পাইকগাছা সংবাদ ॥ একসপ্তাহে ৩ জনের আত্মহত্যা, ১০ জনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ


359 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ একসপ্তাহে ৩ জনের আত্মহত্যা, ১০ জনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ
মার্চ ২, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) :
পাইকগাছায় সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে আত্মহত্যার প্রবনতা। গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে এক মেধাবী শিক্ষার্থী সহ ৩ জন আত্মহত্যা করেছে। একই সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে কমপক্ষে ১০ নারী। প্রেম প্রত্যাখান, দাম্পত্য, পারিবারিক কলহ, পিতা মাতা ও পরিবারের প্রতি অভিমান করে আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যা প্রচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এদের অনেকেই বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে কমপক্ষে ১০ জন বিষপানের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত শনিবার ভর্তি হন রহিমা খাতুন (২৭), শুক্রবার তাপসী সরদার (১৭), ও সুপ্রিয়া (১৭), বুধবার মল্লিকা (২১), মঙ্গলবার সাথী (১৪), সোমবার রিজিয়া খাতুন (১৯) ও দেবজানী সরদার (৪৫) হাসপাতালে ভর্তি হন। এদিকে গত রবিবার পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদালয়ে এক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং গত শুক্রবার এক এনজিও কর্মী ও এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার প্রবনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় রয়েছে অভিভাবক মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক মা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবনতা বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসাবে স্মার্ট ফোনের অবধা ব্যবহারকে দায়ী করে তিনি বলেন, গত কিছুদিন আগে ৮ম শ্রেণিতে পড়–লা আমার ছেলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে, আমি তাকে মোবাইল কিনে দিতে বাধ্য হই। মোবাইল না দেওয়ার জন্য চেষ্টা করলে সে মানসি ও শারীরিকভাবে অসুস্থ্য অর্থাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং প্রায় ১ ঘন্টা পর সে স্বাভাবিক হয়। এভাবেই শিশু কিশোররা অভিভাবকদের কাছ থেকে মোবাইল নিচ্ছে এবং অবাধে ব্যবহারে ঝুকে পড়ছে। সেখানে বাঁধা দিতে গেলে ছেলে মেয়েরা অঘটন ঘটিয়ে বসছে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলের মাধমে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। আর যখনি সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে তখন ছেলে মেয়েদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচারণ লক্ষ করা যাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উচ্চ মাধ্যমিকের এক শিক্ষার্থী অনুতপ্ত হয়ে জানায় আমি যখন আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেই তখন অনেকটাই অস্বাভাবিক ছিলাম। এখন বুঝতেছি আমার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও সচেতনতার উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ বলে চিকিৎসাধীন এ শিক্ষার্থী অভিমত প্রকাশ করে।
##

পাইকগাছায় এবার ৪ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ পাইকগাছা (খুলনা) থেকে ####
পাইকগাছায় চলতি ফল মৌসুমে ৪ হাজার মেঃ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বিগত বছরের চেয়ে ৫শ মেঃ টন বেশি। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে আম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- উপজেলার হরিঢালী, কপিলমুনি, গদাইপুর, রাড়–লী, চাঁদখালী ও পৌরসভাসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ৩৩৫ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। বাগানগুলোতে গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, আমরুপালী, রুপালী , মল্লিকা , লতা সহ বিভিন্ন প্রজাতির আমের গাছ রয়েছে। উপজেলা লবন অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত থাকলে ও কয়েকটি ইউনিয়ন আম উৎপাদনের জন্য সমৃদ্ধ।প্রতিবছর উৎপাদিত আম এলাকার চাহিদা পুরন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে । বিগত বছর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপÍর ৩ হাজার ৫১৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করে। চলতি মৌসুমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর উপজেলায় ৪ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মৌসুমের শুরুতেই মুকুলে মুকুলে ভরে যায় আম গাছ। যদিও গত কয়েকদিন আগে শীলা বৃষ্টি ও ঘুর্ণিঝড় আমের মুকুলে তেমন কোন ক্ষতি করতে পারেনি। ইতোমধ্যে মুকুল থেকে গুটিতে পরিণত হয়েছে যার বর্তমান অবস্থা অনেক ভাল এবং বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবং ঠিকমত পরিচর্যা করলে মৌসুমে শেষে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান।