পাইকগাছা সংবাদ ॥ নতুন করে ৪ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত । পানি নিস্কাশন ও ত্রাণ সহায়তায় দাবি


331 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ নতুন  করে ৪ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত । পানি নিস্কাশন ও ত্রাণ সহায়তায় দাবি
জুলাই ২৭, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা :
খুলনার পাইকগাছায় ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় গত ২ দিনে নতুুন করে হরিঢালী, কপিলমুনি ও গদাইপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর আগে মাসব্যাপী টানা ভারী বর্ষণে চাঁদখালী ইউনিয়নের ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়। এদিকে গত ৩ দিনে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পলি অপসারণের চাঁদখালী স্লুইস গেট পানি সরবরাহের জন্য সচল করা গেলেও জলাবদ্ধ এলাকার পানি নিস্কাশন ও ত্রাণ সহায়তায় প্রশাসন কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ করেছে।
জানা গেছে, গত সোম ও মঙ্গলবার ভারী বর্ষণে নতুন করে কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি বাজার, হরিঢালী ইউনিয়নের রহিমপুর, নোয়াকাটি, লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ও গদাইপুর ইউনিয়নের মালোপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে ওড়াবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর আগে এক মাসের ভারী বর্ষণে চাঁদখালী ইউনিয়নের ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও জলাবদ্ধ এলাকার পানি নিস্কাশন ও ত্রাণ সহায়তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে। তবে গত ৩ দিনে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চাঁদখালী স্লুইস গেটের বহিরাংশের চরভরাটি পলি অপসারণ করে পানি নিস্কাশনের পথ কিছুটা সুগম করা হলেও স্থায়ী সমাধানে কপোতাক্ষ নদ খননে  কোন বিকল্প নেই বলে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুনছুর আলী গাজী জানান। টানা ভারী বর্ষণে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে ইতোমধ্যে প্রায় সহস্রাধিক ঘর-বাড়ি ধ্বসে পড়েছে এবং ২ হাজার চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি বলেন।
##

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু, পাইকগাছায় বছরে ১৫ হাজার মে: টন চিংড়ি, কাঁকড়া ও মাছ উৎপাদন :
পাইকগাছা প্রতিনিধি :
মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ খুলনার পাইকগাছা থেকে প্রতি বছর উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার মেঃ টন চিংড়ি, কাঁকড়া ও মাছ। চলতি বছর ৬ হাজার মেঃটন চিংড়ির উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বছর শেষে ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে। এদিকে আজ (মঙ্গলবার) থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচী।
সূত্র মতে, এক সময়ের কৃষি অধ্যুষিত এ উপজেলায় ৮০’র দশকে শুরু হয় চিংড়ি চাষ। বর্তমানে উপজেলায় ২ হাজার হেক্টরের ১০টি নদী, ৪৫৯.১৩ হেক্টরের ৪১৮টি বদ্ধ নদী, ২ হাজার ১৪০ হেক্টরের ১৩২টি খাল, ১৭ হাজার ৭৫ হেক্টরের ৩ হাজার ৯৪৯টি চিংড়ি ঘের, ৫৭.২২ হেক্টরের ৬ হাজার ১৮টি পুকুর রয়েছে। এসব উৎস থেকে প্রতি বছর ৫ হাজার ৮৯০ মেঃটন চিংড়ি, ৪ হাজার ৫০ মেঃ টন কাঁকড়া ও ৪ হাজার ৭২২ মেঃ টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। এলাকার চাহিদা পূরণ করে প্রতি বছর প্রায় ২শ মেঃ টন মাছ উদ্বৃত্ত উৎপাদন হয়। চলতি বছর মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে চিংড়ির উৎপাদন লক্ষমাত্রা ৬ হাজার মেঃটন, হেক্টর প্রতি ৬শ কেজি এবং আধা নিবিড় পদ্ধতি হেক্টর প্রতি ৪৫০ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে। বছর শেষে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.এম.এম রাসেল জানান। সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ, চাষীদের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধি ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি জানান। অবকাঠামো খাতে চাষীরা বিনিয়োগ করলে উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে বলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার সরকার জানান। এদিকে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিভাগ আয়োজিত সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদ্যোগে র‌্যালী, আলোচনা সভা, পোনা অবমুক্তকরণ, ভেজাল বিরোধী অভিযান, প্রামান্যচিত্র পরিদর্শন, মৎস্য আইন বাস্তবায়ন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও পুরস্কার বিতরণীসহ ২৮ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।
##

পাইকগাছায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছা  প্রতিনিধি ॥
পাইকগাছা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরী সভা মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডঃ স.ম. বাবর আলী, বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু, অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল, ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস, আলহাজ্ব মুনছুর আলী গাজী, কাজী আব্দুস সালাম বাচ্চু। উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শরিফুল ইসলাম, কৃষি অফিসার এ,এইচ,এম, জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.এম.এম রাসেল, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সাংবাদিক আব্দুল আজিজ, তৃপ্তি রঞ্জন সেন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের নুুরুল হক। সভায় জলাবদ্ধ এলাকার সকল খালের অবৈধ নেটপাটা অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্থদের প্রাথমিক ত্রাণ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
##

পাইকগাছায় বিরোধপূর্ণ মিনহাজ নদীর ইজারা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা :
পাইকগাছা  প্রতিনিধি :
পাইকগাছায় মিনহাজ নদীর জলমহলের প্রায় ২শ বিঘা আয়তনের মৎস্য ঘেরের ইজারা ও দখল নিয়ে বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে আবারো সহিংসতার আশংকা করা হচ্ছে। খাস আদায়ে ইজারা গ্রহিতা অভিযোগ করেছেন গতকাল অবৈধ দখলদার কেরামত গংরা জোরপূর্বকভাবে জলমহল থেকে মাছ লুটপাট করেছে। স্থানীয় থানা পুলিশ ও প্রশাসন দু’পক্ষের বিরোধ নিরসনে ঐক্যমতে পৌছাতে না পারায় বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য পর্যন্ত গড়িয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, মিনহাজ নদীর জলমহলের ইজারা গ্রহিতা পাতড়াবুনিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি কেরামত আলী গংরা শর্ত ভঙ্গ করলে ইজারা বাতিল হয় এবং গজালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সালাম গাজী, ইউপি সদস্য আব্বাস আলী ও  এনামুল গংরা খাস আদায়ে ইজারা গ্রহণ করে। জলমহলের মাছ ধরা নিয়ে ঈদের আগে ও পরে সংঘর্ষ দেখা দেয়। দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলায় জড়িয়ে পড়ে। এদিকে গতকল খাস আদায় গ্রহিতা আব্বাস মোল্লা ও এনামুল আলী গংরা অভিযোগ করেছে, প্রতিপক্ষ কেরামত গং, হাসান, মান্নান, আনারুল, হেকমত গাইন গতকাল জলমহল থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরেছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াছিন গাইন বলেছেন, এনামুলের বুদ্ধি, রবের টাকা ও সোহরাব গাইনদের পেশী শক্তিতে আমাদের দখলীয় জলমহল জোরপূর্বক দখল ও মাছ ধরার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।