পাইকগাছা সংবাদ ॥ থানায় চড়–ই পাখির ঈদ উৎসব


440 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ থানায় চড়–ই পাখির ঈদ উৎসব
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা :
পাইকগাছা থানায় ঈদ উৎসবে মেতে উঠেছে পুরাতন অতিথি চড়–ইপাখি। শতশত চড়–ই পাখি কিচিমিচি শব্দে মুখরিত করে তুলেছে গোটা থানা এলাকা। পরিবারের সাথে ঈদ করতে না পারা পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে ঈদ উৎসব করতেই দীর্ঘদিন পর পুরাতন এ অতিথিদের আগমন ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পাইকগাছা থানা ভবনের মাঝ বরাবর কয়েকটি নিম, কাঠাল, আম, পেয়ারা ও লেবু গাছ রয়েছে। গাছগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে শতশত চড়–ই পাখি দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবস্থান নেয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় বেশ কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে চড়ুইপাখিগুলো উধাও হয়ে যায়। গত কয়েক মাসে চড়–ই পাখিগুলোর আগমন না ঘটায় মনে হচ্ছিল পাখিগুলো চির বিদায় নিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে গতকাল ঈদের দিনে শতশত চড়–ই পাখি হাজির হয় পুরাতন আবাসস্থল থানা ভবনের গাছগুলোতে। প্রতিবারের ন্যায় এবারের ঈদেও থানায় কর্মরত শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, উৎসব বঞ্চিত এসকল পুলিশ কর্মকর্তাদের ঈদের আনন্দ দিতেই পুরাতন অতিথি চড়–ইপাখির আগমন ঘটেছে। বর্তমানে পাখিগুলোর কিচিমিচি গানে খুশি এনে দিয়েছে ঈদের উৎসব বঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তাদের। এ ব্যাপারে থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর কবির জানান, গত কয়েকদিন আগে আমি এ থানায় যোগদান করেছি। তবে শুনেছি চড়–ইপাখিগুলো থানার অনেক দিনের পুরানো অতিথি। বিড়ালের অত্যাচারে পাখিগুলো চলে গেলেও দীর্ঘদিনও আর ফিরে আসেনি। ঈদের দিন শতশত চড়–ই পাখি থানা ভবনের গাছগুলোতে অবস্থান নিয়ে কিচিমিচি গানে আবারো থানাকে মুখরিত করে তুলেছে। দেখে মনে হচ্ছে, চড়–ইপাখিগুলো ঈদ উৎসবে মেতে উঠেছে।
###
পাইকগাছায় শতাধিক পুলিশের ঈদের আনন্দ ম্লান
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
প্রতিবারের ন্যায় এবারও পাইকগাছা থানা পুলিশে কর্মরত শতাধিক কর্মকর্তা পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারছেন না। পরিবারের সবাইকে ঈদের খুশি বঞ্চিত করে এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, শুক্রবার দেশব্যাপী উদযাপিত হয় মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। এ উপলক্ষে সরকারিভাবে ৩ দিনের ছুটিও ঘোষণা করা হয়। সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় পৌছে গেছেন। লক্ষ্য একটাই ঈদের খুশি পরিবারের সকলের সাথে ভাগাভাগি করা। এদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছাড়াও নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা থেকে শুরু করে কোমলমতি শিশুসহ সব শ্রেণী মানুষের মধ্যে ঈদ খুশির বার্তা নিয়ে আসলেও ব্যতিক্রম রয়েছে থানা পুলিশে কর্মরতরা। সূত্র মতে, পাইকগাছার মুল থানাসহ কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ি, রাড়–লী, হরিঢালী, বিগরদানা ও বাইনবাড়িয়া ক্যাম্পে কর্মরত শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তার ঈদে ছুটি হয়নি। প্রতিবারের ন্যায় এবারও তারা পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারেনি। ঈদে এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত ছিলেন এ সকল কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবারও কর্মক্ষেত্রে তৎপর দেখা যায় ওসি মোঃ আশরাফ হোসেনকে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন. পুলিশে যারা চাকরী করেন তাদেরও মন চাই পরিবারের সাথে ঈদ করতে। কিন্তু দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার গুরু দ্বায়ভার বর্তায় পুলিশের উপর। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ওসি (তদন্ত) আলমগীর কবির, সেকেন্ড অফিসার জহুরুল ইসলামসহ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এলাকার নিরাপত্তা কাজে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, এলাকার মানুষ যদি শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পেরেছে এটাও পুলিশের জন্য অনেক বড় পাওয়া।
##

পাইকগাছায় যাতায়াতের পথ নিয়ে প্রতিবেশী দু’পক্ষের বিরোধ চরমে
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছায় যাতায়াতের পথ নিয়ে প্রতিবেশী দু’পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ প্রবেশ পথে পায়খানা তৈরী করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, আরেকপক্ষ যাতায়াতের সুবিধার্থে তৈরীকৃত পায়খানা ভাংচুর করছে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের চরমলই মৌজার বর্তমান ১০৫ খতিয়ানে ১৪৪, ১৪৫ দাগের একাংশে একই এলাকার জহর আলী মোড়ল ও তার ছেলেরা এবং আরেক অংশে মৃত শহর আলী মোড়লের দু’ছেলে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে। জহর আলী মোড়লের ৪ ছেলের মধ্যে লিয়াকত ও জয়নাল যে অংশে বসবাস করছে তাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ হচ্ছে শহর আলীর ছেলে গফুর ও আব্দুল মোড়লের জায়গার পাশ দিয়ে। লিয়াকত আলী মোড়ল জানান, পৈত্রিক সূত্রে আমরা তপশীলভূক্ত সম্পত্তির উপর দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছি। যে পথ দিয়ে দীর্ঘদিন যাতায়াত করে থাকি তার এক পাশে গফুর ও আব্দুলের জায়গা। অপর পাশে বিশাল আকারের পুকুর। প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে গফুর ও আব্দুল প্রায় ৪/৫ বছর ধরে আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। লিয়াকতের স্ত্রী রুনা আক্তার জানান, যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সরু জায়গায় দিয়ে যেখানে মানুষের চলাচল কষ্টসাধ্য সেখানে প্রতিপক্ষরা ইচ্ছা করেই বাথরুম তৈরী করে যাতায়াতের পথ বন্ধ করাসহ বাড়ীর পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতি করছে। গত বুধবার চলাচলের স্বার্থে তৈরীকৃত পায়খানার ঘেরা-বেড়া অপসারণ করা হয় বলে লিয়াকত আলী জানান। এদিকে লিয়াকত গংরা ঘটনার দিন বসত বাড়ী ভাংচুর করে বলে গফুর ও আব্দুল গংরা জানান। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছে। যা ভবিষ্যতে বিরূপ আকার ধারণ করতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। এ ব্যাপারে দু’পক্ষের সমঝোতা ছাড়া বিরোধ নিস্পত্তি সম্ভব নয় বলে সরেজমিন গেলে এলাকাবাসীরা জানান।
###

পাইকগাছায় চাল চুরির অপপ্রচার ছড়িয়ে এলাকাবাসীকে বিভ্রান্তির চেষ্টা
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে চাল চুরির অপপ্রচার ছড়িয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আব্দুস সালাম বাচ্চু। এ ধরণের কোন ঘটনার প্রাথমিকভাবে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কবিরউদ্দীন। উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বুধবার দিনভোর গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফ-এর চাল বিতরণ করা হয়। এ দিন রাত ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে চাল চুরির ঘটনা ঘটেছে এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্রই হৈচৈ পড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয় চাল চুরি ও আটকের ঘটনা। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কবিরউদ্দীন জানান, গতকাল রাতে এ ধরণের একটি খবর শুনতে পায়। তবে চাল জব্দ কিংবা আটকের কোন ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ট্যাগ অফিসার মোঃ রেজাউল করিমকে সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চুরি ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আব্দুস সালাম বাচ্চু জানান, ঘটনার দিন রাত ৮টা পর্যন্ত এলাকাবাসীর মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। এ দিন অনেকেই যারা আসতে পারেননি তাদের চালগুলো পরিষদের গুদাম ঘরে মজুদ রেখে পরিষদ ত্যাগ করে বাসায় যায়। পরে রাত ১০টার দিকে চাল চুরি সংক্রান্ত অপপ্রচার শুনতে পাই। প্রকৃত অর্থে, আমার সুনাম, সুখ্যাতি বিনষ্ট করতে এলাকার একটি কুচক্রি মহল এ ধরণের অপ্রচার ছড়িয়ে এলাকাবাসীকে বিভ্রান্ত করছে।