পাইকগাছা সংবাদ ॥ অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার


367 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার
ডিসেম্বর ৩, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা॥
পাইকগাছায় অবাধে চলছে অতিথি পাখি শিকার। এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের এবং আমন ফসলের ক্ষেত থেকে শিকারীরা এসব অতিথি পাখি শিকার করছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিকারীদের বিরুদ্ধে দু’একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও সঠিক তদারকি না থাকায় শিকারীরা তৎপর রয়েছে পাখি শিকারে।
উল্লেখ্য, শীতের শুরুতেই শীত প্রধান দেশগুলো থেকে এলাকায় আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। এসব অতিথি পাখিদের জন্য এলাকায় নেই তেমন কোন নিরাপদ অভায়াশ্রম। ফলে শিকারীদের হাতে ধরা পড়ছে শীত প্রধান দেশগুলো থেকে আসা অতিথি পাখিরা। তবে পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীরের জাপান প্রবাসী ভাই শামীম হোসেন পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে। পৌর সদর থেকে কয়রার দিকে যাইতে শিববাটী ব্রীজ পার হয়ে অল্প কিছুদূর যাওয়ারপর নির্মাণাধীন কৃষি কলেজের বিপরীত পাশে শামীম হোসেনের ইব্রাহীম গার্ডেন নামে একটি বনায়ন রয়েছে। দিন শেষে সন্ধ্যার পর থেকে বালিহাঁস, দলকচু, খয়েরী ও দেশীয় বক সহ এলাকার হাজার হাজার পাখি এখানে এসে আশ্রয় নেয়। রাতভর এ সব পাখি নিরাপদে থাকলেও সকালে খাদ্যের সন্ধ্যানে বের হওয়ারপর ধরা পড়ছে শিকারীদের হাতে। অত্র এলাকার বয়রা, কচুবুনিয়া, বাসাখালী, বাইসারাবাদ, তেঁতুলতলা, লতা, হানিমুনকিয়া, বাহিরবুনিয়া, দেলুটি, সোলাদানা, চকবগুড়া, খড়িয়া, অকাইবাসী, ঠাকুনবাড়ী, আমিরপুর, বাইনবাড়ীয়া, কুমখালী ও পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় খাল-বিল, জলাশয় ও চিংড়ি ঘের রয়েছে। সকাল হলেই পাখিরা এসব স্থানে গিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে। এ সময় ঘেরের লোকজন সহ সাধারণ শিকারীরা পূর্ব থেকেই ওই সব স্থানে বিভিন্ন মাছ ও ফড়িং জাতীয় প্রাণীতে বিষ মিশিয়ে রাখে। কোথাও কোথাও পেতে রাখা হয় ফাঁদ। এভাবেই শিকারীরা প্রতিদিন ফাঁদ ও বিষ টোপ দিয়ে পাখি শিকার করে চলেছে। বাতিখালী বনায়ন সমিতির অধ্যাপক জিএমএম আজাহারুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর শীতের শুরুতেই শীত প্রধান দেশগুলো থেকে অসংখ্য প্রজাতির অতিথি পাখি এলাকায় আসে। এরা মার্চ-এপ্রিল মাস পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করে। তবে এদের থাকার জন্য তেমন কোন নিরাপদ আশ্রয়স্থল নাই। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি আমাদের বনায়নটি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল করার জন্য। আজাহারুল ইসলাম বলেন, পাখিরা রাতের চেয়ে দিনের বেলায় বেশি অনিরাপদে থাকে। বিশেষ করে রাতের নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে সকালে যখন খাবারের সন্ধ্যানে বেরিয়ে পড়ে তখন তারা শিকারীদের কবলে পড়েন। বেশিরভাগ শিকারীরা পেশাদারী না হওয়ায় এরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা ফাঁদ ও বিষ টোপ ব্যবহার করে পাখি শিকার করে। পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের তদারকি সহ জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবী জানান বনায়ন সমিতির এ নেতা। এ ব্যাপারে থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, থানা পুলিশ পাখি শিকার বন্ধে সবসময় তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু শিকারীকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সচেতন এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান থানা পুলিশের এ কর্মকর্তা।
###

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে খড়িয়া মিনাজ চক স্কুলের জমি ও হারির টাকা ভোগদখলের অভিযোগ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ পাইকগাছার ৯৩নং খড়িয়া মিনাজ চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক মহাদেব সরদার স্কুলের নামে প্রায় ১ বিঘা জমির হারির টাকা প্রায় ৩ দশক স্কুল ফান্ডে না দিয়ে নিজেই ভোগ দখল করে আসছে। প্রধান শিক্ষক রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় রয়েছে বলে ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি সন্তোষ কুমার সানা জানিয়েছেন। হারির টাকা আদায়ের ব্যাপারে ইতোমধ্যে ম্যানেজিং কমিটির সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক টাকা দিতে তাল বাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের ৯৩নং খড়িয়া মিনাজ চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে স্থাপিত হয়। জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি। স্কুলটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ১৯৯১ সালে এলাকার মৃত মনোতোষ সরদারের ছেলে মৃত শৈলেন্দ্র নাথ সরদার ও মৃত লোকনাথ সরদারের ছেলে মৃত গোপাল চন্দ্র সরদার ও মৃত পুলিন বিহারী সরদার প্রত্যেকে ১৭ শতক করে মোট .৫১ একর জমি স্কুলের নামে দান করে দেয়। উক্ত সম্পত্তির মধ্যে .৪১ একর জমি বর্তমান জরিপে স্কুলের নামে রেকর্ড হয়েছে। মোট জমির মধ্যে ১৩ শতক জমিতে স্কুল ভবন রয়েছে। ১০ শতক জমির উপর দিয়ে রাস্তা ও অবশিষ্ঠ ২৮ শতক জমিতে দীর্ঘদিন যাবৎ ধান ও মাছ চাষ করা হচ্ছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আছাবুর রহমান সরদার জানান, প্রধান শিক্ষক মহাদেব সরদার জমিদাতা শৈলেন্দ্র নাথের ওয়ারেশ। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর তিনি অল্প কিছুদিন অন্য স্কুলে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া শুরু থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত অত্র স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ২৭ বছর যাবৎ ২৮ শতক জমি ও হারির টাকা নিজের অনুকূলে রেখে ভোগদখল করে আসছেন। গত ২৮ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির সভায় জমির হারির টাকা আদায়ের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রধান শিক্ষক খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হারির টাকা পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তিনি কোন টাকা না দিয়ে শুধু তাল বাহানা করে আসছেন। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মহাদেব সরকার বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুলের অনুকূলে আমি হারির টাকা দেওয়ার জন্য ওয়াদা করেছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে টাকাগুলো এখনো দিতে পারিনি। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিস্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান। সহকারী শিক্ষা অফিসার ঝংকার ঢালী জানান, এ ব্যাপারে স্কুলের পক্ষ থেকে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনা যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
###

