে পানিতে সয়লাব। বাড়ির ওঠানেও জলাবদ্ধতা। এভাবে পানির মধ্যে কয়েক দিন ভ্যান চালানোর এক পর্যায়ে হাতে পায়ে আঁচিলের মত গোটা দেখা দেয়। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে এখন সেটি ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওঝা-বৈদ্য, ডাক্তার-কবিরাজ করেও ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে ভয়ঙ্কর রূপ নেয় হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ। ধীরে ধীরে কর্মঠ ও সামর্থ্যবান যুবক আবুল হয়ে পড়ে জড়-অথর্ব এক মানুষ। আর্থিক অনটনে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেয় আবুল। সেখান থেকে পাইকগাছা হাসপাতালে, গ্রামের কবিরাজ-বৈদ্য দেখিয়েছেন। এতে সামান্য কমলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেনি। এর এক বছরের মধ্যেই আবুলের হাতের তালুতে ও পায়ে ধীরে ধীরে গাছের শ্বাসমূলের মত গজাতে থাকে। ক্রমান্বয়ে বিভৎস্য রূপ নেয় হাত ও পা। এতে ভীত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন এ রোগের এখানে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তাকে ভারতে বা অন্য কোন দেশে উন্নত চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বিত্তবানদের সহায়তায় তিন দফায় ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু কোন সুফল পাননি। এমন কি ডাক্তাররা আবুলের রোগ চিহ্নিত করতে পারেনি। এ ব্যাপারে খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বিধান কুমার গোস্বামী জানান, অজানা ও ভয়ঙ্কর এ ধরনের রোগ ইতিপূর্বে দেশের কোথাও দেখা যায়নি। এ ধরনের রোগীর সন্ধান পাওয়ায় সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ শেখ নিশাত আবদুল্লাহ জানান, এ ধরনের রোগী তিনি ইতিপূর্বে দেখেননি বা শোনেননি। তবে তিনি প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে আক্রান্ত আবুল বাজনদারের হাতের কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করতে পারবেন বলে আশাবাদী। তবে সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। যা আবুলের গরীব বাবা-মার পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই তারা প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবানদের নিকট আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।
##

পাইকগাছায় ৮০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি॥
পাইকগাছায় ৮০ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করেছে। থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের। ঘটনাটি উপজেলার সোলাদানা ইউপি’র বরইতলা খেয়াঘাট নামক স্থানে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টায়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়, সাতক্ষীরা জেলার গাঙগাটি গ্রামের রহমত আলী শেখের পুত্র আব্দুল হাকিম (২০) ও একই গ্রামের শওকত মীরের পুত্র হাবিব মীর (২২), সাতক্ষীরা হতে ৮০ বোতল ফেনসিডিল নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে সোলাদানার বরইতলা খেলাঘাট পার হয়ে যাচ্ছিল। খেয়াঘাটে পৌছালে পাইকগাছা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মান্নান ও এস আই সাঈদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় আনে। এ ব্যপারে থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশরাফ হোসেন জানান উক্ত রুট দিয়ে মাদক আনা নেয়ার তথ্য আগেই ছিল।
##
পাইকগাছায় গদাইপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ইউপি সদস্যের অভিযোগ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি॥
পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী আব্দুস সালাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুম্বার মাংস, কম্বল, বয়স্ক-বিধবা ভাতার কার্ড, ক্রীড়া সামগ্রিসহ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন লিটন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়,এমপিসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যানও পাল্টা অভিযোগ এনেছেন।
সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম, দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ৭নং গদাইপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী আব্দুস সালাম বাচ্চু দীর্ঘদিন ধরে সরকারী অর্থ আত্মসাৎসহ দুম্বার মাংস, কম্বল, বয়স্ক-বিধবা ভাতার কার্ড, ক্রীড়া সামগ্রি নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে। সে পরিষদের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে সমন্বয় না করে খাম-খেয়ালীভাবে এগুলো করে আসছেন। অভিযোগকারী ইউপি সদস্য জাকির হোসেন লিটন চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে একাধিক স্থানে অভিযোগ দেয়ার পর সর্বশেষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ সমস্ত অভিযোগের কোন সত্যতা নেই বলে দাবী করে ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আব্দুস সালাম বাচ্চু অভিযোগকারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত করে বলেন, সে ওয়ার্ডের যোগ্য পাওনাওয়ালাদের বঞ্চিত করে নিজস্ব পরিবারের সদস্যদের নামে সরকারী ঘর, বয়স্ক ভাতা, চাউলের কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারী সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।