পাইকগাছা সংবাদ ॥ লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন


125 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখার আহবান

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছা পৌরসভা অভ্যন্তরে লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। চলতি মৌসুম থেকে পৌরসভার কোথাও লবণ পানি তোলা যাবে না মর্মে ঘের মালিক সহ এলাকাবাসিকে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রশাসন। লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির ও মাসিক সাধারণ সভায় কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এ নির্দেশনা অমান্য করে কেউ লবণ পানি তুললে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে এটি বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখার আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

সূত্রমতে জেলার অত্র উপজেলায় ৮০’র দশকে লবন পানির চিংড়ী চাষ শুরু হয়। শুরুতেই অধিক লাভজনক হওয়ায় উপজেলার সবখানে চিংড়ী চাষ ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি উপজেলা সদরের প্রায় সব জায়গায়ও লবণ পানির চিংড়ী চাষ বিস্তার লাভ করে। এরপর ১৯৯৭ সালে উপজেলা পরিষদের আংশিক এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠন করা হয়। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর পৌর পরিষদের সভায় পৌর এলাকায় লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও সিদ্ধান্তটি আজ অবদি বাস্তবায়ন হয়নি। বছরের পর বছর লবণ পানি তুলে চিংড়ী চাষ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। হুমকির মুখে পড়ে পরিবেশ। অবশেষে আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবং এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর পৌর অভ্যন্তরে লবণ পানি উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নেন। এবছর থেকে পৌর এলাকায় কোন প্রকার লবণ পানি তোলা যাবেনা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এমন নির্দেশনার বাস্তবায়ন দেখতে চাই পৌরবাসি। মূলত শিববাটি গেট, লোনা পানি গবেষণা কেন্দ্রের পাশের কাজীর বিলের স্লুইচ গেট ও পৌরসভা এবং গদাইপুর ইউনিয়নের সিমান্তবর্তী বয়রা স্লুইচ গেট ব্যবহার করে পৌর এলাকায় লবণ পানি উত্তোলন করা হয়। এসব গেট গুলোর উপর কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে আমরা অনেক আগে ভাগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি পৌর এলাকার কোথাও লবণ পানি তোলা যাবে না। আমরা ঘের মালিকদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি তাদেরকে অবহিত করেছি। এছাড়া এলাকায় মাইকিং করে সাধারন মানুষকে অবগত করা হয়েছে। লবন পানি উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ যদি লবন পানি তোলার চেষ্টা করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

#

পাইকগাছায় নারী সহ দু’জনের আত্মহত্যা

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছায় নারী সহ দুজন আত্মহত্যা করেছে। এঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চককাওয়ালী গ্রামের খয়বার হোসেনের স্ত্রী রহিমা বেগম(৪৭) বৃহস্পতিবার সন্ধায় নিজ বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। একই দিন রাত ১১টার দিকে লস্কর ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ সরদারের ছেলে হাসান সরদার(৩৫) বসত ঘরে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে। এঘটনায় থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামালা হয়েছে বলে ওসি এজাজ শফি জানিয়েছেন।

#

ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে আগ্রহী কৃষকদের কাছ থেকে আবেদন আহবান

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে আগ্রহী পাইকগাছার কৃষকদের কাছ থেকে আবেদন আহবান করেছেন কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান ২০২০-২১ অর্থবছরে বোরো মৌসুমে সমম্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা সরকার প্রদত্ত ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ভূট্রা মাড়াই যন্ত্র, বেড প্লান্টার, বীজ বপন যন্ত্র, পটেটো চিপস মেকার ও পাওয়ার স্প্রেয়ার কিনতে পারবেন। প্রতিটি কৃষি যন্ত্রপাতিতে কৃষকরা ৫০% ভর্তুকি পাবেন। আগ্রহী কৃষকদের আগামী ১মার্চ এর মধ্যে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

#

দাফন করার আগেই মৃত উপকারভোগীর বয়স্ক ভাতার কার্ড নিয়ে নিলেন চেয়ারম্যান

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছার এক উপকার ভোগীর মৃত্যুর পর দাফন করার আগেই ইউপি চেয়ারম্যান তার বয়স্কভাতার কার্ডটি নিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মৃতের পরিবার। চেয়ারম্যানের এমন ব্যবহারে মর্মাহত হয়েছেন শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসি। উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া মিনহাজচক গ্রামের সদ্য প্রয়াত নওয়াব আলী সরদারের ছেলে আলতাপ হোসেন জানান গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমার পিতা নওয়াব আলী সরদার মৃত্যু বরণ করে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পিতার দাফন সম্পন্ন করা হয়। আমার পিতা ছিলেন একজন বয়স্ক ভাতা উপকারভোগী। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমরা দাফনের কাজ করছিলাম। দাফন করার আগেই চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন আমাদের বাড়িতে এসে আমার মায়ের কাছ থেকে পিতার বয়স্ক ভাতার কার্ডটি নিয়ে যায়। চেয়ারম্যানের এমন ব্যবহারে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি। চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলে দাফন সম্পন্ন করার পর অথবা একদিন পরেও কার্ডটি নিতে পারতেন। এব্যাপারে মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করা হলেও চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। যার ফলে চেয়ারম্যানের কোন মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

#