পাইকগাছা সংবাদ ॥ তান্ত্রিক দম্পতির বিরুদ্ধে মহিলা রোগীদের যৌণ হয়রানির অভিযোগ


494 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ তান্ত্রিক দম্পতির বিরুদ্ধে মহিলা রোগীদের যৌণ হয়রানির অভিযোগ
জুলাই ১, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা  :
বাড়িতে ব্যক্তিগত কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করে নিজেকে কালীর সাধক (তান্ত্রিক) পরিচয়ে এক দম্পতি বিভিন্ন এলাকার সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা ও চিকিৎসার নামে মহিলাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন  ও তার চিত্র মোবাইলে ধারণ করে প্রচার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে। গত ৪/৫ দিন যাবৎ একের পর এক বিভিন্ন মহিলাদের সাথে যৌন সঙ্গমের ভিডিও চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঐ দম্পতিকে পিটিয়েছে। যৌন হয়রানীর শিকার সংশ্লিষ্টদের পরিবার সহ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী (কালী মন্দির) প্রতারনার আঁখড়াটি উচ্ছেদ পূর্বক ভন্ড কথিত তান্ত্রিক দম্পতিকে গ্রেফতার করে শান্তির দাবিতে মিছিল সহ কারে গতকাল ঐ বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করেছে।

অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার পূর্ব কাশিমনগর গ্রামের মৃত রঘুদেব নাথ মন্ডলের ছেলে শংকর মন্ডল (৪৫) কয়েক বছর পূর্বে বাড়িতে ব্যক্তিগত একটি কালী মন্দির (থান) স্থাপন করেন এবং ঐ সময় তিনি প্রচার করেন কালী না কি তার  স্ত্রী বিনোতা রাণী মন্ডল (৪২) কে স্বপ্ন দেখিয়েছেন ঐ মন্দির স্থাপন করে তার সাধনা করতে। এরপর ঐ মন্দির প্রতিষ্ঠা করে স্ত্রী বিনোতা রাণী তন্ত্র সাধনা শুরু করেন। পাশাপাশি এলাকায় প্রচার করেন তারা নাকি বার পেয়েছেন। সেখানে মানুষের বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যত বাণী সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। সেই থেকে সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার ঐ আঁখড়ায় বসে বার বা কথিত চিকিৎসা কার্য। সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন মহিলা রোগীদের নানা অপকৌশলে রাজী করায় যে, সমস্যা সমাধানে মাদুলী (তাবিজ) করতে তার স্পর্ষকাতর অঙ্গের উপাদান লাগবে। রাজী থাকলে পাশের ঘরে গুরুদের আছেন তিনি ব্যবস্থা করবেন। এরপর বিপদগ্রস্থ মহিলারা ঐ ঘরে গেলে বিভিন্ন অপকৌশলে স্পর্ষকাতর অঙ্গের উপাদান নেয়ার কথা বলে যৌণ সঙ্গমে লিপ্ত হয় কথিত গুরুদেব ও তান্ত্রিক মহিলার স্বামী শংকর মন্ডল। শুধু এখানেই শেষ নয়, যৌণ সঙ্গমের ঐ চিত্র সে কৌশলে মোবাইলে ধারণ করে রাখে। যা দিয়ে পরবর্তীতে ফাঁদে পা দেয়া সর্বহারা মহিলাদের সাথে অব্যাহত ব্লাক মেইল করে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের নগদ অর্থ সহ স্বর্ণালংকার।

এলাকাবাসী জানায়, এমন অভিযোগ তারা আগেও পেয়েছে। তবে উপযুক্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সম্প্রতি অসাবধানতাবশত শংকরের মোবাইলটি হাত ছাড়া হলে বেরিয়ে পড়ে বিভিন্ন সময়ে করা তার সকল কূ-কীর্তির খবর। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন হাত বদল হয়ে ঐ সকল ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মোবাইলে। গত ৪/৫ দিনে এ নিয়ে এলাকায় রীতিমত ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গতকাল সকালে ঐ এলাকায় গেলে শ’ শ’ উৎসুক মানুষ জড়ো হয় সেখানে। খুলে বলে তাদের কূ-কীর্তির কথা। এমনকি ঐ সময় বিভিন্ন মানুষ তাদের সংগ্রহে রাখা মোবাইলের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করে। এরপর অভিযুক্ত শংকরের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী কথিত তান্ত্রিক সাধক বিনোতা রাণী বলেন, বিষয়টি সত্য তবে তার স্বামী ভবিষ্যতে আর কোন অপকর্ম করবেনা বলে পা জড়িয়ে ধরে কান্না-কাটি শুরু করে। তবে এসময় শংকর বাড়িতে ছিলনা। এলাকাবাসী জানায়, আগের রাতে শংকর বিষয়টি বুঝতে পেরে বাড়ি ছেড়ে গাঁ-ঢাকা দিয়েছে। এসময় কথা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্যা শেফালী মন্ডলের সাথে। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন তবে তা স্থানীয় ভাবে মিমাংশার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় আরেক ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলামও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে প্রাথমিক ভাবে বসাবসি করে মিমাংশার কথা বলেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ মন্ডল, নিতাই, পবিত্র মন্ডল সহ এলাকাবাসী থান (আঁখড়া)টি উচ্ছেদপূর্বক সংশ্লিষ্ট দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে নির্যাতনের শিকার অনেক গৃহবধূর পরিবার বিষয়টি অবগত হয়ে শংকরের শাস্তি দাবির পাশপাশির তাকে পেটাতে তাদের বাড়িতে জড়ো হচ্ছেন। গতকাল সকালে এমনই জনৈক ব্যক্তি শংকরের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে না পেয়ে তার কথিত তান্ত্রিক স্ত্রীকে বেধড়ক পিটিয়েছে।

