পাইকগাছা সংবাদ ॥ টেন্ডার ছাড়াই শিবসা সেতুর টোল আদায় : রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার


154 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ টেন্ডার ছাড়াই শিবসা সেতুর টোল আদায় : রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার
জুলাই ৭, ২০১৯ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছায় টেন্ডার ছাড়াই শিববাটীর শিবসা সেতু থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে পুনঃটেন্ডারে সকল ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাইকগাছা ও কয়রা সড়কের শিবসা নদীর উপর নির্মিত শিবসা সেতু মামলা জনিত কারণে দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টেন্ডার বন্ধ রেখেছে। বিগত বছর গুলোতে বার্ষিক ২৮ লাখ টাকা ইজারা মূল্য ধার্য্য করে টোল আদায় করে আসছিল। পথিমধ্যে চলতি বছর কর্তৃপক্ষ ৩ বছর মেয়াদী টেন্ডার আহ্বান করলে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৪৮ লাখ টাকার মূল্য নির্ধারণ করে দরপত্র জমা দেয়। কিন্তু এতে সরকারের নির্ধারিত চাহিদা পূরণ না হওয়ায় পুনঃটেন্ডার আহ্বান করে। এদিকে একদিকে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় অপর দিকে ৩০ জুন পূর্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ নিজেরা টোল আদায় না করে পূর্বের হার অনুযায়ী ঠিকাদার মিনারুল ইসলামকে দিয়ে টোল আদায় অব্যাহত রেখেছেন। অনেকের অভিযোগ ঠিকাদারকে দিয়ে টোল আদায় করায় সরকারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে, একই সড়কে পাশ্ববর্তী কয়রার চাঁদআলী ব্রীজ বিগত বছরে নূর এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২৮ লাখ টাকায় ইজারা গ্রহণ করে। চলতি ৩ বছর মেয়াদী টেন্ডারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আনার আলী দফাদার এন্টারপ্রাইজ ১ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার দরপত্র জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ সেটা উপযুক্ত দর না হওয়ায় তা বাতিল করে দিয়ে নিজেরা টোল আদায় করছে। একই সড়কে দুটি ব্রীজের টোল দুই নিয়মে আদায় করায় জনমনে নানা ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে শিবসা সেতুর টোল আদায়কারী ঠিকাদার মিনারুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষ কাকে দিয়ে টোল আদায় করবেন এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাস জানান, জনবল সংকটের কারণে পূর্বের ইজারাদারকে দিয়ে পূর্বে ধার্যকৃত ইজারা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।

#

“নগদ এজেন্ট” থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দু’প্রতারক গ্রেপ্তার
এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছায় “নগদ এজেন্ট” থেকে হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দু’প্রতারককে পুলিশ আটক করেছে। রোববার দুপুরে পুলিশ গোপালপুর গ্রামের নজরুল গাজীর ছেলে রিপন ইসলাম (২৫) কে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক একই দিন দুপুরে গোপালপুর গ্রামের শামীমকে আটক করে। উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল রাত ৮টা ৫মিনিটে ০১৯৩৮০৫৫৭১১ থেকে ০১৮৮৫৪৫৬৬৬৪ নম্বরে রাড়ুলীর ষষ্ঠিতলা বাজারে লিছা ক্লিনিক ও নগদ এজেন্ট থেকে দু’দফায় ১ লাখ টাকা ক্যাশ আউট করে। এরপর রাত ৮টা ৫১ মিনিট ও ৫২ মিনিটের মধ্যে ৪ দফায় জাহাঙ্গীরের ব্যবসায়ী মোবাইল থেকে ০১৯১৭০৩৪৫০৬ নম্বরে ১ লাখ ১ হাজার ৮৪ টাকা চলে যায়।

#

পাইকগাছায় জিরো পয়েন্টে যাত্রী ছাউনী ও গণশৌচাগার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে যাত্রী সাধারণ
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছায় জিরো পয়েন্টে যাত্রী ছাউনী না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে পড়ছে যাত্রী সাধারণ। অপরদিকে সরকারিভাবে একটি পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হলেও এখনও সেটি ব্যবহার করার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। পাবলিক টয়লেট ও যাত্রী ছাউনি না থাকায় প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন মহিলাসহ যাত্রীসাধারন।
জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলার শিববাটী ব্রীজ চালু হওয়ার পর থেকে পৌর বাসস্ট্যান্ডের পরিবর্তে জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রী সাধারণ ওঠা-নামা করছে। পাইকগাছা-কয়রা (শিববাটী ব্রীজের সংযোগ সড়ক) ও পাইকগাছা-খুলনা সড়কটির মিলিত স্থানটি পৌর জিরো পয়েন্টে নামে পরিচয় লাভ করে। পাইকগাছা, কয়রা ও পার্শ্ববর্তী আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করছে। যাতায়াতের সময় প্রত্যেক যাত্রীকে জিরো পয়েন্টে যাত্রা বিরতি করে যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়। এ সময় দুরপাল্লার যাত্রীদের এক দিকে যেমন বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন হয়, অপরদিকে প্রয়োজন হয় বাথরুমের। বর্তমানে জিরো পয়েন্ট এলাকাটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম এলাকায় পরিণত হওয়ায় এখানে পুলিশ মোতায়েন থাকে। দীর্ঘ সময় একই স্থানে অবস্থান করার কারণে অনেক সময় তাদেরও বাথরুমের প্রয়োজন হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপুর্ণ এ স্থানে নির্মাণ করেননি কোন যাত্রী ছাউনী। যদিও একটি পাবলিক টয়লেট অতি সম্প্রতি নির্মান করা হয়েছে। তবুও সেটি এখনও পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। নেই কোন গণশৌচাগার। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় বাস-মিনিবাস সমিতির লাইন সেক্রেটারী শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, জিরো পয়েন্টর আশ-পাশ এলাকায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকারী অনেক জায়গা রয়েছে। প্রতিনিয়ত রাস্তার দু’ধার দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে রাস্তাটি হচ্ছে সংকীর্ণ। ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জিরো পয়েন্টে গণশৌচগার কিংবা পাবলিক টয়লেট ব্যবস্থা না থাকার কারনে অনেক সময় বাড়ীতে লোকজন ঢুকে পড়ে। যে কারনে তাদেরকেও অনেক সময় নানান অসুবিধায় পড়তে হয়। যাত্রী সাধারনসহ মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে জিরো পয়েন্টে যাত্রী ছাউনি ও নির্মানকৃত পাবলিক টয়লেটটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।