পাইকগাছা সংবাদ ॥ গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে ৩শ ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ী


93 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে ৩শ ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ী
এপ্রিল ৭, ২০২১ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছায় উত্তরণ অপ্রতিরোধ্য প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাড়িয়েছেন উপকারভোগী ৩শ ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ী। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে উত্তরণ অপ্রতিরোধ্য প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৭৫ নারী উপকারভোগীদের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারী মাসে অত্র উপজেলার ৩শ ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সহায়তা পাওয়ার পর উপকারভোগী নারীরা নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। উল্লেখ্য, মহামারী করোনা ও করোনাকালীন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে অন্যান্য খাতের পাশে এলাকার ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হন। এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন বিধবা অনেকেই রয়েছে স্বামী পরিত্যাক্তা, আবার অনেকের উপর রয়েছে পরিবারের অভিভাবকের দায়িত্ব। মুদি, টেইলর্স, স্যানেটারী ও হাঁস-মুরগী পালন সহ নানা আয়বৃদ্ধিমূলক কাজ করে সংসার চালাতো এসব নারীরা। আম্পান ও কোভিড-১৯ এর কারণে স্থবির হয়ে পড়ে এসব নারীদের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীক কার্যক্রম। উত্তরণ অপ্রতিরোধ্য প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবারও ঘুরে দাড়িয়েছে এলাকার ৩শ নারী ব্যবসায়ী। যাদের মধ্যে জাহানারা খাতুন অন্যতম। উপজেলার রাড়–লী ইউনিয়নের আরাজী ভবানীপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী জাহানারা’র স্বামী গত ২ বছর আগে মারা যায়। একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। স্বামী না থাকার কারণে নিজের সংসারের সকল দায়িত্ব জাহানারার। পেশায় একজন স্যানেটারী ব্যবসায়ী। বাঁকা বাজারের একটি জায়গা বছরে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে সেখানে স্যানেটারী সামগ্রী তৈরী করে বিক্রি করতো জাহানারা। আম্পান ও কোভিড-১৯ এর কারণে তার ব্যবসায়ীক এ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ প্রতিবেদককে জাহানারা জানায়, আমার কোন উপকরণ সামগ্রী কেনার সক্ষমতা ছিলনা অনেকটাই। প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেয়ে আমি সিমেন্ট, বালু, খোয়া ও রড কিনে আবারও স্যানেটারী সামগ্রী তৈরী করা শুরু করলাম। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে আমার ব্যবসায়ীক কার্যক্রম আবারও গতিশীল হয়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি সংসারও ভালই চলছে। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সরল গ্রামের মৃত সুজিত সানার স্ত্রী বাসন্তী সানা জানান, আমার সন্তানেরা কলেজে অনার্স পড়াশুনা করছে। এর মধ্যে এক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ায় আমি চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ি। বাড়ীর পাশেই একটি টি স্টল দেই। কিন্তু অর্থের অভাবে টি স্টলটি ভালভাবে পরিচালনা করতে পারছিলাম না। প্রকল্পের সহায়তা পেয়ে আমি একটি গ্যাসের চুল্লি, গ্যাস সিলিন্ডার ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দোকানে তুলি। এরপর থেকে আমার প্রতিদিন অনেক বেশি আয় হচ্ছে। একই এলাকার উত্তম শীলের স্ত্রী অঞ্জনা রানী শীল ও গোপালপুর গ্রামের আক্তারুল এর স্ত্রী স্বপ্না টেইলর্স এর কাজ করে, সোলাদানার আশালতা মুদি ব্যবসা করে ও গোপালপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী মনজুয়ারা টি-স্টল করে নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

#

জন্মনিবন্ধনে সারাদেশের মধ্যে শীর্ষে পাইকগাছা; সর্বমহলে প্রশংসিত

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

ই-নথি কার্যক্রমের পর এবার জন্মনিবন্ধনে সারাদেশের মধ্যে শীর্ষ হয়েছে পাইকগাছা। গত মার্চ মাসে ৭৬% শিশুর জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করে পাইকগাছা উপজেলা সারাদেশের মধ্যে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। এর আগে টানা কয়েক বার ই-নথি কার্যক্রমে সারাদেশের মধ্যে শীর্ষে থাকার কৃতিত্ব অর্জন করে অত্র উপজেলা। উল্লেখ্য, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার অত্র উপজেলায় যোগদান করার পর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রমকে গতিশীল এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। উদ্যোগের অংশ হিসেবে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে ওই নবজাতক ও পরিবারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিশেষ পুষ্টিবার্তা সম্বলিত পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করেন। এর ফলে এক সময় যেখানে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন কোন উৎসহ ছিল না এবং চরম অনিহা ছিল, সেখানে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। কোন ভাল উদ্যোগ যে বিফলে যায় না সেটি আবারও প্রমাণ হয়েছে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রমে সারাদেশের মধ্যে শীর্ষ স্থান অর্জন করার মধ্য দিয়ে। গত মার্চ মাসের প্রতিবেদনে অত্র উপজেলার জন্ম নিবন্ধনের এ সফলতার চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, গত মার্চ মাসে ৪৫ দিন বয়সের ২৩৯টি শিশুর জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। যার হার ৭৬ শতাংশ। এ মাসেই এটি সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ হার। ইতোমধ্যে এ অর্জনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রশংসা করেছেন উল্লেখ করে যাদের সহযোগিতা এবং উৎসাহ ও উদ্দীপনায় এ অর্জন হয়েছে তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউএনও খালিদ হোসেন।

#

পাইকগাছায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কালুয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার সানা তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য চৌমুহনী সংলগ্ন বাদুড়িয়া-গজালিয়া এলাকার নৈর নদীতে স্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর নির্দেশনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহরিয়ার হক ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এর আওতায় আব্দুল সালেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

#