পাইকগাছা সংবাদ ॥ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা


466 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা
এপ্রিল ২৮, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকালে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল আমিনের সভাপতিত্বে “গরীব দুঃখীর বিচার পাওয়ার অধিকার, বর্তমান সরকারের অঙ্গিকার” প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স ম বাবর আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট গাজী জামশেদুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প কর্মকর্তা ডাঃ প্রভাত কুমার দাশ, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডঃ জিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) অজিত কুমার সরকার ও এ্যাডঃ শফিকুল ইসলাম কচি। প্রভাষক ময়নুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, রুপান্তরের চন্দন বিন রহিম, শিক্ষার্থী হুমাইয়ারা ইসলাম, কান্তা রায়, জাহিদ হাসান শান্ত, আসিকা সুলতানা নীশি, সোয়েব আক্তার সাগর, সোহেলী আমিন শ্রাবণী ও প্রচেতা জামান নিধি। উপস্থিত ছিলেন এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ, বিলাস চন্দ্র রায় ও চিত্ত রঞ্জন মন্ডল, সাংবাদিক তৃপ্তি রঞ্জন সেন, আব্দুল মজিদ ও এন ইসলাম সাগর, শিক্ষক মোঃ রোকনুজ্জামান, ইমরুল ইসলাম, আবু তৈয়্যাব ও এ্যাডঃ মোজাফ্ফার হাসান।
##
পাইকগাছা শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়েরস্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥

28.04.16
পাইকগাছায় উৎসব মূখর পরিবেশে শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জয়শ্রী রায় জানান, ৫০৮জন ভোটারের মধ্যে ৪২৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রাপ্ত ফলা ফলে বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন ৬ষ্ঠ শ্রেণির সুমাইয়া খাতুন ও নাজিয়া ফেরদৌসি, ৭ম শ্রেণির আসপিয়া খাতুন, ৮ম শ্রেণির সাদিয়াতুল তমা, ৯ম শ্রেণির সুরাইয়া ইয়াসমীন ও ফাইমা খাতুন, ১০ শ্রেণির তামান্না জাহান ঐশি ও তাছলিমা খাতুন।
##
পাইকগাছায় পৃথক আলোচনা, মতবিনিময়, স্ব-মূল্যায়নসভা ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছায় পৃথক পৃথক ভাবে আলোচনা, মতবিনিময়, স্ব-মূল্যায়নসভা ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাড়–লী ইউনিয়নের নাথপাড়া মন্দির চত্ত্বরে হুসাইনের সভাপতিত্বে স্থানীয় সুশাসন বিষয়ক স্ব-মূল্যায়নসভা এবং লস্কর ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সার্বজনিন পূজা মন্দির চত্ত্বরে সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুশিলন শরিক প্রকল্পের মাঠ সহায়ক আজমীরা পারভীন। অনুরূপভাবে হরিঢালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে স্থানীয় সুশাসন বিষয়ক স্ব-মূল্যায়নসভা, ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা ও কপিলমুনি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শরিক প্রকল্পের মাঠ সহায়ক লিজা মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন টিম লিডার শিপক চন্দ্র দে। একই ভাবে জনগণের চাহিদা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে এ্যাডভোকেসি করার জন্য স্বেচ্ছা সেবকদের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমিরণ সরকারের সভাপতিত্বে লতায় এবং জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে গদাইপুর ইউপিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ১৮টি ওয়ার্ডের ৫০জন ওয়ার্ড প্লাট ফর্ম সদস্য অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শরিক প্রকল্পের মাঠ সহায়ক মোঃ আব্দুস সাত্তার।
##

প্রতিষ্ঠার ২৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি পাইকগাছা ঊপকারাগার

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা)ঃ
পাইকগাছা সাব-জেল নির্মাণের ২৯ বছর পার হয়ে গেলেও তা অদ্যবধি চালু হয়নি। দীর্ঘদিন পতিত ভবনটি বর্তমানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দখল নিয়ে কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করছে । ফলে পাইকগাছাসাবীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন, সাব জেল বাস্তবায়ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেছে। অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পুলিশ প্রিজন ভ্যানে দাগী আসামী সরবরাহে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সরকার নিয়মিত ভাবে আসামী পরিবহন খাতে গচ্চা দিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
নিরাপত্তা ঝুঁকি সহ বহুবিধ ভোগান্তির কথা চিন্তা করে গণদাবীর প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার ১৯৮৪ সালে পাইকগাছায় সাব জেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে উপজেলা সদরে অবস্থিত দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতের ঠিক পেছনে ২.২২ একর জমি অধিগ্রহণ করে ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে সেখানে শুরু হয় সাব জেল নির্মাণের কাজ। যা শেষ হয় নির্দ্ধারিত ১৯৮৬-৮৭ অর্থ বছরেই। নির্মাণ পরবর্তী একজন নিরাপত্তা রক্ষীও নিয়োগ দেওয়া হয় সেখানে। কিন্তু জেল খানার কার্যক্রম মুলঃত এখানেই থমকে যায়। এমনকি পরবর্তীতে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়নি সেখানে। এভাবে দীর্ঘদিন ভবনটি পড়ে থাকায় উপজেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সেখানে এতিম খানা চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। এতিমখানা হিসেবে চালুর তারিখ নির্দ্ধারণ পূর্বক গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর স্থাপনাটির দায়িত্বও বুঝে নেয়। ভবনটি এতিম খানা হিসেবে চালুর উপযোগী করতে সেসময় জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৩ লাখ টাকা ও আরো ৩ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০০৭ সালের দিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে সর্বশেষ এতিমখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু সে উদ্যোগও এক অজ্ঞাত কারণে থকমে যায়। লাল ফিতায় বন্দি হয়ে পড়ে এতিমখানা স্থাপন কার্যক্রম।
জেলা সদর থেকে ৬৬ কিলোমিটার পাইকগাছা, আর কয়রার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রীবাহীবাস ও পুলিশ প্রিজনভ্যানে আসামী আনা-নেওয়ায় দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঊপ-কারাগার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে এতিমখানা বাস্তবায়নও থমকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলাবাসী।
বর্তমানে সরকারের পট পরিবর্তনে এলাকাবাসীও সোচ্চার হচ্ছে পাইকগাছায় সাব জেল বাস্তবায়নের যৌক্তিক দাবীর প্রতি। এব্যাপারে পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক এ্যাডঃ দিপঙ্কর সাহা দিপু বলেন, যে কোন মূল্যে সাবজেল বাস্তবায়ন দেখতে চাই। প্রয়োজনে আন্দোলনে যাব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিয়ুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলা অযতেœ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশীদুজ্জামান মোড়ল বলেন, সার্বিক উপজেলার উন্নয়নে জণদূর্ভোগ লাঘবে ঊপকারাগার বাস্তবায়ন জরুরী। পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাগুলিতে সাব জেল অথবা এতিমখানা যেকোনটির বাস্তবায়ন চাই। ভবনটিতে বর্তমানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দখলে নিয়ে পরিবার পরিজন সহ কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করছেন।