১০ বছরে ১০ হাজার পরিবার স্বাবলম্বী
পাইকগাছায় আর্থ-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প
এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা॥
পাইকগাছায় আর্থ-কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ সহ দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প। প্রকল্পের সহায়তায় গত ১০ বছরে স্বাবলম্বী হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার পরিবার। প্রকল্পের বেশিরভাগ সদস্য উৎপাদনমূখী কর্মকান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। সূত্রমতে, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে অত্র উপজেলায় একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় ১০টি ইউনিয়নে ১৮২টি সমিতি রয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা ৯ হাজার ২৩৭ জন। গত ১০ বছরে প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ শতাধিক সদস্যদের মাঝে সম্পদ হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে গাভী, হাস-মুরগী, গাছের চারা, বীজ ও ঢেউটিন। গবাদি পশু ও হাস-মুরগী পালন, মৎস্য চাষ, নার্সারী, উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর সহস্রাধিক সদস্যকে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতাধীন সদস্যদের মোট তহবিল ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ২ হাজার টাকা। যার মধ্যে জমাকৃত সঞ্চয় ৫ কোটি ৩৬ লাখ ৫৪ হাজার। সরকার কর্তৃক কল্যাণ অনুদান প্রাপ্তি ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ হাজার। ঘূর্ণায়মান তহবিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১৬৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার টাকা। প্রকল্পের এ ধরণের সার্বিক সহায়তায় উৎপাদন মূখী ও ব্যবসায়ীক কার্যক্রম করে স্বাবলম্বী হয়েছেন হাজারও পরিবার। উপকারভোগী মালথ গ্রামের শেখ আব্দুল মোতালেবের ছেলে আব্দুল গফফার জানান, ২০১১ সালে ১০ হাজার টাকা লোন নিয়ে বাড়ীতে স্লাব তৈরীর কাজ শুরু করি। এর মাধ্যমে বর্তমানে আমি একটি ফ্যাক্টরী করেছি। যেখানে অনেক শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। গদাইপুর গ্রামের মীর মারুফ হোসেনের স্ত্রী রওশানারা বেগম জানান, আমার স্বামী একজন প্রতিবন্ধি। প্রকল্পে থেকে ২০১১ সালে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মুরগী পালন শুরু করি। শুরুতেই খামারে ১শ’টি মুরগী ছিলো। এর মাধ্যমে ভালভাবে আমার সংসার চলে। বর্তমানে আমার খামারে সহস্রাধিক মুরগী রয়েছে। একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী জয়া রানী রায় জানান, প্রকল্পের সকল কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। কমপক্ষে ৪০ ও সর্বোচ্চ ৬০ জন সদস্য নিয়ে প্রকল্পের সমিতি গঠন করা হয়। সমিতির শুরু হওয়ার পর ২ বছর পর্যন্ত সরকারি ভাবে সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সরকারিভাবে প্রদান করা অর্থ ও এর সার্ভিস চার্জের সম্পূর্ণ টাকা সমিতির তহবিলে জমা হয়। ফলে ২ বছরের মধ্যে একটি সমিতির তহবিল ৯ লাখ হয়। এটা একটি ক্ষুদ্র সংগঠনের সদস্যদের স্বাবলম্বী করার জন্য অনেক বড় তহবিল। যা সচারচার অন্যকোন সংগঠনের এতবড় তহবিল হয় না। তিনি বলেন, প্রকল্পে দুই ধরণের ঋণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যার মধ্যে প্রকল্প থেকে দেওয়া ঋণের সার্ভিস চার্জ ৮%, আর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ১৫ জন সদস্যকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। যার সার্ভিস চার্জ ৫%। প্রকল্পের অর্জন ও অগ্রগতি সন্তোষ জনক হলেও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সংশ্লিষ্টদেরদাবী জনবল বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পর্যায়ে অফিস স্থাপন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিএডিএ এবং খেলাপী ঋণ আদায়ে সমিতির ম্যানেজারদের সম্মানীভাতা প্রদান করা হলে প্রকল্পের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানান, একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছে। এক টুকরো জায়গাও যাতে পতিত না থাকে এ জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার পরিবার প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। পুষ্টি চাহিদা পূরণ, আর্থ-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র বিমোচনে একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
###