এলাকাবাসী উক্ত আঁখড়াটি বন্ধ পূর্বক সংশ্লিষ্ট দোষীদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এব্যাপারে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্বাস আলী জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।
####

পাইকগাছায় আ’লীগ-বিএনপির আহবায়ক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চলছে

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা  :
খুলনার পাইকগাছায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি-আওয়ামীলীগ এবং তাদের অঙ্গ বা সহযোগী কোন সংগঠনেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। সংগঠনগুলোর প্রতিটি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে কয়েক বছর আগে। আবার কোনটি চলছে ১ যুগেরও বেশী সময় ধরে। নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় ক্ষমতাসীন আ’লীগ বছর তিনেক পূর্বে আহবায়ক কমিটি গঠন করলেও সম্মেলন করতে পারেনি আজও। এমন অবস্থায় সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব প্রত্যাশী থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতার পাশাপাশি বিরাজ করছে চরম হতাশা।
তথ্যানুসন্ধানে দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সর্বশেষ উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ২০০৩ সালের ১০ ডিসেম্বর। ঐ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা শেখ বেলাল উদ্দিন বিলু সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক পৌর মেয়র এস এম মাহাবুর রহমান। তবে ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল দলের সাধারনক সম্পাদক এস এম মাহাবুবর রহমান ও ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারী সভাপতি শেখ বেলাল উদ্দিন বিলু মৃত্যু বরণ করেন। তারপর দীর্ঘদিন যাবৎ ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে সংগঠন পরিচালনায় নানাবিধ সংকটে সর্বশেষ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে গাজী মোহাম্মদ আলীকে আহবায়ক ও মোঃ রশিদুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। তারপর প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দলটি কোন সম্মেলন করতে পারেনি।

এদিকে উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর। তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলটির মধ্যে দু’টি গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানে হামলা-মামলার মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে জেলা কমিটি থেকে ঐ কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর আগে ২০০৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আলহাজ্জ্ব এ্যাডঃ জি.এ সবুরকে সভাপতি ও অধ্যাপক সেখ রুহুল কুদ্দুসকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ডাঃ আব্দুল মজিদকে আহবায়ক করে উপজেলা বিএনপির একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।

অন্যদিকে উপজেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারী। ঐ সম্মেলনে এস এম সামছুর রহমানকে সভাপতি ও কাজল কান্তি বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠিত হয়েছিল। সেই থেকে অদ্যবধি প্রায় এক যুগ পর্যন্ত উক্ত কমিটি বহাল রয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১০ সালের ৪ জুন। সম্মেলনে সভাপতি হিসাবে শেখ আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে এস এম আমিনুর রহমান লিটু নির্বাচিত হন।

উপজেলা যুবদলের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে। সম্মেলনে আমজাদ হোসেন গোলদারকে সভাপতি ও শেখ বেনজীর আহম্মেদ লাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিন হয়েছিলেন। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় যুবদলের সম্মেলনের মেয়াদকাল উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও অদ্যবধি কোন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। ইতোঃমধ্যে ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ উপজেলা যুবদল সভাপতি আমজাদ হোসেন গোলদার মৃত্যুবরণ করেছেন।

এছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে আহবায়ক কমিটি দিয়ে। ছাত্রদলের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর। সম্মেলনে সভাপতি পদে আসলাম পারভেজ ও সাধারন সম্পাদক পদে মোঃ আবুল হোসেন নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ৮ বছর পর ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যাতে এস এম ইমদাদুল হককে আহবায়ক করে ঐ কমিটি গঠিত হয়েছিল। গত প্রায় ৬ বছর অতিবাহিত হতে চললেও অদ্যবধি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি ছাত্রদল। এতে করে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূলের নেতৃত্ব প্রত্যাশি থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সকলের দাবি অচিরেই রাজনৈতিক স্ব-স্ব সংগঠন ও তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে পদক্ষেপ নিক। তা না হলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে।