পাইকগাছা সংবাদ ॥ একই পরিবারের ৩ সন্তান জন্মান্ধ


719 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ একই পরিবারের ৩ সন্তান জন্মান্ধ
এপ্রিল ১৮, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছায় একই পারিবারের জন্মান্ধ ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে আবুল হোসেন বিশ্বাসের পরিবার। সন্তানদের চিকিৎসার পিছনে প্রায় সব কিছু হারিয়ে ফেলেছে। আজ মধ্যবিত্ত এই পরিবারটি অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারী ভাতা ও অন্ধ সন্তানরা বাসযাত্রীদের নিকট থেকে ভিক্ষা করে প্রতিদিন যা পায় তা দিয়ে কোন রকমে খেয়ে পরে জীবন ধারণ করছে অসহায় পরিবারটি। পরিবার সূত্রে জানাগেছে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন কোন সন্তানের চোখ আর কোন দিন ভাল হবে না। তাই এখন আর চিকিৎসার জন্য নয়, একটু ভাল ভাবেই বেঁচে থাকার তাগিদেই সরকার সহ সমাজের স্বহৃদয়বান ব্যক্তিদের নিকট আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারটি।

সূত্রমতে, উপজেলা গদাইপুর ইউনিয়নের তোঁকিয়া গ্রামের মৃত ফুল চাঁদ আলী বিশ্বাসের ছেলে আবুল হোসেন বিশ্বাস (৭০) ও স্ত্রী জামিলা বেগম ব্যক্তিগত জীবনে ৪ সন্তানের পিতা-মাতা। কিন্তু আবুল-জামিলা দম্পত্তি এততাই হতভাগ্য যে ৪ সন্তানের মধ্যে ৩টি সন্তানই তাদের জন্মান্ধ। বড় মেয়ে শিউলি খাতুন (৪০) একমাত্রই সুস্থ্য এবং স্বাভাবিক। ছেলে জাকির হোসেন (৩৮), ফারুক হোসেন (৩৬) ও ছোট মেয়ে শেফালি খাতুন (২৫) জন্ম থেকেই অন্ধ। ছোট মেয়ে শেফালি শুধু জন্ম অন্ধই নয় মানসিক ভারসাম্যহীনও। আবুল হোসেনের দাদা খাতের আলী বিশ্বাস হাজার বিঘা সম্পতির মালিক ছিল। তবে পৈত্রিক সূত্রে ১৫ বিঘা জমির মালিক হন আবুল। ১৫ বিঘা জমির মধ্যে ইতোমধ্যে সন্তানদের চিকিৎসার পিছনে ১২ বিঘা জমি বিক্রি করে দিয়েছেন আবুল। হতভাগ্য পিতা আবুল জানান, সন্তানদের জন্মের পরপরই বিল্ডিং বাড়ির একটি অংশ বিক্রি করে চিকিৎসা শুরু করি। দেশের অনেক নামীদামি বিদেশী চক্ষুবিশেষজ্ঞদের দেখিয়েছি। কিন্তু প্রত্যেকটি ডাক্তার বলেছেন ওদের চোখ আর কখনো ভাল হবে না। অন্ধ সন্তানদের হতভাগী মা জামিলা বেগম জানান, সন্তানদের জন্য আমি নিজের চোখ দেয়ার জন্য প্রস্তুতি ছিলাম। কিন্তু ডাক্তাররা বলেছেন অন্যের চোখ দিলেও তাদের চোখ আর ভাল হওয়ার নয়। চিকিৎসার পিছনে সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে ৩ অন্ধ সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে আবুল হোসেনের পরিবার। অন্ধ জাকির ও ফারুক গদাইপুর মোড়ে পাইকগাছা-খুলনাগামী বাসের যাত্রীদের নিকট থেকে ভিক্ষা করে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা পায়। আর সরকারের সমাজসেবা দপ্তর থেকে প্রতিমাসে প্রত্যেকে ৫০০ টাকা ভাতা পায়। এতেই কোন রকমেই চলছে অন্ধ পরিবারের জীবন-জীবিকা। অন্ধ হলেও জাকির ও ফারুকের অনুভূতির শক্তি অনেক বেশি। মানুষের কণ্ঠ শুনেই বলে দিতে পারে লোকটি কে বা কি তার নাম। এমনকি যে কোন পরিমানের টাকার নোটের ঘ্রাণ দিয়েই বলতে পারে সেটা কত টাকার নোট। অন্ধ ৩ ভাই বোনের মধ্যে প্রায় ৮ বছর আগে বিয়ে করেন ফারুক হোসেন। বর্তমানে ২টি সন্তান নিয়ে পৃথক রয়েছে ফারুক দম্পত্তি। ফারুকের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, জেনে শুনেই বিয়ে করেছি, অন্ধ স্বামীর প্রতি আমার কোন ক্ষোভ কিংবা দুঃখ নেই। এক সময় রোজগারের জন্য আমি স্বামীর সাথে যেতাম। কিন্তু আরআরএফ নামে একটি সংস্থা একটি গাভী সহায়তা প্রদান করায় এখন আর আমি বাইরে যায় না। বাড়িতেই গাভীটার পরিচর্যা করি। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসের দৃষ্টি আকর্ষন করে অসহায় পরিবারটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজসেবা দপ্তর থেকে ভাতা দেয়া হয় বলে সরকারের সকল সহায়তা থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত রাখা হয়। ভিজিডি, ভিজিএফ এমনকি সদ্যগৃহিত সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির সহায়তা থেকেও আমাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ৩টি সন্তানের চোখ হয়তো আর কোন দিন ভাল হবে না কিন্তু একটু ভাল ভাবে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার তাগিদেই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ সমাজের বিত্তবানদের নিকট সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন অসহায় পরিবারটি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ-উল-মোস্তাক জানান, উপজেলায় এ ধরণের একটি পরিবার রয়েছে এটা আমার জানা ছিল না। পরিবারের ৩টি সন্তানের জন্মান্ধর কথা জেনে আমি নিজেই মর্মাহত হয়েছি। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রতিবন্ধি ভাতার মধ্যেই সিমাবদ্ধ নয়, সরকারের গৃহিত সকল সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অসহায় পরিবারটিকে অর্ন্তভূক্ত করা হবে।

 

পাইকগাছায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমে,জনজীবন বিপর্যস্থ
এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::
পাইকগাছায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে মধ্য রাত অবধি ১০/১৫ বার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করছে। এতে ভ্যাপসা গরমে চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে জন জীবন বিপর্যস্থ হতে চলেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কল-কারখানাগুলোতেও নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। বিশেষ করে চলতি চিংড়ি উৎপাদন মৌসুমে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রীতিমত হুমকির মুখে পড়েছে চিংড়ি শিল্প। এনিয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে কথা বললেও তারা গ্রাহকদের সাথে চরম অসদাচারণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অনেকে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে অদ্যবধি ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা, বেলা ১টা থেকে বিকাল ৫-৬ টা ও মাগরিবের আজানের সময় হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। বর্তমানে রাতের বেলায়ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে নিয়মিত। এতে করে স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। চলতি এইচএসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভবকদের অনেকের অভিযোগ, বিদ্যুতের এ অব্যাহত আসা-যাওয়ায় পরীক্ষার্থী সহ সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘœতা সৃষ্টি হচ্ছে। এব্যাপারে উপজেলার কাশিমনগর এলাকার ইলেকট্রিশিয়ান সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুতের এ অবিরাম আসা-যাওয়ায় অনেক সময় কাজ করতে করতে চরম মূহুর্তে বিদ্যুৎ চলে গেছে এতে তাদের চরম ভোগান্তি পেতে হয়। অনেক সময় ইলেকট্রিক সামগ্রীটি ডেড হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। কখনো কখনো প্রথম থেকেই কাজ শুরু করতে হয়। অভিাযোগের সাথে স্থানীয় হরিঢালী-কপিলমুনি  মহিলা কলেজের প্রভাষক শেখ তৌহিদুর রহমান বলেন,বিদ্যুৎ যায়না মাঝে মাঝে আসে। এব্যাপারে কপিলমুনি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুল্যাহ বাহার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চলতি এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক এম মাহমুদ আসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সংকট থেকে শুরু করে নানাবিধ সমস্যায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। সমস্যা অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কপিলমুনি অফিসের লাইন ইনচার্জ মোঃ নূর আলম এ প্রতিনিধিকে বলেন, খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইনে কাজ হওয়ায় তারা মাঝে মাঝে সাতক্ষীরা লাইন থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে পাইকগাছাবাসীকে দিচ্ছেন। লাইন চেঞ্জ করার সময়টুকতে লাইন বন্ধ থাকে। এছাড়া তাদের লাইনে বিদ্যুৎ থাকলে তিনি অফ করেননা।

এদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভ্যাপসা গরমে অনেক দিন তাদের ব্যবসা বাণিজ্য ফেলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাদ্ধ হয়ে চলে যেতে হয়। চিকিৎসা সেবা কেন্দ গুলোর অবস্থা আরো নাজুক। আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রোগীদের নিয়ে কতৃপক্ষের চরম বিপাকে পড়তে হয়। পাইকগাছা উপজেলায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার মিলে প্রায় অর্ধশত সংবাদকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নিয়মিত সংবাদ প্রদানে তাদেরও চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া ঘণ ঘণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে হিমায়িত পণ্য সামগ্রী নষ্ট ও ইলেকট্রিক সামগ্রি হচ্ছে নষ্ট হচ্ছে অহরহ।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিদ্যুৎ বিভাগের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


পাইকগাছায় সজনের বাম্পার ফলন হয়েছে
এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছায় সজনের ব্যাপক ফলন হয়েছে। সজনে চাষিরা উচ্চ মূল্য পাওয়ায় সজনের ডাল রোপন করতে উৎসাহিত হচ্ছে। বসতবাড়ীর আশে পাশে রাস্তার ধারে ক্ষেতের আইলে লাগানো সজনে গাছ যতœ ছাড়াই অবহেলার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। সজনে পুষ্টি ও ভেজষ গুনে ভরা সবজি হিসাবে খুব দামী। সজনের ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চ মুল্যে বিক্রি হওয়ায় উপজেলার কৃষকরা এখন পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে সজনে গাছ লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে।

সজনে বিশ্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি বৃক্ষ। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল, ব্যাকল ও শিকড় সবই মানুষের উপকারে আসে। সজনের পুষ্টি গুন অনেক বেশী। এ গাছের অনেক গুন থাকায় জন্যই হয় তো, এ গাছকে যাদুর গাছ বলা হয়। কাঁচা সবুজ পাতা রান্না করে, ভত্তা করে ও বড়া ভেজে খাওয়া যায়। ফল সবজির মত রান্না করে খাওয়া যায়, ফল পাকলে সে সব ফলের বীজ বাদামের মতো ভেজে খাওয়া যায়। সজনের পাতা, ফল, ফুল, বীজ, ছাল, মুলের ভেজষ গুনও আছে। তাই সজনে গাছের বিভিন্ন অংশ ভেজষ চিকিৎসায় কাজে লাগে। সজনের পাতার পুষ্টিগুন বেশী, যেভাবে খাওয়া হোক না কেন তা শরীরে পুষ্টি যোগাবে, আর ঔষধী গুন তো আছেই। সজনের পাতায় যে পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে তা অনেক পুষ্টিকর খাবারেও নেই। যেমন, ডিমের চেয়ে বেশী আমিষ, দুধের চেয়ে বেশী ক্যালশিয়াম, কমলার চেয়ে বেশী ভিটামিন সি, কলার চেয়ে বেশী ক্যালশিয়াম, গাজরের চেয়ে বেশী ভিটামিন এ আছে। তাছাড়া সজনের পাতা গুড়ো করে খাওয়ায় অন্তত ১৬টি উপকারী কথা জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম দেহে রোগ প্রতিরোধ মতা বৃদ্ধি করে, বিপাকক্রিয়া ভালো রাখে, চোখ ও মস্তিস্কের পুষ্টি যোগায় প্রভৃতি। সজনে সবজি যেমন উপদেয় এর ভেজষ গুনও অসাধারণ। মৌসুমী নানা রোগব্যাধী নিরাময় ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে জন্ডিস, বসন্ত, মূত্র সংক্রান্ত সমস্যা প্রাচীনকাল থেকে সজনে নানা ব্যবহার করে আসছে ইউনিয়ানী ও আয়ূর্বেদ চিকিৎসকরা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে প্রায় ২২ হাজার ৫ শত গাছ আছে। প্রতি বাড়ীতে কমপক্ষে ৩/৪ টি গাছ রয়েছে। এসব গাছ বাড়ীর পাশে ও ক্ষেতের আইলে লাগানো। গাছে ফলনও বেশী হয়। যতœ ছাড়াই এসব গাছ বেড়ে উঠেছে। দেশে ২টি জাত আছে সজনে ও নজনে। সজনের ফুল আসে জানুয়ারীতে আর নজনে ফুল আসে মার্চ মাস থেকে। তবে সব ফুল থেকে ফল হয় না। একটি থোকায় ১৫০টি মত ফুল হয়। ফুল ৪০ সেঃ মিঃ থেকে ৮০ সেঃ মিঃ পর্যন্ত লম্বা হয়। ফুল ফুটার ২ মাস পর ফল তোলা যায়। একটি বড় গাছে ৪’শ থেকে ৫’শ ফল ধরে। প্রতিটি ফলে ৩০-৪০ টি বীজ হয়। গাছ প্রতি সর্বোচ্চ ৩০/৭০ কেজি ফল পাওয়া যায়। মৌসুমের শুরুতে সজনের কেজি ৭০/৮০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ২৫/৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে সাধারণ ডাল কেটে ডাল রোপন করে সজনে গাছ লাগানো হয়। ভারত থেকে হাইব্রিড সজনের জাত এদেশে এসেছে। এ জাতের বীজ বপন করে লাগাতে হয়। হাইব্রিড জাতের সজনে গাছে দু’বার ফুল আসে। ফেব্র“য়ারী-মার্চ ও জুন-জুলাই মাস। গত বছর উপজেলায় ৬ হাজার ২ শত সজনের ডাল রোপন করা হয়েছে।  চলতি মৌসুমে ৪ হাজার সজনের ডাল রোপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলার প্রতি বাড়ীতে ২/৩টি করে সজনে গাছ আছে। সজনে পুষ্টিকর সবজি হিসাবে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজনে ক্ষেত গড়ে তোলার জন্য উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রতি বছর উপজেলায় সজনে গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরা সজনের উচ্চমুল্য পাওয়ায় তারা লাভবানও হচ্ছে।

পাইকগাছায় বৃক্ষমানবের পর আলু মানবের সন্ধান
এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

খুলনার পাইকগাছায় বৃক্ষমানবের পর এবার আব্দুর রাজ্জাক গাজী (৫৫) নামে এক আলু মানবের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাজ্জাকের দুই হাত পা সহ সমস্ত শরীরে আলুর মতো গুটি গুটি সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪০ বছর যাবৎ জটিল এ রোগে ভুগছেন। অনেক ডাক্তার, কবিরাজ দেখানোর পরও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় চিকিৎসার আশা ছেড়ে দিয়েছেন রাজ্জাক ও তার পরিবার।
জানাগেছে, পাইকগাছা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বান্দিকাটি গ্রামের মৃত বছির গাজীর ছেলে। আব্দুর রাজ্জাক গাজীর ১৫ বছর বয়সে শরীরে গুটি গুটি দেখা দেয়। যা স্থানীয় অনেক ডাক্তার এবং কবিরাজকে দেখানো হয়। কিন্তু এ রোগের কোন প্রতিকার হয় না বরং গুটি গুটি বস্তুগুলো ধীরে ধীরে সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং আলুর মতো আকার ধারণ করে। বর্তমানে শরীরের এমন কোন স্থান নাই যেখানে এ ধরণের গুটি নাই। এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক গাজী জানান, ১৫ বছর বয়সে আমার শরীরে গুটি গুটি দানা সৃষ্টি হয়। যা এখন শরীরের সমস্ত জায়গা জুড়ে নিয়েছে। ছোট কালে পিতা মারা যাওয়ার কারণে ভাল কোন ডাক্তার দেখাতে পারিনি এবং ওই সময় উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা সহজলভ্য ছিলনা। ফলে স্থানীয় কবিরাজের স্বরণাপর্ণ হয়। এতে রোগ নিরাময় না হয়ে আরো বাড়তে থাকে। এ রোগে গত ৪০ বছর যাবৎ ভুগছি। এখন চিকিৎসা আশা ছেড়েই দিয়েছি। এ ধরণের গুটি শরীরে কি ধরণের প্রতিক্রীয়া সৃষ্টি করে এমন প্রসঙ্গে রাজ্জাক গাজী জানান, গরমের সময় শরীরে কোন কাপড় রাখা যায় না। খালি শরীরে ভাল লাগে শীত কালে হালকা কাপড় ব্যবহার করা গেলেও খালি শরীরে রোদে থাকতে ভাল লাগে। এমন রোগ প্রসঙ্গে রোগীকে না থেকে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি মেডিকেল অফিসার মশিউর রহমান মুকুল।

উল্লেখ্য, এরআগে পাইকগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড সরল গ্রামে আবুল বাজনদার নামে এক বৃক্ষমানবের সন্ধান পাওয়া যায়।


পাইকগাছার গর্বিত পিতা-মাতা নুরুল-পারুল দম্পত্তি; ঘানি টেনেই ছেলেকে পড়াচ্ছেন মেডিকেলে
এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পিতা-মাতা মানেই সন্তানের অভিভাবক। আর প্রতিটি পিতা-মাতাই চাই সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মত মানুষ করতে। পিতা-মাতা ধনী কিংবা গরীব হোক, প্রত্যেক পিতা-মাতার উদ্দেশ্য একই। সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করা। কিন্তু সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সমাজের সব পিতা-মাতার সক্ষমতা থাকে না। বিশেষ করে দারিদ্রতার কাছে হার মানতে হয় অনেক পিতা-মাতাকে। আবার সক্ষমতা থাকলেও নানা কারণে প্রিয় সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেন না অনেক পিতা-মাতা। তবে সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে দারিদ্র কোন বাধা নয়, নিজেদের ইচ্ছা শক্তি যথেষ্ট সেটা প্রমাণ করেছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সরল গ্রামের নূরুল-পারুল দম্পত্তি। গর্বিত এ দম্পত্তি এক ছেলে ও এক মেয়ের পিতা-মাতা। চরম দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেও নুরুল দম্পত্তি ঘানি (তেল) টেনে ছেলে ইব্রাহিম গাজীকে পড়াচ্ছেন বেসরকারী একটি মেডিকেল কলেজে। আর মেয়ে রহিমা খাতুন পড়ছে স্থানীয় উচ্চ মাধ্যমিক একটি প্রতিষ্ঠানে। ছেলে ও মেয়ে উভয়ই ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করে। এরপর ছেলেটি ২০০৯ সালে গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১১ সালে পাইকগাছা কলেজ থেকে জিপিএ ৫ নিয়ে এইচএসসি পাস করে প্রথমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিসারিজ বিভাগে ভর্তি হয়। এরপর খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুযোগ হওয়ায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যহতি নিয়ে গরীব ও মেধাবী কোটায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে মেডিকেলের শেষ বর্ষের ছাত্র।
পাইকগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সরল গ্রামের মৃত জাহান আলী গাজীর ছেলে গর্বিত পিতা নূরুল হক গাজী জানান, সহায়সম্বল বলতে মাত্র দুই শতক জমির উপর বসতবাড়ী ছাড়া আর কোন কিছু নাই। দিন মজুর ও ঘানি টেনে চালাতে হয় সংসার। এরপর রয়েছে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া। ঘানি টানা হচ্ছে পিতা-মাতার পেশা। তবে পিতা-মাতা যখন বেঁচে ছিল তারা গরু দিয়েই ঘানি টানতো। কিন্তু অভাব অনটনের কারণে আমার একটি গরু কেনারও সামর্থ নাই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনই গত ১৫ বছর যাবৎ ঘানি টানার কাজ করে আসছি। বাজার থেকে সরিষা কিনে এনে প্রতি ২/৩ দিন পরপর সরিষা মাড়াই করে তেল তৈরী করি। প্রতিবার সাড়ে ৪ কেজি সরিষা মাড়াই করতে প্রায় ৪ ঘন্টা দুই মন ওজন বোঝায় দেওয়া ঘানি টানতে হয়। প্রতি কেজি সরিষায় ৩০০ মিঃলিঃ তেল হয়। যা বাড়িতেই বসে ২৫০ টাকা লিটার প্রতি বিক্রি করা হয়। এতে খরচ বাদে ১৫০ টাকা মত লাভ হয়। এ ছাড়া সময় পেলেই করা হয় দিন মজুরের কাজ। এ ভাবেই অভাব অনটনের মধ্যদিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হয়। সংসার কোন রকমে চললেও ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় ধার দেনা করে খরচ যোগাতে হয়। এমন  অভাব অনটনের মধ্যদিয়ে ছেলে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রসঙ্গে নুরুল-পারুল দম্পত্তি জানান, ইচ্ছে ছিল ছেলে মেয়েকে মানুষের মত মানুষ করবো। শত অভাব অনটনের মাঝেও আল্লাহ সেই ইচ্ছা পুরণ করছে। প্রথম দিকে সংশয় প্রকাশ করলেও এখন মনে হয় সন্তানের লেখাপড়ার জন্য দারিদ্রতা কোন বাঁধা নয়। ইচ্ছা শক্তিটাই যথেষ্ট। জীবন সংগ্রাম অনেক কষ্টের হলেও ছেলে মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে জেনে নিজেদেরকে গর্বিত পিতা-মাতা মনে হয়। সন্তানরা যখন লেখাপড়া শেষ করে দেশ জাতির ও সমাজের জন্য উপকারে আসবে তখন আমাদের সারা জীবনের ত্যাগ ও কষ্ট  সার্থক হবে। আমরা চাই, দারিদ্রতার কারণে যেনো কোন পরিবারের মেধাবী সন্তানরা ঝরে না পড়ে। এ জন্য প্রত্যেক পিতা-মাতাকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। এদিকে হতদরিদ্র নুরুল পরিবারের পাশে এসে সমাজের স্বহৃদয়বান ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়াবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা – পারুল, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পাইকগাছা শাখা, খুলনা। সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৯৪৬০।